অর্থাভাবে রাবেয়ার ঢাবিতে ভর্তি অনিশ্চিত

দেশের সেরা বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েও ডাকার অভাবে ভর্তি অনিশ্চিত হয়েছে পড়েছে রাবেয়া সুলতানার। তার চোখেমুখে এখন হতাশার ছাপ।

হতদরিদ্র পিতা মোনতাজ আলী ভর্তির মাত্র ১৫ হাজার টাকাও জোগার কড়তে অক্ষম। এ জন্য তিনি সমাজের বিত্তবানদের কাছে আর্থিক সহায়তা কামনা করেছেন। রাবেয়া ঢাবিতে গ ইউনিটে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তিনি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভার হেলাই গ্রামের মোনতাজ আলীর মেয়ে। তার বাবা স্থানীয় মসজিদের মোয়াজ্জিন ও মা শামছুন্নাহার ব্যাগ তৈরী করে সংসার চালান।

মেধাবী ছাত্রী রাবেয়া সুলতানা জানান, ২০১৪ সালে সলিমুননেছা বালিকা বিদ্যালয় থেকে তিনি বাণিজ্য বিভাগ থেকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ ও ২০১৬ সালে কালীগঞ্জ এএফ মহিলা কলেজ থেকে বানিজ্য বিভাগ থেকে জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তির্ণ হন। উচ্চ শিক্ষার আশায় রাবেয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে উর্র্ত্তীণ হন। তার পছন্দের সাবজেট হিসাব বিজ্ঞান।

তিনি জানান, ঢাবিতে সুযোগ পওয়ার পর তার হতদরিদ্র মা-বাবা চিন্তায় পড়ে গেছেন টাকা কি ভাবে জোগাড় করবেন। ভর্তির টাকা না পেলে হয়তো তার লেখাপড়াই বন্ধ হয়ে যাবে।

রাবেয়ার মা শামসুরনাহার জানান, মেয়েকে লেখাপড়া করার জন্য অনেক কষ্ট করেছি। সংসারের কাজের পাশপাশি পরিত্যক্ত বস্তা কেটে বাজারের ব্যাগ তৈরি করে তাকে পড়ালেখা করিয়েছি। আর বারেয়ার বাবা গ্রামের একটি মসজিদের মোয়াজ্জিন হিসেবে সামান্য টাকা উপার্জন করেন। যা আয় হয় তা সংসারে পেছনেই খরচ হয়ে যায়। তিনি আরো জানান, ঢাবিতে ভর্তির জন্য ১৫ হাজার টাকা লাগবে, যা এখনো সংগ্রহ করতে পারেনি। কোথা থেকে এই টাকা সংগ্রহ করবো তা বুঝে উঠতে পারছি না। টাকা না পেলে হয়তো মেয়েকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিই করাতে পারবো না, বলেন শামছুন্নাহার।

রাবেয়ার বাবা মোনতাজ আলী জানান, তিনি ছেলে মেয়ের মধ্যে রাবেয়া ছোট। অভাবের সংসার। কষ্ট করে মেয়েকে এ পর্যন্ত এনেছি। এখন অর্থই মেয়েটির পড়ালেখার জন্য বড় বাধা হয়ে দাড়িয়েছে। কালীগঞ্জ পৌরসভার কাউন্সিলর তোরাপ আলী জানান, আমি চিনি। সে লেখাপড়ায় অনেক ভাল। তাদের অভাব অনটন দেখে বিভিন্ন সময় প্রাইভেট শিক্ষকরা তার কাছ থেকে কোন টাকা নেননি। তোরাপ আলী জানান, হতদরিদ্র রাবেয়ার স্বপ্ন পুরণে সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে আসলে সে সফল হতো।

dailynayadiganta.com

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।