ওয়াজ মাহফিল নাকি ওয়াজ ব্যাবসা করছেন তথাকথিত আলেমরা ?

একঃ
এ এক বেদনার নীল রংয়ের ব্যাপার। হৃদয় রক্তক্ষরণ হচ্ছে অবিরত। ব্যাপারটি ধৈর্যের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। আজ বিকাল থেকে মেজাজ নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না। আমার এলাকায় একজন মুফাসসিরে কোরআন আগামীকাল তাফসীর পেশ করবেন। হক কথা সাহসের সাথে বলার লোকের সংখ্যা খুবই কম। তিনি ‘হক আলেম’ বলে সমাদৃত। হক কথা বলার অপরাধে রাষ্ট্রীয় অবিচারের মুখোমুখি হয়ে তার অধিকাংশ মাহফিল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাই তিনি আর ঝুঁকি নিতে রাজী নন। তাকে অগ্রীম টাকা পরিশোধ করতে হবে। গ্রামের নিরীহ লোকজন আজ ফোন দিয়ে অসহায় ভঙ্গিতে বলছেন, সম্মানিত হুজুর বিকাশে অগ্রীম টাকা পরিশোধ ছাড়া মাহফিলে আসবেন না। জানিয়ে রাখি- হুজুরকে গত বছর বুকিং বাবদ ৫ হাজার টাকা এডভান্স করতে হয়েছিল

হয়তো এই মাওলানা সাহেব আগামীকাল সুরের নহর তুলে বলবেন- ‘আমার নবীর ঘরে খেজুর পাতার ছাউনি ছিল! এক নাগারে তিনদিন নবীর চুলায় আগুন জ্বলত না! পেটে পাথর বেঁধে দিনের পর দিন দ্বীনের কাজ করে গেছেন আমার নবী…।’

তখন তাদের লজ্জা করবে কিনা জানি না, তবে আমরা শুনে লজ্জা পাই। আমার যদি ক্ষমতা থাকত, তাহলে এই ওয়াজ ব্যবসায়ীদের ওয়াজ করা এবং তাদের ওয়াজ শোনা- দুটোই বন্ধ করতাম। সত্যি বলছি। তাদের বয়ান থেকে এক পয়সার হেদায়েত আশা করা বোকামি। হেদায়েত মুখের কথায় আসে না। হেদায়েতের সঙ্গে সহিহ নিয়ত এবং তাকওয়ার (একনিষ্ঠতা) সম্পর্ক জড়িত। বিশ্ববাসীর জন্য রহমত, আমার রাসূল (সাঃ) দিনের পর দিন না খেয়ে থেকে সত্যের মশাল জ্বালিয়েছেন, হকের কথা বলেছেন। সাহাবায়ে কিরাম গাছের পাতা খেয়ে ওয়াজ করে বেড়িয়েছেন। আমরা ছোট থেকে বড় হওয়ার পথে আমাদের বুজুর্গদের দেখেছি মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে গিয়ে ওয়াজ করতে। এমনও হয়েছে যে, ওয়াজ করে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিদায় না নিয়েই চলে গেছেন। হাদিয়ার টাকা দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষ তাদের অনেককে খুঁজেও পায়নি।

আর এখন…
-১৫ হাজার, ২৫ হাজার, ৩০ হাজার…
-আগাম ফরম পূরণ, এডভান্স—বকেয়া…
গাড়ির তেল, ড্রাইভারের হাদিয়া, বিমানের টিকেট…
এভাবে যারা চুক্তির মাধ্যমে দরদাম করে ওয়াজ করে বেড়ায় (বেড়া, সময় এসেছে তাদেরকে চিহ্নিত করার। ওয়াজের দাওয়াত দিলে যারা আগাম টাকার কথা বলবে- তাদেরকে মুখের ওপর ‘না’ বলে দিতে হবে। আর এ কথা সবাইকে জানিয়ে দিতে হবে। বলতে হবে অমুক বক্তা ওয়াজ করার জন্য, ইসলামের কথা শোনানোর জন্য, কোরআনের বাণী শোনানোর, হাদিসে শিক্ষার কথা আমাদের জানানো জন্য টাকা দাবি করেছেন। আমরা তাকে প্রত্যাখ্যান করেছি; আপনারাও করুন।
দুই.
এতক্ষনে এই স্ট্যাটাসে পাঠককূল আমাকে ইসলামদ্রোহী, তাফসীর মাহফিল বিরোধী, কপট-ছোটলোক ভেবে যাচ্ছেতাই বলা শুরু করে দিয়েছেন। মশাই- যা ইচ্ছে বলুন; আরেকটু পড়ে বলুন। মাঝে-মধ্যেই শুনি এমন বক্তাদের সুবিধাভোগী কিংবা তাদের আত্মীয়-স্বজনদের কেউ কেউ বলেন, গান গাইতে আসা শিল্পীদের লাখ লাখ টাকা চুক্তি-এডভ্যান্স-পেমেন্ট করা হয়, সেখানে আমরা কিছু বলি না। আর কোরআনের কথা বলা বক্তাদের চুক্তি-এডভ্যান্স- বেশি বেশি টাকা-পয়সা দেওয়া নিয়ে আমরা কেন কথা বলি?

ডিয়ার ব্রাদারস কিসের সঙ্গে কী মিলিয়ে নিচ্ছেন! ওরা তো প্রফেশনাল শিল্পী। ওরা গান গায়। এটা ওদের ব্যবসা, রুজির পথ। ওরা হালাল-হারামের সূত্র মেনে হারমোনিয়ামে সূর তুলে না। হালাল-হারাম জেনে উদাম গায়ে নাচে না। ওরা জান্নাত-জাহান্নামের কথা ভেবে তবলায় থাবা মারে না। ওরা মানুষকে বলে না- গান শুনে অশেষ নেকি হাসিল করুন। আর ওদের সঙ্গেই যদি তুলনা দিতে হয়, তাহলে তেমন বক্তাদেরও উচিত রেটসহ একটা করে আরবী ব্যান্ডের নাম দিয়ে বিজ্ঞাপন দেওয়া। যেমন- আত তাকওয়া ওয়াজ গ্যাং, আল মারুফ ওয়াজ এজেন্সি, আল ইহসান নসিহত গ্রুপ এন্ড কোম্পানী। মানুষ জানতে পারবে- কার রেট কত! খামাখা সময় নষ্ট হবে না।

হ্যাঁ, মানছি- বক্তারও পেট-পিঠ আছে। বউ-বাচ্চা আছে। সুতরাং স্বেচ্ছায় কেউ যদি দশ-বিশ হাজার দেয়- সেটা ভিন্নকথা। মানুষ কি কোনো বক্তাকে হাদিয়া না দিয়ে বিদায় দেয়? এমন ঘটনা কখনও ঘটেনি। তবুও তাদের জিহ্বা এত লম্বা কেনো?

(এই স্ট্যাটাসের উদ্দ্যেশ্য সকল মুহতারাম মুফাসসিরে কোরআনকে অপদস্ত ও অসম্মানিত করা নয়; বরং সিলেক্টিভ কিছু ব্যবসায়ীদের জন্য সতর্কবার্তা। এমন কোন ব্যবসায়ী আপনার পরিচিত থাকলে, তাকে এই স্ট্যাটাস ইনবক্স করবেন প্লিজ। নিশ্চয় হক ও নির্লোভ দায়ী ইলাল্লাহ এখনো এই জমীনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোরআনুল কারীমের আলোচনা করে চলেছেন। আল্লাহ্‌ তায়ালা তাদের উত্তম জাযা দান করুন। )

Noor Mohammad

১ টি মন্তব্য:

  • জানুয়ারী 10, 2017 at 12:14 পূর্বাহ্ন
    Permalink

    কুত্তার বাচ্চা গুলো, একি লেখা সব গুলো অনলাইন পত্রিকায় দিছে। তোরা মরলে যেনো কোনো আলেম এর ইমামতিতে জানাযা না হয়।

    Reply

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।