আমরা যারা খাবার অপচয় ক‌রি

জার্মানির হামবুর্গ শহরের একটি রেস্তোরাঁ। দু’জন লোক ঢুকলেন খাওয়ার জন্য। বেশ ক্ষিদে লেগেছিল বলে অর্ডার দিলেন অনেক খাবারের। কিন্তু খেতে গিয়ে দেখা যায়, এত কিছু পেটে ধরবে না। তাই এক-তৃতীয়াংশ খাবার তারা ছুঁয়েও দেখেননি। তবে সব খাবারের বিল মিটিয়ে দুই খদ্দের বের হওয়ার উপক্রম করতেই এক বয়স্ক মহিলা বাগড়া দিলেন। এই দুই ব্যক্তিকে বললেন, ‘তোমরা এত খাবার নষ্ট করেছ কেন? এটা তো ঠিক করোনি।’

ওই দু’জনের একজন জবাবে বললেন, টাকা দিয়ে কিনেছি। খাবার আমরা খাবো, না নষ্ট করব, এটা আমাদের ব্যাপার। তোমার কী বলার থাকতে পারে?’ তখনো তারা বোঝেননি, কত ধানে কত চাল। ওই মহিলা সাথে সাথে একজনকে ফোন করলেন। একটু পরই এক আদমি এসে হাজির। গায়ে সামাজিক নিরাপত্তা সংস্থার ইউনিফর্ম। লোকটা সব জেনে খাবার নষ্ট করা দুই ক্রেতার জরিমানা করলেন ৫০ ইউরো। তারপর রাগী কণ্ঠে ওদের বললেন, ‘খাবারটা তোমাদের টাকায় কেনা হলেও এটা সমাজের একটা সম্পদ। দুনিয়ায় বহু মানুষ সম্পদের অভাবে ভুগছে। এ অবস্থায় কোনো সম্পদ নষ্ট করার অধিকার নেই তোমাদের।’

এই দুই ক্রেতার একজনের নাম রতন। ইনি ভারতের টাটা পরিবারের ধনকুবের। তিনি সে দিন জরিমানা দিতে দ্বিধা করেননি। কারণ, ঘটনাটা তার জন্য শিক্ষণীয় ছিল। নিজেই টুইটারে সে ঘটনা জানিয়েছিলেন।

Mahbub Ul Alam

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।