তুরস্কের ইতিহাস – আমাদের পথচলার নির্দেশনা ও অনুপ্রেরণার নাম

একজন মুসলমান হিসেবে আর পাচটা দেশের ইতিহাস না জানলেও তুরস্কের ইতিহাস আমাদের জানা একান্ত কর্তব্য।
এখানকার ইতিহাস, ঐতিহ্য আমাদের পথচলার নির্দেশনা ও অনুপ্রেরণার নাম।

আমাদের দীর্ঘদিনের উত্থান পতনের সাক্ষি এই তুরস্ক।ক্রুসেড পরবর্তী সময় থেকে দীর্ঘদিন ইসলামী খেলাফতের দ্বায়িত্ব ছিলো তুর্কীদের উপর।
আধুনিক তুরস্কের জনক, দ্য গ্রে উলফ খ্যাত কামাল আতাতুর্ক (পশ্চিমা ধারাপুষ্ট) ।তিনি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর দেশ থেকে ইউরোপীয়দের বিতাড়িত করে ‘জাতীয় বীর’ হিসেবে আবির্ভূত হন ১৯২৩ সালের দিকে।তার গৃহিত সংস্কারগুলো সবই ইসলাম বিরোধী। সুতরাং, মুসলিম হিসেবে তাকে নিয়ে গর্ব করার মতো কিছু নেই।

তার গৃহিত সমাজ সংস্কার গুলো ছিলো নিম্নরূপঃ
**ধর্মীয় রীতিনীতি থেকে দেশকে ‘ধর্ম নিরপেক্ষ করা”র মাধ্যমে নাস্তিকতাকে রাষ্ট্রীয় ভাবে প্রসার ঘটানো।
**দাড়ি, টুপি,বোরখা, হিজাব নিষিদ্ধ করণ।
**আরবীতে আজান নিষিদ্ধ করা।
**দেশের সকল মাদরাসা বন্ধ করা।
**মাদরাসা পড়ুয়া ছাত্রদের ইমামতি ছাড়া কোনো চাকরি না দেয়ার সিদ্ধান্ত।
**আরবী অক্ষরে তুর্কী ভাষা লেখার পরিবর্তে ল্যাটিন অক্ষরে লেখা চালু।
**মসজিদের শহর ইস্তাম্বুল এর মসজিদগুলোকে বন্ধ করা,কিছু বাজার,গোয়ালঘর ইত্যাদি বানানো।
**অসংখ্য দ্বীনদার মুসলমানকে হত্যা,জেল জরিমানা।
**আরবিতে আজান দেওয়ার অপরাধে জেল, জরিমানা।
ইত্যাদি ইত্যাদি ….।

আতাতুর্ক এর অনুগত বাহিনী(Liberal Democratic party) দেশ চালিয়েছে প্রায় 2000 সাল পর্যন্ত। বানরের গলায় মুক্তোর মালা দিলেও বানর যেমন সুন্দর হয় না,তেমনি এতো দীর্ঘ শাসনের পরও তুরস্ক ছিলো ইউরোপের “রুগ্ন মানব”।
এই দীর্ঘ সময়ে যতবারই ইসলামপন্থী দল ভোটে জিতেছে,সামরিক অভ্যুত্থান করে উতখাত করা হয়েছে।বর্তমান ইসলামপন্থী এরদোগান সরকারকে উতখাত করার ষড়যন্ত্র করে চলেছে সামরিক বাহিনী।

পথম বিশ্বযুদ্ধে অক্ষ শক্তির পরাজয়ের পর তুরস্কের সাথে ইংল্যান্ড/মিত্রশক্তি বেশ কিছু অপমানজনক চুক্তি করে এরমধ্যে একটা হলো তুরস্কের নিয়ন্ত্রণে থাকা বসফরাস প্রণালী দিয়ে আগামী ১০০ বছর সকল দেশের জাহাজ চলাচল করতে পারবে কোনো ট্যাক্স ছাড়াই।
উল্লেখ্য চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে ২০১৯ সালে।বর্তমান এরদোগান সরকার সংকল্পবদ্ধ ট্যাক্স বসাবে।১০০ বছরের বঞ্চিত হওয়া ট্যাক্স,অপমানের সুদে আসলে হিস্যা নেবে।(বসফরাস প্রণালী পৃথিবীর বিজি প্রণালি গুলোর অন্যতম।মেডিটারিয়ান/ভূমধ্যসাগর ও কৃষ্ণ সাগরের মধ্যকার যোগাযোগ এর একমাত্র পথ)

পশ্চিমা ও ইউরোপীয়রা ২০১৯ এর আগেই নতুন পুতুল সরকারকে ক্ষমতায় বসাতে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে।
তুরস্ক একটি ইউরোপীয় ভাবধারার মুসলিম অধ্যুষিত রাষ্ট্র ।এছাড়াও এখানে,খ্রিস্টান, স্পেকটিস (ঈশ্বর মানে, রিলিজিয়ন মানে না),নাস্তিক বাস করছে।

অনেক মুসলমানদের ড্রেস আপ,বাহ্যিক কালচার দেখে বোঝার উপায় নেয় এরা মুসলিম।যদিও তারা নিজেদের রিলিজিয়ন হিসেবে ‘ইসলাম’-কে বলছে।

এর বড় কারণ হলো কামাল আতাতুর্ক পরবর্তী প্রায় দুই/তিন পুরুষ এরা ইসলাম থেকে বঞ্চিত।এখানে নিরবচ্ছিন্ন ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন ইসলামি দাঈয়ীরা।

হাজার ঝঞ্ছা অতিক্রম করে তুরস্কে আবার ইসলামপন্থী দল এখন ক্ষমতাসীন।যদিও পশ্চিমাদের সৃষ্ট IS এর হামলায় তুরস্কে নিয়মিত সাধারণ মানুষের রক্ত ঝরছে।শুধুমাত্র জনগনের আস্থার প্রতিফলন হিসেবে তুরস্কের শক্তিশালী সেনাবাহিনীর অভ্যুত্থান থেকে টিকে আছে বর্তমান সরকার।
কালাম আতাতুর্করা ইসলামের পথে বারবার এসেছে।আতাতুর্ক এর দেহ মধ্যপ্রাচ্যের মাটিতে চাপা পড়ে ধুলো হয়ে গিয়েছে এতোদিনে।ইসলাম ছিলো, আছে,থাকবে।আতাতুর্ক ও ফিরে ফিরে আসবে।

Masum Abdullah

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।