” পরিবার লাশ গ্রহন করবে না ” – জঙ্গি ইস্যুতে নিউজ করতে সরকারি চাপ !

বিবিসি বাংলার একটা নিউজ হেডলাইন হচ্ছে ” মারজানের লাশ নেবে না পরিবার”

অনেকেই ভিতরের নিউজ পড়ে না, আমিও অনেক সময় পড়ি না। শুধুমাত্র নিউজ হেড লাইন দেখি, সেই নিউজ নিয়ে রিয়েকশান দেয়া শুরু করি।

বিবিসি বাংলার সেই নিউজের ভিতরে গিয়ে পড়ে দেখুন মারজানের মা সালমা খাতুন কি বলেছে।
“আমি ছেলের মুখের থেকে তো আর শুনতে পারলাম না যে সে এই কাজে জড়িত ছিল কীনা। এখন যেভাবেই হোক, আমার ছেলে নিহত হয়েছে। যদি সরকার আমার ছেলেকে বাড়িতে পৌঁছে দিতে পারে, এলাকাবাসীর আবেদন, তারা তাকে বহুদিন দেখেনি। এলাকাবাসী তাকে ভালোবাসতো। সেই হিসেবে তাকে দাফন করবো।”

তিনি আরও বলেন, “এখন আমি লাশ গ্রহণ করবে, আমার সেরকম সামর্থ্য নেই। আমি গরীব মানুষ। আমার সামর্থ্য নেই ওখানে গিয়ে লাশ নিয়ে আসার। ”

সালমা খাতুন কি একবারের জন্য ও বলছে আমার ছেলে জঙ্গি, তাই আমি আমার ছেলের লাশ গ্রহন করবো না?

সেই গুলশান হামলার পর থেকে এই নতুন কালচার শুরু হইছে, পরিবার লাশ গ্রহন করবে না। একজন সন্তানহারা বাবা-মায়ের কাছে সাংবাদিক নামের কিছু পিশাচ গিয়ে বক্তব্য নিয়ে আসে, আর সেই বক্তব্য কে বিকৃত ভাবে নিউজ করে ,সেই নিউজের হেডিং দিচ্ছে লাশ গ্রহন করতে চায় না পরিবার।

এই হেডিং এর মাধ্যমে তারা এই বিচারবহিভুত ক্রসফায়ার কে বৈধতা দিচ্ছে। আর আমরা আমপাবলিক চিন্তা করতেছি, যেখানে মা-বাবা বলতেছে ছেলের লাশ নেবে না সেখানে আমাদের কি! তারমানে ঐ ছেলে আসলেই জঙ্গি। আর পুলিশের এই ক্রস ফায়ার বৈধ।

এটাই মিডিয়ার কারসাজি, ওরা প্রতিনিয়ত আমাদের মাইন্ড কে কন্ট্রোল করতেছে ওদের চাহিদা মত। তারা আপনাকে লাল অক্ষরের বড় ফ্রন্টের হেডিং দিয়ে পড়াচ্ছে ” লাশ নিতে চায় না পরিবার”

কিন্তু কালো অক্ষরে ছোট ফ্রন্টে তারা নিউজ করছে না , মারজানের সাথে গতকাল ক্রস ফায়ারে নিহত সাদ্দামের মা বলছে, তার ছেলে গত ১১ মাস আগেই নিখোঁজ। তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

বিবিসি বাংলার সেই নিউজে একজন মহিলা মন্তব্য করেছে, আমার বিশ্বাস হয় না, এদের লাশ পরিবার গ্রহন করতে চায় না। এখানে নিশ্চয়ই কোন চাপ আছে অথবা হুমকি আছে।

একজন বাবা অনেক অনেক পাষাণ হতে পারে, কিন্তু একজন মা কোনদিন তার সন্তানের লাশ শেষবারের মত দেখবে না, এমন পাষাণ হতে পারে না। পৃথিবীর সব চাইতে খারাপ মানুষটির জন্যও তার শেষ ভরসার নাম হচ্ছে মা.

আলোকিত ভোরের প্রত্যাশায়

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।