তরবারির বদলে মুসল্লা

এম. রিদওয়ান হৃদয়ঃ

আমাদের বিপর্যয় তো শুরু!
যেদিন থেকে আমরা তরবারি বিক্রি করে মুসল্লা আর তাসবিহ কিনে নিয়েছিলাম,সেদিন থেকেই আমাদের অধঃপতন শুরু হয়েছিল। আমরা ছিলাম শাসক,আজ আমরা শাসক তো নয়ই; বরং শোষিত। পৃথিবীতে অনেক মানুষ আছে,যারা শোষিত হলেও এদের চোখের অশ্রুর মূল্য আছে; আমাদের তা ও নেই। আমাদের চোখ বেয়ে বেয়ে অশ্রুর বদলে রক্ত পড়ছে তবুও আমরাই অপরাধী। আমাদের পায়ের তলায় মাটি নেই; মাথার উপরে আল্লাহ তা’য়ালার রহমতের ছায়া নেই। প্রভূর রহমের সুশীতল বাতাস আমাদের আত্মাকে প্রশান্ত করেনা। আমাদের মা-বোনদের করুণ চাহনি আমাদের রক্তকে টগবগিয়ে তোলার পরিবর্তে সুপ্তির নীরবতা দান করে। ধর্ষিতার বাঁচার নিমিত্তে আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত চিৎকার আমাদের অন্তরকে প্রকম্পিত করেনা। আমরা ধর্ষিতাকে বাঁচাবার পরিবর্তে আল্লাহর কাছে দোয়া করে ধর্ষকের বিচার চাই।

জিহাদের ময়দান আমাদের ঘৃণ্য বস্তুতে পরিণত হয়েছে; তাই তো বেড়েছে সন্ত্রাস। মৃত্যু আমাদের চরম অবহেলার বস্তু হওয়ার কথা ছিল,আজ আমরা মৃত্যুকে বাউ করি; শুধুমাত্র বেঁচে থাকার জন্য। আমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে মৃত্যু ছিল পরম সৌভাগ্যের বস্তু; রবের সাক্ষাত লাভের উপকরণ। আজ আমাদের কাছে তা খোদাদ্রোহীতার অবসান। আমরা মৃত্যুকে আমাদের পায়ের তলায় পিষ্ট করতে পারিনা; তাই তো মৃত্য প্রতিনিয়ত আমাদের পিষ্ট করে চলেছে। আমরা কাপুরুষ, কাপুরুষ বেঁচে থাকেনা, জীবনে সে বহুবার মরে।

আমরা ওমর,খালিদ, হামযা,আলীর উত্তরসূরি ; কিন্তু আমাদের শরীর তাদের রক্ত বহন করেনা,আমাদের শরীর আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই’র রক্ত প্রবাহিত করছে। আমরা আমাদের শত্রুদের কৃপা নিয়ে বাঁচতে গিয়ে ভুলে যাই আমাদের রবের অসন্তুষ্টির কথা। আজ পৃথিবীর অতি ক্ষুদ্র প্রাণী আমাদের ভয় দেখায়,যাদেরকে আমরা পদতলে পিষ্ট করার কথা,তাদের ভয়ে আমরা আত্মগোপন করতে হয়। আমাদের চোখের অশ্রুগুলো আজ আর রবের ভয়ে ঝরেনা, সেগুলো ঝরে শুধুমাত্র শত্রুর ভয়ে। আর কত কি বলব?

এখানেই শেষ নয়, আমরা ঐক্যের পরিবর্তে বিভক্তিকে করেছি সম্মানের অবলম্বন। কাঁদা ছুড়াছুঁড়ি আমাদের প্রতিদিনকার রুটিন ওয়ার্ক। অপর মুসলিম ভাইকে ‘কাফের’ ফতওয়া দিতে আমরা পটু; যদি সে আমার মতের বৈপরীত্য লালন করে। আমরা আমাদের বিপরীতার্থক মতকে দমন করতে প্রয়োজনে আমাদের শত্রুদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করি।হোকনা তাতে ইসলামের ক্ষতি, আমার বিপরীত মতের মুসলিম তবুও ক্ষতিগ্রস্ত হোক।

আমরা জিহাদ আর সন্ত্রাসের পার্থক্য বুঝিনা, তাই তো সন্ত্রাসকে জিহাদ আর জিহাদকে সন্ত্রাসের মোড়কে আবৃত করছি প্রতিনিয়ত। আমরা ভুলে যাই কারা আমাদের শত্রু আর কারা বন্ধু।  আমাদের কাছে রবের সন্তুষ্টি অসন্তুষ্টি আজ নগণ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে…. তাই তো আজ আমাদের এ দশা!
আমাদের আর্তনাদে কেউ এগিয়ে আসেনা কেন, এ আক্ষেপে আমরা বুকে থাপ্পড় দেই,কিন্তু আমরা কেন অপর মুসলিমের আর্তনাদে পঙ্গপালের মত ছুটে যাইনা সে প্রশ্ন আমাদের বড়ই অতৃপ্তির বিষয়।

এজন্যই আজ আমাদের চোখের সামনে আমাদের কলিজার টুকরো গুলোকে অপদস্থ হতে দেখা যাচ্ছে প্রতিদিন। আমাদের প্রিয়নবী (সাঃ) এর ব্যঙ্গ,কা’বার উপর শিবের মূর্তি, শুকরের ছবি এসব সয়ে যেতে হচ্ছে।খুবই হাস্যকর,  আমরা এসবের বিচার চাই!
আমরা বিচার চাই তাদের কাছেই যারা এসব করছে, করাচ্ছে সুকৌশলে….  হাসির পাত্র হয়ে গেছি আমরা!!
আজ এ পরিণতি আমাদের কর্মের ফসল ছাড়া আর কি?
আরও ভয়ঙ্কর বিপর্যয় অপেক্ষমাণ আমাদের জন্য……….

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।