শাকিলের মৃত্যুতে রেস্টুরেন্টে মালিককে গ্রেপ্তার না করে কর্মচারী গ্রেপ্তার কেন ?

মাহাবুব শাকিলের মৃত্যু নিয়ে যখন বিভিন্ন গুঞ্জন শুরু হয়েছে তখনই সাফল্যজনক জঙ্গী আটক অভিযান!

কেউ কী জানার চেষ্টা করেছেন যে সামদাদো রেস্টুরেন্টের মালিকের নাম কি? কেবল কর্মচারী আটক হলো, মালিকার নামটাও কোন মিডিয়া প্রকাশ করলো না। অথচ এমন ঘটনায় তো হোটেলের মালিকের নাম প্রকাশ পায়ই, তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটকও করা হয়। সামদাদো রেস্টুরেন্ট আবাসিক না হবার পরও কেন ও কিভাবে শাকিল সেখানে রাত্রি যাপন করতো সেটারও কোন উত্তর নেই। ময়না তদন্তে কি পাওয়া গেল তার কোন সুষ্পষ্ট বক্তব্য নেই।

এসব প্রশ্নের উত্তর ধামাচাপা পরে গেল জঙ্গী আটকের খবরে। তবে সেই খবরে যেটা বলা হলো না, সেটা হচ্ছে- চট্টগ্রামে জঙ্গি আস্তানা থেকে অভিযান চালিয়ে যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের দাবি করেছে র‌্যাব, তাদের একজনকে নয় মাস আগে নীলফামারী থেকে ধরে নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছে তার পরিবার।

পরিবারের দাবী অনুযায়ী, এ বছরের ১১ এপ্রিল রাতে তিনটি মাইক্রোবাস ও একটি প্রাইভেটকারে প্রায় ৪০ জন ‘প্রশাসনের লোক পরিচয় দিয়ে’ এসে নীলফামারীর বাড়ি থেকে নূরে আলমকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল।

আজ র‌্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতদের ছবি টেলিভিশনে দেখে ছেলেকে শনাক্ত করেন তার মা নূর নাহার বেগম।
তিনি বলেছেন, ছেলের সন্ধানে পরদিনই নীলফামারী সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন। সেই সময় আটকের ঘটনা অস্বীকার করেছিল পুলিশ; তবে এখন নীলফামারী সদর থানার ওসি মো. বাবুল স্বীকার করেছেন যে, ছেলে নিখোঁজ রয়েছেন উল্লেখ করে গত ১২ এপ্রিল থানায় একটি জিডি করেছিলেন নূর নাহার।

র‌্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক কিংবা কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে আগে তুলে নেওয়ার অভিযোগ আগেও এসেছে। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা প্রত‌্যাখ‌্যান করেছে।

অথচ সরকার যখন বেকায়দা অবস্থায় পরে তখন এমন জঙ্গী আটক অভিযানের মাধ্যমে দীর্ঘদিন আগে থেকে পুলিশ বা র‌্যাব কিংবা প্রশাসনের লোক পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া কিছু তরুণকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় ফেরত পাওয়া যায়।

AKM Wahiduzzaman

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।