‘শিক্ষক’ হত্যার প্রতিবাদে জাতির বিবেক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভূমিকা কী?

প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে বিশ্ব বিদ্যালয়, যেখানেই হোকনা কেন- শিক্ষকগণ সমাজের সর্বোচ্চ সম্মানীত ব্যক্তি। এই সত্য মেনে নিয়েই আপনাদেরকে চাকুরি করতে হবে। এটা শুধু পুলিশ নয়, সেনাবাহিনী, আমলা এবং রাজনীতিবিদ, সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

দুঃখজনক ব্যাপার হলো- পরম শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদেরকে সর্বোচ্চ সম্মান করতে চাই আমরা, কিন্তু মন থেকে আসেনা, পারিনা। পারিনা, এটা কি শুধুই আমাদের দোষ? আমরা তাঁদেরকে সর্বোচ্চ সাম্মানিত আসনে বসাতে চাইলেও উনারা সেই আসন ছাইড়া রাজনৈতিক কর্মীর আসনে গিয়ে লেপ্টে বসেন। কে শিক্ষক আর কে রাজনৈতিক কর্মী এটা বাছাই করতেই সাধারণ মানুষের ঘাম ছুটে যায়, সম্মান করবে কী?

একটি বিশ্ব বিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিদ্যা বুদ্ধিতে সর্বোচ্চ ডিগ্রীধারী ব্যক্তি যিনি ভাইস চ্যান্সেলর হয়েছেন, সামান্য কিছু রুটি রুজি আর রাজনৈতিক সুবিধা পাবার জন্য যখন তিনি স্থানীয় এমপি-মন্ত্রীর বাসায় গিয়ে চায়ের টেবিল ঘষামাজা করেন, এমপির লগে পান-বিড়ি-সিগারেট খাওয়াটাকে সৌভাগ্যের ব্যাপার মনে করেন, তখন আমরা সাধারণ মানুষ লজ্জিত হই, বিব্রত বোধ করি। দু’একজন বাদে এই চিত্র মোটামুটি সব ভাইস চ্যান্সেলরদের ক্ষেত্রেই সত্য।

শিক্ষকগণ যেদিন আবার শিক্ষকের পবিত্র আসনে বসতে পারবেন, সেদিন পুলিশ বাহিনী কেন ওর বাপেও শিক্ষকের চোখে পেপার স্প্রে অথবা লাঠিচার্জ করতে সাহস করবেনা। গুলি করে হত্যার সাহস পাবেনা।

আমার পরম শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের বিবেকহীনতা এতই নিম্ন পর্যায়ে চলে গেছে যে- পুলিশের গুলিতে তাঁদেরই বন্ধু আরেক শিক্ষক মারা গেলেও তার প্রতিবাদ করবার মতো সাহস তাঁরা পাচ্ছেন না।

আমরা যারা সাধারণ মানুষ তারা তো প্রশ্ন তুলতেই পারি যে, ‘শিক্ষক’ হত্যার প্রতিবাদে জাতির বিবেক বিশ্ব বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভূমিকা কী?

Mohammad Al-Amin
Seoul, Korea

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।