প্রাণ বাঁচাতে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে ছুটে আসছে , পেছনে গুলি করছে সেনাবাহিনী!

প্রাণ বাঁচাতে মিয়ানমারের পশ্চিমের রাজ্য রাখাইন থেকে শত শত রোহিঙ্গা মুসলমান বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে ছুটে আসছে। তবে এদের কাউকে বাংলাদেশ সীমান্তে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

রাখাইন রাজ্যের মংড়ুতে গত মাসে পুলিশের ওপর হামলাকে কেন্দ্র করে বিদ্রোহীদের দম অভিযানে নামে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। অভিযান চলাকালে সেনাবাহিনী কয়েকটি গ্রামে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। এমনকি হেলিকপ্টার গানশিপ থেকে গ্রামবাসীর ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। সহিংসতায় রাজ্যটিতে এ পর্যন্ত ১৩০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন ।

রয়টার্স জানিয়েছে, বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য সীমান্তবর্তী নাফ নদী পাড়ি দিচ্ছেন রোহিঙ্গারা। কিন্তু তাদেরকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। রোহিঙ্গাদের কয়েকটি নৌকা মঙ্গলবার ফিরিয়ে দেওয়ায় সেগুলো এখন সমুদ্রে ভেসে আছে । আবার সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার সময় মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী রোহিঙ্গাদের পেছন থেকে গুলিও করেছে।

রয়টার্সের পক্ষ থেকে বুধবার রাখাইনের উত্তরে বসবাসরত চার রোহিঙ্গার সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোহিঙ্গা নেতা রয়টার্সের সাংবাদিককে বলেছেন, ‘বাসিন্দারা আমাকে জানিয়েছেন নদীর তীরে ভীড় করা রোহিঙ্গাদের ওপর গুলি চালিয়ে সেনাবাহিনী প্রায় ৭২জনকে হত্যা করেছে।’
মংড়ুর এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, ১০টি গ্রাম থেকে আসা নারী ও শিশুরা বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল এবং নৌকায় ওঠার সময় বেশ কয়েকজনকে গুলি করে হত্যা করেছে।

তিনি বলেন, সাগরে অনেক লাশ ভেসে বেড়াচ্ছে। এই লোকগুলো একসঙ্গে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করেনি। তারা ২০ অথবা ৫০ জনের গ্রুপ করে নৌকায় উঠে পালানোর চেষ্টা করছিল।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কক্সবাজার সেক্টরের কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল আনোয়ারুল আজিম বলেছেন, ‘ ৪০ নারী ও ২৫ শিশুসহ ৮৬ রোহিঙ্গাকে মঙ্গলবার টেকনাফ সীমান্ত থেকে পুশব্যাক করা হয়েছে। এরা সবাই বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছিল এবং তারা দুই ইঞ্জিনের একটি নৌকায় করে এসেছিল। সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা নজরদারি বাড়িয়েছি এবং অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছি।’
প্রসঙ্গত, ২০১২ সালেও রাখাইনে চরমপন্থী বৌদ্ধরা রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর হামলা চালিয়েছিল। ওই ভয়াবহ দাঙ্গার পর অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল। তবে তাদের সীমান্তে আটকে দেয়া হয়েছিল।

রাইজিংবিডি

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।