র‌্যাগিং হচ্ছে ক্রাইম, এর বিরুদ্ধে দাঁড়ান

শিল্পী জলি: জান্নাতুন নাঈম প্রীতি নামে একটি মেয়ে জাবিতে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ তুলে Womenchapter এ লিখেছেন– বিষয়টি দুঃখজনক এবং অমানবিক। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই র‍্যাগিংয়ের বিষয়টি ঘটে থাকে এবং বহু শিক্ষার্থীই বিষয়টিকে ঠিকমত হ্যান্ডেল করতে না পেরে কখনও কখনও পড়ালেখা ছেড়ে দেয়, কেউবা হতাশায় আক্রান্ত হয়, কেউ কেউ আবার আত্মহত্যাও করে বসে।

বেশীরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষই শুধুমাত্র সুনাম ক্ষুন্ন হবার ভয়ে বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে না নিয়ে এড়িয়ে যাবার পায়তারা করে– যেটার দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল ক্ষতিকর। সমস্যা, সেটা পরিবারের বা প্রতিষ্ঠানের যেখানেরই হোক না কেন এড়িয়ে যাওয়া কোন সমাধান নয়। বরং সেটা তাৎক্ষণিকভাবে চিন্হিতকরন এবং যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরী।

বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ছায়ায় থেকে অনেক শিক্ষার্থীই আলগা মাতবরী করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নাজেহাল করে। বিশেষ করে যেই দল যখন ক্ষমতায় থাকে সেই দলের ছেলেপেলেদেরই হম্বিতম্বি বেশী দেখা যায়। এটা ঐ নিদৃষ্ট দল এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দুু’টোকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই র‍্যাগিংসহ যেকোনো অন্যায় আচরণকেই কোন রাজনৈতিক দল বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কখনও প্রশ্রয় দেয়া উচিত নয়–কেননা মানুষের জীবনে নিরাপওার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছুই নয়।

প্রীতি, স্বপ্না এবং এশার নাম উল্লেখপূর্বক র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ তুলেছেন। এই অভিযোগের মাধ্যমে তিনি তার শিক্ষাজীবনের ক্যারিয়ারকে ঝুঁকিপূর্ণ এবং বিপদগ্রস্ত করেছেন। এই সময়ে অনেকেই তার পাশে থাকবে না , অনেকেই এড়িয়ে চলবে, কেউ কেউ ভয়ভীতি দেখাবে, কেউবা কটূ কথা বলবে… নানা ধরনের চাপই তাকে সইতে হবে, যেটা সামাল দিয়ে চলা ভালোই কঠিন। তারপরও সে যেহেতু অন্যায়ের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে তাকে সাপোর্ট না করার কোন কারণ নেই। কেননা অভিযোগ ভাসাভাসা হলেও তার তদন্ত হওয়া জরুরী–

কথায় আছে, জলে বাস করে কুমীরের সাথে যুদ্ধ চলে না, বিষয়টি অনেকটা তেমনই। সব হালকা অভিযোগ মানেই বিষয় / ঘটনা হালকা নয়। দেশের ঘরে ঘরে অনেক দম্পতিই আছেন যারা ভয়াবহ অভিযোগও সামান্য একটু অসন্তুষ্টির মাধ্যমে প্রকাশ করে থাকেন। এমনকি কেউ কেউ আবার একটুও অভিযোগ করেন না বরং পুরোটাই হজম করে নেন– এর মানে এই নয় যে দেশে ঘরের বঁধূদের উপর কোন অত্যাচার নেই । বিশ্ববিদ্যালয়ে ন্যুনতম র‍্যাগিং থাকলেও সেটাকে মেনে নেবার কোন কারন নেই কেননা ওটা সভ্যতার পরিপন্থী।

আমাদের সময়ে জাবিতে তেমন র‍্যাগিং দেখিনি। শুধু হাতে গোনা কিছু ফটকা ছেলে ছিল যারা পড়ালেখা তেমন করতো না , করতো রাজনীতি–তাও পকেট গরম রাখতে। তাদের আমরা তেমন পাত্তা দিতাম না, বরং তাদের সামনে ডাবল সাহস নিয়ে চলতাম। র‍্যাগিংকেও ডাবল সাহস নিয়ে সবাই মিলে রুখতে হবে।

ক্ষণিকের দুষ্টুমিতে যারা র‍্যাগিং করে তারা হয়ত ভাবে বিষয়টি শুধুই মজার। যেই বিষয় কোন মানুষকে কষ্ট দেয়, অপদস্হ করে, যেই বিষয়টি মানুষের আত্মবিশ্বাস ভেঙ্গে দেয়, সেটা শুধুই ভীতিকর–মোটেও মজার বিষয় নয় বরং অমানবিকতা । হালকা বা গাড় যে কোন মানের র‍্যাগিংকেই প্রশ্রয় দেয়া উচিত নয় কেননা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কোন ফাজলামোর জায়গা নয়।

র‍্যাগিংয়ের দায় ব্যক্তির নিজের। তাই প্রতিষ্ঠানের সুণাম ক্ষুন্ন হবার কোন কারন নেই যদি না কোন প্রতিষ্ঠান তাকে শক্ত হাতে দমন না করে বিড়ালের মত মিউ মিউ করে থাকে।

মনে পড়ে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময় কিবরিয়াভাই এবং নজরুলভাই ( দুই ফার্ষ্ট ক্লাস ফার্ষ্ট ) আমার ভর্তির ফরম ফিলআপ করে দিয়েছিলেন। বুলবুল নামে এক সিনিয়র ভাই পরিসংখ্যান বিষয়টিতে দুই/তিন ঘন্টার একটি লেকচার দিয়েছিলেন, যেনো আমার ভর্তি পরীক্ষায় সফলতা আসে। তাঁরা সবাই-ই তখন আমার সম্পূর্ণ অপরিচিত ছিলেন অথচ তাদের সেদিনের সেই উপকার চিরদিনের জন্যে আমার মনে দাগ কেটে গিয়েছে।

মানুষের ভালো ব্যবহার মানুষকে ভরসা দেয়।

womenchapter

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।