হিলারীর প্রেসিডেন্সি পরাজয় এবং একজন বাংলাদেশী তরুণের পরাজয়

নূর মোহাম্মদ আবু তাহের 

গনতন্ত্র, নির্বাচন, সহনশীলতা ও উদারতা, ফলাফল মেনে নেওয়া- কথাগুলো নির্বাচনকালীন সময়ে খুব বেশী উচ্চারিত হয়। গত পরশুর আমেরিকার নির্বাচন, ট্র্যাম্পের বিজয়- হিলারীর পরাজয় দেখছিলাম আর মনের কোণে কিছু ভাবনারা এসে উঁকি মারছিল। ফেসবুকে ও টুইটারে খুব খেয়াল করে আমেরিকার নির্বাচন ফলো করছিলাম। খুব ছোটবেলা থেকেই বাবাকে নির্বাচনের প্রক্রিয়াতে দেখেছি এবং মাত্র ২৮ বছর বয়সে নিজের ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সৌভাগ্য হয়েছিল। উন্নয়নশীল দেশ বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার কাঠামোর একেবারে প্রান্তিক পর্যায়ে নির্বাচন করার ফলশ্রুতিতে কিছু অভিজ্ঞতা সঞ্চিত হয়েছে। আপনা্রা অনেকেই স্ব-স্ব জায়গাতে অনেক বড় মানুষ হলেও হয়তো বা নির্বাচনী মাঠে প্রার্থী হয়ে আমাদের সমাজব্যবস্থা, নির্বাচন কাঠামো, গনমানুষের দর্শন এবং বাংলাদেশী ব্র্যান্ডের ডেমোক্রেসীর চরিত্র দেখার সুযোগ হয়নি। আমার ব্যক্তিজীবন থেকে আমেরিকান ব্র্যান্ড ডেমোক্রেসি এবং বাংলাদেশী ব্র্যান্ড ডেমোক্রসির মাত্র একটি বেদনাদায়ক চরিত্র উল্লেখ করছি।
এক,
আমেরিকার নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী হিলারী ক্লিনটনের পরাজয়ের পরের ভাষনের শুরুর কয়েকটি লাইনে চোখ বুলিয়ে নিন।
“Thank you, my friends. Thank you. Thank you. Thank you so very much for being here. I love you all. Last night I congratulated Donald Trump and offered to work with him on behalf of our country. I hope that he will be a successful president for all Americans. This is not the outcome we wanted or we worked so hard for, and I’m sorry we did not win this election for the values we share and the vision we hold for our country.”

দুই,
ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের চরম জুলুম-নির্যাতন, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও প্রতিপক্ষ দমনের উৎসবের মাঝেও যৌবনের সেরা সময়ে ছাত্রসংগঠনে দায়িত্বপালনরত অবস্থায় প্রার্থী হয়ে ঝুঁকি নিয়েছিলাম। আমার স্পষ্ট মনে আছে- যেদিন ঢাকা ছেড়ে এলাকায় ক্যাম্পেইন করতে বাসে উঠেছিলাম, তখন ঢাকা শহরকে দেখছিলাম আর অশ্রুনয়নে ভাবছিলাম- আর বুঝি কখনো এই চেনা শহরে ফেরা হবে না। ধরে নিয়েছিলাম- নির্বাচনকালীন সময়েই হয়তো কারাগারের ভেতর খন্ডকালীন বসতি অথবা ক্রসফায়ারের নাটকে কবরে স্থায়ী বসতি হতে পারে। আল্লাহ্‌ যতটুকু বুদ্ধি ও প্রজ্ঞা দিয়েছেন, তা ব্যবহার করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছি, ক্যাম্পেইন করেছি। আমি যখন ক্যাম্পেইন শুরু করি- প্রতিদ্বন্দ্বী সকল প্রার্থী-সমর্থকরা শ্লেষের হাসি হাসতো, ‘পিচ্চি চেয়ারম্যান’ বলে টিপ্পনী কাটতো, রাঘব-বোয়ালদের তুলনায় আমাকে ‘ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চা’ বলতো। হজম করেছি। নীরবে আমি আমার লক্ষ্যপানে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে আমাদের স্বপ্ন, পরিকল্পনা ও এজেন্ডার কথা ঘরে-ঘরে, অলিতে-গলিতে, হাটে-বাজারে, প্রতিটি জনপদে বলার চেষ্টা করেছি। প্রতিপক্ষের ছিল অর্থ, প্রভাব, ক্ষমতা। আমাদের ছিল বিশ্বাস, পরিশ্রম আর নির্লোভ কর্মীবাহিনী। আল্লাহ্‌ তায়ালার অপার রহমতে ইউনিয়নের জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছিল। মাত্র ১৬ ভোটে পরাজিত হয়ে দ্বিতীয় হয়েছি। যিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন, তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক দু’বারের চেয়ারম্যান। যিনি তৃতীয় হয়েছেন, তিনি সাবেক দু’বারের চেয়ারম্যান। যিনি চতুর্থ হয়েছেন তিনি সাবেক একবারের চেয়ারম্যান। যিনি পঞ্চম হয়েছেন তিনি এলাকার শিল্পপতি। আল্লাহ্‌ আমার মত নস্যি একটা তরুণকে সর্বোচ্চ সম্মান দিয়েছেন। রাঘব-বোয়ালদের মোকাবেলায় ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চা হয়ে ওনাদের ভীত কাঁপিয়ে দিয়েছিলাম।

তিন,
এতক্ষনে নিশ্চয় ভাবছেন- আমেরিকার প্রেসিডেন্সি নির্বাচনে হিলারীর পরাজয়ের সাথে আমার মত ছোট মানুষের ইউপি নির্বাচনের পরাজয়ের আলোচনার হেতু কি?
হ্যাঁ, হেতু আছে। গত মে মাস থেকে বুকে বিশাল কষ্টের পাহাড় চেপে নিয়ে পথ চলছি। ডেমোক্রেসি ও ইলেকশন প্রসেস নিয়ে যারা অবিরত কথা বলছেন, তাদের সর্বপ্রথম বাংলাদেশী সমাজব্যবস্থার চিরায়ত দর্শন এবং গনমানুষের চিন্তা-ভাবনার ব্যাপারে অধ্যয়ন করা দরকার।
ট্র্যাম্প তার ক্যাম্পেইনে কি জঘন্য ভাষায়ই না হিলারীকে আক্রমন করলো। হিলারী অযোগ্য, টেরোরিজমের গডমাদার, শারীরিকভাবে আনফিট, যুদ্ধবাজ, মহিলা প্রার্থী বলা সহ অপমানজনক অনেক কথা বললো। এমনকি পরাজিত হলে ফলাফল মানবেন না বলে ট্র্যাম্প সরাসরি জানিয়ে দিয়েছিলেন। আমেরিকার সকল মিডিয়া হিলারী পক্ষে ভূমিকা রাখলো। বিশ্বের প্রায় সকল মানুষ (রাশিয়া ছাড়া) বাস্তবিক কারনেই হিলারীর শিবিরে অবস্থান নিল। নির্বাচন হলো। ফলাফল হলো। সবাইকে অবাক করে দিয়ে হিলারী হেরে গেলেন। জিতলেন এক উন্মাদ মানুষ। এখন এই ভদ্র মহিলার মানসিক অবস্থার কথা একবার চিন্তা করুন তো? কেমন হওয়া উচিৎ রিএকশ্যন? শুনুন হিলারীর মুখেই- Last night I congratulated Donald Trump and offered to work with him on behalf of our country. I hope that he will be a successful president for all Americans.
এটিই ডেমোক্রেসির essence of Beauty. এটি গনতন্ত্র। এটিই নির্বাচন। সহনশীলতা ও উদারতা একেই বলে। এটিই আমেরিকান ব্র্যান্ড ডেমোক্রেসি। আপনাদের অনেকের মনে আছে ব্যারাক ওবামার কাছে পরাজিত হয়ে সিনেটর জন ম্যাককেইন বলেছিল- From today, Obama is my president.

চার,
২৮ শে মে, ২০১৬। সন্ধ্যাবেলা। আমার ইউনিয়নের নির্বাচনের ফলাফল ঘোষনা হলো। আমি কৌশলে প্রত্যেক কেন্দ্রের এজেন্টের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষনা করার আগেই ফলাফল জেনে নেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলাম। ৪.০০ টার সময় ভোট গ্রহণ বন্ধ হয়েছিল। সাড়ে পাঁচটার মধ্যেই আমি সোর্স থেকে ফলাফল পেয়ে বুঝে গেলাম ১৭ ভোট শর্ট (পরে অবশ্য ১৬ ভোট গ্যাপ হয়েছিল)। আমি আমার নির্বাচনী মূল অফিস থেকে উঠে গিয়ে বাজারের মসজিদে গেলাম। সেজাদায় পড়ে আল্লাহ্‌র কাছে জানতে চাইলাম- এখন আমার কি করা উচিৎ? তিনটি কাজ করতে পারতাম- বিনাবাক্যে ফলাফল মেনে নেওয়া, ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে মামলা করে পুনরায় ভোট গণনা্র ব্যবস্থা করা, কেন্দ্রে দাঙ্গা-হাঙ্গামা লাগিয়ে ভোটের ফলাফল স্থগিত করা। সিজদা থেকে উঠে বিনাবাক্যে ফলাফল মেনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। দেশের বিরাজমান পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়াবাড়ি, আদালতের স্বেচ্ছাচারিতা সহ সার্বিক দিক বিবেচনা করে হঠকারিতার দিকে যাওয়াকে ভাল মনে করিনি। বিশেষ করে আমার রাজনৈতিক দল আমাকে বরাবরই সহনশীল ও উদার রাজনীতির শিক্ষা দিয়েছে।
একটু পরেই আনুষ্ঠানিক ফলাফল হলো। যথারীতি ১৬ ভোট শর্ট। কর্মী-সমর্থকরা ইমোশোনাল হয়ে যাচ্ছিল। কে যেন কানের কাছে এসে বললো- ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে উপজেলা নির্বাচন অফিস ঘেরাও কর্মসূচী ঘোষনা করে দাও। আমি একটা উঁচু চেয়ারের উপর উঠে ঠান্ডা মাথায় বক্তব্য দিলাম। ফলাফল মেনে নিলাম। কর্মীদের আবেগতাড়িত না হয়ে ফলাফল মেনে নেওয়ার অনুরোধ করলাম। নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান সাহেবকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সালাম পৌঁছানোর ব্যবস্থা করলাম। কর্মীরা মনঃক্ষুণ্ণ হলেও মেনে নিল। সবাইকে বাড়ি পাঠিয়ে দিলাম।
রাত ১২.০০ টার দিকে নতুন চেয়ারম্যান আমাকে ফোন দিলেন। আমি শুভেচ্ছা জানালাম আর ওনি আমাকে শান্তনা দিলেন। পরের দিন আমার বাসায় আসার অনুমতি চাইছিলেন। ওনার সাথে আমার বয়সের ব্যবধান কমপক্ষে ৫০ বছর। আমার বাবার সরাসরি শিক্ষক। বিনয়ের সাথে ওনাকে ধন্যবাদ দিয়ে বললাম- ‘বাসায় স্বাগতম স্যার। তবে আমিই আপনাকে সকালে শুভেচ্ছা জানাতে আসবো ইনশাআল্লাহ্‌।’ পরের দিন ২৯ শে মে সকালে ওনার নির্বাচনী অফিসে গিয়ে শুভেচ্ছা জানালাম। ওনি আমাকে জড়িয়ে ধরলেন, কপালে চুমো দিলেন, দোয়া করে দিলেন। ওনার গলার মালা খুলে আমাকে পড়িয়ে দিলেন। উপস্থিত সকলের উদ্দ্যেশ্যে আমাকে কথা বলার সুযোগ দিলেন। আমি সবাইকে ধন্যবাদ দিয়ে পরাজয় স্বীকার করে নব নির্বাচিত চেয়ারম্যানকে বরণ করে নিয়েছিলাম। দ্যাটস অল।

পাঁচ,
এরপর আমি এক নিষ্ঠুর পৃথিবীর মুখোমুখি হলাম। এ এক অন্য রকমের পৃথিবী। আমাকে পছন্দ করতো না এমন লোক তো অবশ্যই ছিল। নির্বাচনের মাঠে তারা নাস্তানাবুদ হয়ে গিয়েছিল। বাঘা-বাঘা তিন চেয়ারম্যানকে টপকিয়ে আমি আশাতীত ফলাফল করেছিলাম। যারা আমাকে ভোট দেয়নি, তারাও ১৬ ভোটের পরাজয় দেখে ব্যথিত হয়েছিল। অনেকে আগামী নির্বাচনে আমাকে বিপুল ভোটে জয়লাভের স্বপ্ন দেখিয়ে শান্তনা দিচ্ছিলেন। এলাকাজুড়ে আমাকে নিয়ে এক তুমুল আলোচনা শুরু হয়ে গেল। ঠিক এমন সময়েই শত্রুরা আগামীদিনের রাজনীতিতে আমাকে বিব্রত করার রসদ তৈরী করে নিল। আঁধারের খেলোয়ারড়া সক্রিয় হয়ে উঠলো। এলাকাজুড়ে প্রশ্ন তুললো-

@ মাত্র ১৬ ভোটে পরাজিত হয়ে কেন ফলাফলে মেনে নিলাম?
@ কেন ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে মামলা করলাম না?
@ কেন নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যানের অফিসে শুভেচ্ছা জানাতে গেলাম?
@ কেন নতুন চেয়ারম্যান আমাকে ফুল দিয়ে বরণ করলেন এবং আমি ওনাকে কেন বরণ করে নিলাম। তাহলে কি আগে থেকেই গোপন সমঝোতা ছিল?
@ নতুন চেয়ারম্যান কেন আমার প্রশংসা করলো?
@ রাজনৈতিক ও আদর্শিক শত্রু প্রতিপক্ষ চেয়ারম্যান প্রার্থীর সাথে সাক্ষাৎ করলাম কেন?
……………………………………………………………………
……………………………………………………………………
কেন? কেন? কেন? কেন?

এক কান, দু’কান করে পুরো ইউনিয়নব্যাপী আমার বিরুদ্ধে এক ভয়ংকর অপপ্রচার শুরু হয়ে গেল। সাধারন মানুষদেরকে পর্যন্ত ওরা কনভিন্স করলো- ‘নূর মোহাম্মাদ চেয়ারম্যান পদে জিতে গিয়ে চেয়ার ছেড়ে দিয়েছে।’ আমার পৃথিবীটা ছোট হতে লাগলো। ফেসবুকে অনেক শিক্ষিত লোকজনও আমাকে নিয়ে ইনবক্সে উষ্মা প্রকাশ করলো। পরিবারের লোকজনও বকাঝকা শুরু করলো। জন্মদাতা পিতাও বলে বসলো- ওদের অফিসে শুভেচ্ছা জানাতে না গেলেই কি হতো না? সাংগঠনিক ভাইদেরও উত্তর দিয়ে খুশী করতে পারছিলাম না। এলাকার অনেক নাগরিক ভোটারবৃন্দ আমার এই ‘মারাত্মক অপরাধে’ কষ্ট অনুভব করলো। কিছু মানুষ তো বিশ্বাস করে বসলো- আমার বাক্সে ভোট পড়লেও আমি আসলে সেসব ভোট অন্য প্রার্থীকে দিয়ে দিয়েছি। নির্বাচনে পরাজয়ে কি আমি শ্বান্তনা পাবো, উল্টো আমাকে বিভিন্ন এলাকা সফর করে শুভেচ্ছা জানানোর ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে হচ্ছিল। মাত্র ২৮ বছর বয়সে ১৬ ভোটের পরাজয় আমাকে যতটা কষ্ট দেয় নি, ভোটের পরের ফলাফল মেনে নেয়া এবং শুভেচ্ছা বিনিময়ের এই ঘটনা আমার বুকে বিশাল এক কষ্টের পাথর চাপিয়ে দিল। আমি রাতে একাকী গুমড়ে কাঁদতাম। জীবনের শুরুতেই এতবড় একটা পরাজয় উদার বুকে মেনে নিয়েছিলাম, বিজয়ী চেয়ারম্যানকে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম- সবাই এটাকে স্যালুট করবে। আমার ভদ্রতা ও সৌজন্যতাকে সম্মান করবে। নাহ- আমি নিষ্ঠুর প্রত্যাঘাত পেলাম। আমি বাংলাদেশী সমাজব্যবস্থা ও রাজনীতির পাঠ তখনো ভালভাবে শিখতে পারি নি।

ছয়ঃ
এই ঘটনা আমার চিন্তার জগতে আমুল পরিবর্তন এনে দিল। ভবিষ্যতে আর কখনো ভোটের রাজনীতিতে অংশগ্রহন করবো কি না জানি না। গতকালের সিএনএন এ হিলারীর ভাষন শুনছিলাম আর আমার জীবনের সাথে কথাগুলো মিলিয়ে নিচ্ছিলাম। আপনারা হিলারী ভাষনকে কিভাবে নিয়েছেন জানি না। তবে আমি ভাষন শুনে আমেরিকান ডেমোক্রেসি এবং বাংলাদেশী ডেমোক্রেসির একটা ক্ষুদ্র পার্থক্যকে জীবন থেকে দেখছি। ডেমোক্রেসীর বাংলাদেশী ভার্সনে মানবিকতা, ভদ্রতা, সৌহার্দ্যতা ও সহনশীলতার কোন স্পেস নেই। এখানে আপনার নৈতিকতা ঠিক আছে কি না- তা বুঝাতে হলে প্রতিপক্ষের অফিসে যাওয়া যাবে না, ফলাফল মেনে নেওয়া যাবে না, শুভেচ্ছা জানানো যাবে না। টলারেন্সি এখানে আঁতাত, ধৈর্য এখানে অনৈতিকতা। ডেমোক্রেসির বিউটি দেখার আগে আমাদের সমাজের নাগরিক এবং রাজনৈতিক কর্মীদের চিন্তার রাজ্যকে আগে পরিমার্জিত করতে হবে। বিদ্যমান রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্কৃতিই আমাদের পুড়িয়ে মারছে। হিলারী আজ প্রতিপক্ষ ট্র্যাম্পকে অভিনন্দন জানিয়ে নিশ্চয় প্রশংসিত হচ্ছেন। আর আমি ছোট একটা ইউনিয়নে স্রেফ একই কারণে অনেকের কাছে নিগৃহীত হয়েছি।

মুখে ডেমোক্রেসি ডেমোক্রেসি বলে যতই ফেনা তুলি না কেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে যতই দোষারোপ করি না কেন- নাগরিক হিসেবে আমরা আমাদের দায় এড়াতে পারি না।

লেখকের সাথে যোগাযোগ ও অন্যান্য লেখা পেতে

http://noortaher.blogspot.com/2016/11/election.html)

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।