সাম্প্রদায়িকতা বলে কিছু নাই

ফ্যাসিবাদ যুদ্ধ ছাড়া টিকতে পারে না। আওয়ামীলীগের সবচেয়ে বড় সংকট হলো তার শক্ত কোন শত্রু নাই, যার সাথে কনটিনিউ যুদ্ধ করে টিকে থাকতে পারে। তাই বলে তো যুদ্ধের জোসে যে ক্ষমতাকে আকড়ে ধরা হয়েছে তা ছেড়ে দেয়া যায় না অবৈধ হলেও, তাই যুদ্ধের আয়োজনের কিছু প্রতিভা ব্যায় করতে হয় সব সময়। পটেনশিয়াল এনিমি বা শত্রু আবিস্কার করতে হয় থেকে থেকে ( দেখুন- ইনভেনটিংদ্যা এনিমি- উমবাতো‍র্ একো, ভারসো বুকস-২০১৩)

এর ফলে যে জিনিস নাই তাও বিরাট সমস্যা আকারে হাজির করতে হয়। তেমনই একটি জিনিস হলো ‘সাম্প্রদায়িক’ ঝগড়া। বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতা বলে কিছু নাই। বিভিন্ন কমিউনিটির মধ্যে যে সংঘাত তা ক্ষমতার রাজনীতির ভিতর থেকেই প্রযোজিত হয়। সমাজের মৌল কাঠামোর মধ্যে সাম্প্রদায়িকতা নাই। থাকলে ৮০০ বছরের মুসলমান শাসনের পরে এখনও মন্দিরের ঘন্টাধ্বনি শুনতে পাওয়া যেত না ভারতবর্ষে। এটা ইতিহাসের আলাপ। এখন করব না।

তো ব্রাক্ষণবাড়িয়াতে যে ঘটনা ঘটেছে তা মূলত মিডিয়ার সৃষ্টি। কিভাবে? কাবা শরীফের উপর শিবের মূর্তি বসিয়ে মুসলমানদের রিদয়ে আঘাত দিলে ইসলাম অবমাননা করলে, সেটা সাম্প্রদায়িকতা না। খালি মন্দির ভাংলেই সাম্প্রদায়িকতা হয় -এইটাই মিডিয়ার হিসাব। ফলে পুরো ঘটনার জন্য এই অবৈধ ক্ষমতা কাঠামো যেমন দায়ি, তেমনি দায়ি এইসব তথাকথিত মিডিয়াও।

অন্যদিকে যেখানে সব রকম বিরুধী শক্তি মাঠ থেকে হাওয়া যেখানে মন্দিরের টাকা লুটপাটের কাজে কারা জড়িত তা পাবলিক জানেন। এই পাগলামি ভরা ক্ষমতার হাত ছাড়া আর কারো পক্ষে প্রকাশ্যে কোন মাস্তানি করা সম্ভব না। মন্দিরে হামলা তো দূরের কথা। সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে আমাদের বুদ্ধিজিবিরা যে সব লজিক দেয় আমি তাকে বলি, ‘সন্ত্রাসবাদি যুক্তিবিদ্যা’।

৭১ এর পরে কারা হিন্দু সম্পত্তি দখল করেছে? কারা ধর্ষণকে একটি রাজনৈতিক অস্ত্র বানিয়েছে? আশা করি নাম বলতে হবে না। আবারও বলি, সাম্প্রদায়িকতা বলতে কিছু নাই। এটা ক্ষমতার প্রয়োজনে হাজির হয়। এই এখন যেমন, সব সাংবাদিক, ফকিন্নি লেখক, অশিক্ষিত অধ্যাপক সবাই হিন্দু দরদী হয়ে উঠছে। ধিক্কারে ফেটে পড়ছে। প্রথম আলু, জাফর ষ্যাড় ও আনিসুল হক টাইপের ফটকা লেখকরা কান্নাকাটি করে বুক ভাসাবে আর এই সুযোগে সরকারের ইন্টারভেনশনের একটা সুযোগ তৈরি হবে। সরকার আরও একবার অক্ষম বিরোধিদের উপর ঝাপিয়ে পড়বে আর এইসব কুলাঙ্গার লেখক বুদ্ধিজিবিরা সরকারকে বাহবা দিবে। এতে লাভ দুই দিক থেকে, এই তথাকথিত সেকুলার ফিল্ডে সরকারের গ্রহণযোগ্যতা একটু ঝালাই হবে, বন্ধু রাষ্ট্রও আরও আশ্বস্ত হবে।

রাষ্ট্রে সাম্প্রদায়িকতা থাকে না। থাকে বিভিন্ন কমিউনিটির সহ-অবস্থান। আমাদের রাষ্ট্র নাই। আছে একদলীয় ক্ষমতার পাগলা দৌড়। বাংলার মুসলমান সাম্প্রদায়িক না। পলিটিকস মানে কোশ্চেন অব কমিউনিটি। কমিউনিটি তৈরি করাই কাজ। বরং আমারা এখনও কমিউনিটি আকারে গড়ে উঠতে পারি নাই -এটাই আমাদের সংকট। ( দেখুন, চার্লস টেইলর, ইমাজিন কমিউনিটি, রাউটলেজ) সাম্প্রদায়িকতা একটা ভেক টার্ম। ননপলিটিক্যাল ফাপর। আমাদের পলিটিক্যাল কমিউনিটি আকারে তৈরি হওয়ার অন্তরায়। আশা করি অল্পতে ইঙ্গিতটা দেয়া গেল।

রেজাউল করিম রনি
সম্পাদক
জবান

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।