বইমেলায় প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে এক মধ্য বয়স্ক লোক আস্তে করে সরাসরি হাত দিয়ে দিলো আমার বুকে!

সায়ন্তনী ত্বিষা: ছয় বছর আগের এক বইমেলায় (বাংলা একাডেমী), দাঁড়িয়ে আছি সেবা প্রকাশনীর স্টলের সামনে প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে। পেছন থেকে এক মধ্য বয়স্ক লোক আস্তে করে সরাসরি হাত দিয়ে দিলো বুকে। আমি সাঁই করে পেছনে ফিরে লাগালাম দুই ঘুঁষি। সেই লোক দাঁড়িয়ে থাকলো নির্বিকার মুখে যেন কিছুই হয়নি। সাথে আমার বেস্টফ্রেন্ড ছিল। সে কিছু বুঝে ওঠার আগেই হয়ে গেল সবকিছু।

সায়ন্তনী ত্বিষা
ওই মধ্য বয়স্ক লোক কী করেছে সেটা আশপাশের লোক দেখেনি। কিন্তু আমার ঘুঁষি মারা দেখে উল্টো আমাকেই বলতে থাকল- ‘যান যান, এখানে ঝামেলা কইরেন না’। আমি বের হয়ে এলাম বন্ধুর সাথে। নিজেকে সান্ত্বনা দিলাম এই বলে যে, অন্তত দুইটা ঘুঁষি তো মেরে এসেছি।

এর পর থেকেই বই মেলায় গেলে তটস্থ হয়ে থাকি। সহজে ভিড়ওয়ালা কোন স্টলের সামনে যাই না।

আজকে বইমেলা ঘুরে পর্যটনের ফুডকোর্টে গেছি খাবার কিনতে। সেখানে এক লোক (আমার চেয়ে বড়জোর ৪-৫ বছরের বড় হবে) আবারো ঠিক বুকের পাশ দিয়ে হাত নিয়ে গেল। তড়িৎ বেগে পিছিয়ে যাওয়ায় বেঁচে গেলাম। কিন্তু মেজাজ ঠিকই খারাপ হলো।

লোকটা আমাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সাথে সাথেই পেছন থেকে তাকে উদ্দেশ্য করে বললাম- ‘ভাই, সমস্যা কি? গায়ের উপর দিয়ে যান কেন?’ সেই লোকের আসলেই কোন বাজে উদ্দেশ্য না থাকলে তার বোঝারও কথা না যে আমি পেছন থেকে তার সাথে কথা বলছি। কিন্তু সে যেন প্রস্তুতই ছিল। আমার কথা শুনেই বাঁই করে ঘুরে আমার মুখের থেকে এক আঙুল দূরত্বে দাঁড়িয়ে ভুল ভাল বাংলা এবং ইংলিশে ষাঁড়ের মতো চেঁচানো শুরু করলো- ‘আমি কে জানেন? আমাকে চিনেন? you know me? behave you. ভদ্র ভাবে কথা বলেন। সাহসতো কম না। আমাকে নিয়ে আজে বাজে কথা বলে!….’ ইত্যাদি। পুরো ফুডকোর্টে কেনাবেচা ১৫ মিনিটের জন্য বন্ধ হয়ে গেল। আশপাশের মানুষ তাকিয়ে তাকিয়ে তামাশা দেখল। কেউ টুঁ শব্দটাও করল না এবং যথারীতি মজা দেখা শেষে এবারও বললো- ‘আপনারা যানতো এখান থেকে, ঝামেলা কইরেন না বইমেলার মধ্যে’।

ভীষণ বিরক্ত হয়ে আমি ডাকলাম আমার বরকে (সে পাশের স্টলেই বই কিনছিল)। সে দৌড়ে আসতে আসতে কাহিনী প্রায় শেষ। তারপরেও সে আসার পর ওই লোক আবারো ষাঁড়ের মতো চেঁচানো শুরু করল এবং শেষ পর্যন্ত পুলিশ এলো….

ঘটনা আর লম্বা না করি। মূল কথা হল- মেয়েদের এই ধরণের ঝামেলায় প্রতি নিয়ত পড়তে হয়। বেশিরভাগ মেয়েই কোমলমতি এবং লাজুক। যে কারণে অধিকাংশ সময় মেয়েরা মুখ ফুটে কিছু বলতেই পারে না। যদিওবা কখনো প্রতিবাদ করে বসে তখন আশপাশের মানুষ এসে উল্টো মেয়েটাকেই দোষারোপ করে। অথবা কোন পাত্তাই না দিয়ে ভাগিয়ে দেয় সেই জায়গা থেকে।

আমার ছেলে বন্ধুদের প্রতি আমার অগাধ ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধা। কখনো ভাবতেও পারি না আমার বন্ধুরা এমন কিছু করতে পারে। কিন্তু তারপরেও এই স্ট্যাটাসটা তোদের জন্যই। কারণ, তোরা হয়তো মেয়েদের গায়ে হাত দিস না। কিন্তু অন্য কেউ মেয়েদের গায়ে হাত দিলে নিশ্চই কিছু বলিসও না। তোরাও হয়তো এমন অবস্থায় কিছুক্ষণ মজা দেখে চলে যাস।

তোদের কাছে অনুরোধ- প্লিজ এমন কোন ঘটনা দেখলে নিজের মার খাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও এগিয়ে যা প্রতিরোধ করতে। it takes a lot for a girl to speak out. but if and when she does, do not silence her. rather raise your voice in her favour.

আর যদি কখনও কোন মেয়ে ভুল করেও ভাবে তুই তার গায়ে হাত দেওয়ার চেষ্টা করেছিস, তাহলে উল্টো গলা মোটা করে ঝগড়া না বাধিয়ে তাকে বুঝিয়ে বল তোর intention এটা ছিল না, sorry বল। মেয়েদের জন্য খুবই normal তোকে সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখা। কিন্তু এই সন্দেহ কিন্তু এমনি এমনি একদিনে তৈরি হয়নি। বছরের পর বছর দাগা খেতে খেতে মেয়েরা রাস্তার অপরিচিত যেকোন ছেলেকে দেখলেই সাবধান হয়ে যায়, ভয় পায়, সন্দেহ করে।

এরকম ঘটনায় আজ পর্যন্ত আমি একজন মানুষকেও এগিয়ে আসতে দেখিনি। তোরা অন্তত এগিয়ে যাস কোনো মেয়েকে এরকম ঝামেলায় পড়তে দেখলে।

womenchapter

Leave a Reply