রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য কক্সবাজারে “রাবেতা হাসপাতাল” ও উত্তম কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছিলেন মীর কাসেম আলী !

মীর কাসেম আলীরে চিনেন? এই যে কিছুদিন আগে মানবতাবিরোধী অপরাধ করার করার জন্য তাকে ফাঁসী ঝোলানো হয়েছে।
মীর কাসেমের অপরাধ গুরুতর। মাস্টার্স পাশ করতে না করতেই দায়িত্ব নিলেন রাবেতা আলম আল ইসলামী (মুসলিম বিশ্বে ভ্রাতৃত্ব) নামক একটি এনজিওতে যার অন্যতম কাজ স্বাস্থ্যসেবা, বিশেষ করে যেখানে মুসলমানরা নির্যাতিত। তখন সাল ছিল ১৯৭৯।

বাংলাদেশে আগত বার্মার নির্যাতিত মুসলমান শরণার্থীদের জন্য আশ্রয়, খাদ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা ছিল তার কাজ। কক্সবাজারের মরিচ্যাপালংএ গড়ে তুললেন রাবেতা হাসপাতাল। কাজ করতে এসে বুঝতে পারলেন ডাক্তারের খুব প্রয়োজন এখানে। ডাক্তারের জন্য খরচ করার চাইতে ডাক্তার পাওয়াটাই ছিল বড় সমস্যা।

নিজের ডাক্তার বড় ভাইকে বুঝিয়ে তার চাকুরী থেকে তাকে ছাড়ালেন। সাথে একদল সদ্যপাশ করা তরুন ডাক্তার আর নিবেদিত প্রাণ একঝাঁক যুবকদের নিয়ে গড়ে তুলেন রোহিঙ্গাদের জন্য চিকিৎসা প্রকল্প। সেই প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, কয়েকটি চেয়ার টেবিল দিয়ে শুরু। দেখতে দেখতে সেই হাসপাতালের বড় হলো, অনেক বড়। গড়ে উঠলো ডায়াগনস্টিক সেন্টার, অপারেশন থিয়েটার (O.T), ফার্মেসী, ইনডোর- আউটডোর সার্ভিসসহ সার্বক্ষনিক ব্যবস্থাপনায় এক পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল। স্থানীয় বাংলাদেশীদের চিকিৎসাও চললো পাশাপাশি । গড়ে উঠলো নিজস্ব বিল্ডিং, চালু হলো নার্সিং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, তৈরি হল আবাসিক হোস্টেল। রোহিঙ্গাদের জন্য সৃষ্টি হয়েছে উত্তম কর্মসংস্থান।

দিন রাত পড়ে থাকতেন আটকে পড়া রোহিঙ্গা, বিহারী, সাঁওতাল, চাকমা, মারমাসহ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীদের সেবায়।
মীর কাসেমদের অপরাধ বড় গুরুতর…

আহমেদ আফগানী

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।