হিন্দুদের বাড়িতে হামলা প্রসঙ্গে – কাউসার আলম

হিন্দুদের বাড়িতে বাড়িতে হামলা নিয়া দুয়েকটা কথা না বললেই নয়। দুদিন ধরে দেখতেছি আর হাসতেছি, যে ছেলেটা বৃষ্টি আসলেও জীবনে কোনোদিন মসজিদের বারান্দায়ও যায় না, সে-ও ফেসবুকে পোস্ট দিচ্ছে, “ছি ছি! ইসলাম এসব হামলা সমর্থন করে না! আমরা ইসলাম কম বুঝি?”
আমি এসব মাথামোটার কাছে প্রশ্ন করতে চাই, ইসলাম এ ধরনের মূর্তি ভাঙ্গা সমর্থন করে কী করে না, সেইটা পরের কথা। আগে বলেন, ইসলামের কারণেই যে এই হামলা হইছে, সেই ব্যাপারে আপনে নিশ্চিত হইলেন কেমনে?
.
আরেক শ্রেণী আছে, আরো বড় জ্ঞানী জ্ঞানী ভাব নিয়া প্রগতিশীল সাইজ্যা পোস্ট করছে, “ফটোশপ করে কাবার উপরে শিবের ছবি দিলেই আপনার কাবার ইট কি খসে পড়ছে? এতেই অসম্মান হয়ে যায় কাবার?” না, অসম্মান হয় না!
এসব প্রগতিবাদীদের বলছি, “বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান” কে কিংবা শেখ হাসিনারে দুয়েকটা গালি দিলেই কি তাদের অসম্মান হয়ে যায়?
অথচ বঙ্গবন্ধুর নামের আগে জাতির জনক না বলায় ইমাম সাহেবের চাকরি চলে যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারে নিয়া কার্টুন আঁকলে গ্রেফতার হইতে হয়, লীগের হাতে মাইর খাইতে হয়। তখন তো আপনারাই হাততালি দিছেন, “বঙ্গবন্ধুরে নিয়া কটুক্তি? এবার মজা বুঝো।”
.
৬৪ জেলার মধ্যে ৪৮ জেলায়ই যখন হিন্দু পুলিশ প্রধান নিয়োগ দেওয়া হয়, তখন কি করে বলি, হিন্দুরা সংখ্যালঘু? বরং মুসলিমরাই সংখ্যালঘু। হিন্দুদের পক্ষে কথা বলার জন্যে এই দেশের সব মিডিয়া আছে। মুসলমানদের পক্ষে বলার কেউ আছে কী?
হিন্দুরা একটা থাপ্পড় খাইলেও তার বিরুদ্ধে কথা বলার জন্যে জাফর ইকবাল থেইকা শুরু কইরা ইরেশ জাকের, ফারুকীরা আছে, আর ফেসবুকের একচোখা দজ্জালরা তো আছেই। কিন্তু ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা! কবি এখানে নীরব! গ্রামের পর গ্রাম পুলিশি হামলার শিকার। বন্দুকযুদ্ধ নাম দিয়া মানুষজনরে মাইরা ধানক্ষেতে লাশ ফেইলা দেয়, তখন ফেসবুকের মহাবীররা মুখে টিস্যু পেপার গুঁজে ক্রিকেট খেলা দেখেন!
.
অবশ্যই কোনোভাবেই আমি হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা সাপোর্ট করি না। এই দেশ হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ সবার, এই পৃথিবীটাও সবার। কিন্তু আপনারা যেইভাবে দেখাইতেছেন, ব্যাপারটা এইরকম না। ভারতের চেয়ে এই দেশের হিন্দুরা অনেক ভালো আছে। চাকরির ক্ষেত্রে সরকারের প্রথম পছন্দ হিন্দু, তারপর গোপালগঞ্জ, তারপর ছাত্রলীগ! এরপরও যদি বলেন, হিন্দুরা নির্যাতিত, তাইলে বলবো, আপনার আন্ডারওয়ার দেখা যাচ্ছে, লুঙ্গি পরেন।।
.
শুধু বলবো, এইসব ঘটনা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। এর পেছনে উত্তেজিত মুসলিম থেইকা শুরু কইরা, ভারতীয় র কিংবা সরকার, সবারই হাত থাকতে পারে! কোনোকিছুই রাজনীতির বাইরে না!
বিভিন্ন জায়গায় মন্দিরে হামলা করতে গিয়া, বিভিন্ন সময় কমপক্ষে ৫ জন হিন্দু যুবক আটক হইছে। এর ব্যাখ্যা কেমনে দিবেন?
সুতরাং, মন্তব্য করবার আগে ১০ বার ভাইবা নেন। নতুবা চুপ থাকেন, যেইভাবে মুখে কুলুপ দিয়া চুপ কইরা থাকেন ঝিনাইদহ সাতক্ষীরার ব্যাপারে!

ফেসবুক থেকে প্রাপ্ত

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।