আমাকে যদি ৭২ খানা হুর দিতে চান, আমি তা প্রত্যাখ্যান করবো – আসিফ মহিউদ্দিন

পরিষ্কার করে বলি। আমি যে কোন সেন্সরশিপের বিরুদ্ধে ছিলাম, আছি এবং থাকবো। সেটা গণতান্ত্রিক বাঙলাদেশ ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জার্মানী হোক, ইসলামতান্ত্রিক পাকিস্তান সৌদি ইরান হোক, কিংবা সমাজতান্ত্রিক উত্তর কোরিয়া কিউবা হোক। আমি ৫৭ ধারা, এবং এই ধরণের সমস্ত আইনের বিরুদ্ধে। আমার কথা বলার স্বাধীনতার বিনিময়ে আপনি যদি আমাকে এক বিলিয়ন ডলার দিতে চান, বা ৭২ খানা হুর দিতে চান, আমি তা প্রত্যাখ্যান করবো। কারণ আমি আমার কথা বলার স্বাধীনতাকে আমার অস্তিত্ব বলে মনে করি। খাবার পানীয় কিংবা স্বাস্থ্যসেবার লোভ দেখিয়ে আমার কথা বলা বন্ধ করা আমি মেনে নেবো না।

দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, এখনো বহু মানুষ বাক স্বাধীনতাকে বিলাসের ব্যাপার বলে মনে করে। বেশ কয়েকজন মেসেজ দিয়ে জানিয়েছে, তারা মনে করে পেটে ভাত না থাকলে বাক স্বাধীনতা তাদের কাছে বিলাসিতা মাত্র। আমি অবাক হই এসব শুনে। বাক স্বাধীনতা বিলাসিতা?

সিরিয়াসলি? আপনি অশিক্ষিত, এবং আপনার মূর্খতা সীমাহীন। আপনি বর্বর, এবং মাথামোটা আহাম্মক ছাড়া আর কিছু নন।

৫৭ ধারার বিরুদ্ধে জ্বালাময়ী স্ট্যাটাস দেয়া, বাক স্বাধীনতা বিষয়ে শক্তিশালী বক্তব্য রাখা, ফেইসবুক প্রফাইলে মাজল মি নট লিখে কভার ফটো বানানো বিপ্লবীগণ যখন কিউবায় বাক স্বাধীনতা হরণের নুরানি ফজিলত ব্যাখ্যা করেন, তার মাহাত্ম্য বর্ণনা করেন, তাদের কাছে জানতে ইচ্ছা করে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কিংবা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিনিময়ে যখন ফ্যাশিস্ট আওয়ামী সরকার বাক স্বাধীনতা হরণ করে, গণতন্ত্র ধ্বংস করে, তখন কী একই যুক্তি তারা দেয় না?

প্রতিটি দল বা মতাদর্শের দালাল থাকে। আওয়ামী পান্ডারা ৫৭ ধারার পক্ষে থাকে, মুমিন ছাগলগুলো থাকে শরীয়া আইনের পক্ষে, আর বাম ভোদাইগুলো যখন একনায়কতন্ত্র এবং বাক স্বাধীনতা হরণকে জনগণের জন্য উত্তম ব্যবস্থা বলে ঘোষণা দেয়, অবাক হই না। হাসি পায় খুব।

কিউবায় কথা বলার কোন স্বাধীনতা নেই। সেখানে বইপুস্তক, পত্রপত্রিকা, রেডিও টিভি এমনকি সংগীত পর্যন্ত নিয়ন্ত্রিত। সরকারের বিরুদ্ধে কিছু বলা যাবে না। একটা জুজু সৃষ্টি করা হয়েছে, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র’। সেই জুজুর ভয় দেখিয়ে চুপ করিয়ে দেয়া হয়, কথা বলা বন্ধ করে দেয়া হয় মানুষের। বিরোধীতা করলেই তুমি মার্কিন দালাল, সাম্রাজ্যবাদী পুঁজিবাদী! তোমার লাশটাও আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। কত হাজার নাগরিক যে রাতারাতি উধাও হয়ে গিয়েছে সেই দেশে, কেউ আর হদিস পায় নি। আপনি বাঙলাদেশে বিচার বহির্ভূত ক্রসফায়ারের বিরুদ্ধে বলেন? বঙ্গবন্ধুর আমলে সিরাজ সিকদারকে হত্যার সমালোচনা করেন, অথচ ক্যাস্ট্রোর বিরোধীদের দমনকে সমর্থন দেন, জেলে পাঠানো, গুপ্ত হত্যা করাকে জাস্টিফাই করেন, এগুলো হিপোক্রেসি নয়, স্রেফ নোংরামি।

রাষ্ট্র ভাল কি মন্দ, সরকার ভাল কি মন্দ, জনগণ কী সুবিধা পাচ্ছে সেসবের চাইতে জরুরি হচ্ছে, রাষ্ট্রটি ভাল বা মন্দ তা আমি বুঝতে পারছি কিনা। আমি আমার মাথা খাঁটিয়ে যাচাই করতে পারছি কিনা। আমার মতামত জানাতে পারছি কিনা। সেটা না পারলে ইরানের মত দেশে ডেইলি এক লিটার দুধ আমার ঘরে সরকার পৌঁছে দিচ্ছে, সেই দুধের ওপর আমি মুত্র ত্যাগ করবো। উত্তর কোরিয়ার মত দেশে আমাকে রেশনের চাল দিচ্ছে, সেই চালের ওপর আমি থুথু মারবো।

সব চাইতে অবাক লাগে, বাক স্বাধীনতা নিয়ে গলা ফাটানো লোকগুলোর ক্যাস্ট্রো বন্দনায় মুখে ফেনা তুলে ফেলতে দেখলে। সস্তা লাইক কামাতে হবে তো!

এগুলো হিপোক্রেসি নাকি মূর্খতা?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।