গুম, খুন হওয়া জনগনকে “উন্নয়ন মেলা”র নামে উন্নয়নের হাসি হাসতে বাধ্য করা হচ্ছে !

উত্তর কোরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট মিঃ কিম জং উন এর পিতা মিঃ কিম জং ইল ২০১১ সালে যেদিন আকস্মিকভাবে মারা যায়, সেদিন প্রচন্ড তুষারপাত ছিল। লিমোজিন বাসে করে সিউল থেকে ইনচন এয়ারপোর্টে যাচ্ছিলাম জপানের উদ্দেশ্যে। বাসের ভেতরেই টিভি নিউজে দেখলাম -প্রেসিডেন্ট কিম জং ইল মারা গেছেন। খবর শুনে বাসের ভেতর সবাই বেশ উচ্ছ্বসিত। ভাবটা এমন যে ‘যাক বাবা, আপদটা বিদায় হলো’।
হবার-ই কথা। এই উত্তরের পিছনে প্রতি বছর দক্ষিনের যে পরিমান অর্থ ব্যায় করতে হয় তাতে এমন ভাবনাকে অমূলক বলা যায়না। পুরোটাই যায় জনগনের ট্যাক্স থেকে। তাছাড়া সারাক্ষন আতংকে থাকা স্বাস্থ্যের জন্য হানিকর, সেটা কে না বোঝে?

মিঃ কিম জং ইলের মৃত্যুর পর উত্তর কোরিয়াতে তৎক্ষণাৎ একটা ফরমান জারি করা হলো যে, সকল নাগরিককে বাধ্যতামূলক ভাবে দৃশ্যমান শোক পালন করতে হবে। সেটা কিভাবে? খোলা ময়দানে এসে সবাইকে কাঁদতে হবে। উচ্চ শব্দে হাউ মাউ করে। কান্না না আসলেও জোরে জোরে হাউ মাউ করতে হবে।

কম্যুনিস্টের দেশ। আইন অমান্য করলে সরাসরি মৃত্যুদন্ড। জানের মায়া কার না আছে? এই কনকনে তুষারপাতের ভেতর সবাই আসলো দল বেধে। খোলা ময়দানে কান্নার রিহার্সেল দিতে। তারপর সেটি ভিডিও ধারণ করা হলো। টিভিতে সেটি সম্প্রচার করে বলা হলো-‘দেখো পৃথিবী দেখো, কিম জং ইল কত্ত ভালা মানুষ আছিল, তার জন্য দেশের মানুষ কী পরিমান দিওয়ানা, দেখো’।

গোটা পৃথিবীর মানুষ সেই ভিডিও দেখল এবং হো হো করে হাসলো। কোন কোন বিশেষজ্ঞ এটাকে weeping hysterically অর্থাৎ ‘হিস্টিরিয়া গ্রস্থ ক্রোন্দন’ বলে অবিহিত করলো। আপনার খুউব মন খারাপ থাকলে এই ভিডিওটি দেখতে পারেন। আমার বিশ্বাস মুহুর্তে মন ভাল হয়ে যাবে। আমি মাঝে মাঝে দেখি যখন মনটা বিষণ্ণ থাকে।

বাই দ্যা ওয়ে, গতকাল থেকে সেই ঘটনা আমার মাথায় হঠাৎ হঠাৎ উঁকি দিচ্ছে। ভেবে পাচ্ছিলাম না কারণ কী? আজ আবিষ্কার করলাম।
বাংলাদেশে গতকাল থেকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একযোগে পালন করা হচ্ছে ‘উন্নয়ন মেলা-২০১৭’। এই মেলা উপলক্ষ্যে ফেসবুকের এক বন্ধু গোটা কতেক টার্কি এবং ডিম খাঁচায় ভইরা একটা পিক আপ্লোডাইছে। ক্যাপশানে লিখছে ‘আমি এখন উন্নয়ন মেলায়’। খাঁচায় লেখা ‘টার্কি মুরগি’। টার্কি কবে থিকা মুরগি হইলো মাথায় ধরলো না।

আরেক বন্ধু স্ট্যাটাস দিয়েছে “দরকারি কাজে আমি এখন পাসপোর্ট অফিসে, কিন্তু এই অফিসের সকল স্টাফ গেছে উন্নয়ন মেলায়। অফিসে কাউকেই খুইজ্যা পাইতাছি না। আমি এখন কী করুম!”

ভাবলাম কিম জং ইল শুধু উত্তর কোরিয়াতেই জন্মে না, বাংলাদেশেও। গুম, খুন আর বাঁশ খাওয়া জনগনকে উন্নয়নের হাসি হাসতে বাধ্য করা হয় খোলা ময়দানে। অচিরেই হয়তো ফরমান জারি হবে-উন্নয়নের জোয়ারে হাসো বাঙালি হাসো। হা হা হি হি।
না হাসলেই মামলা, বলো জয় বাংলা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।