১০ টি দেশের মানুষ যেকারনে বেশি লম্বা হয়

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পাঁচ বছর বয়স থেকে শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধির আন্তর্জাতিক মান নির্ধারণ করেছে। এই শ্রেনীবিন্যাসটি তৈরি করা হয়েছে মাতৃদুগ্ধ পালনকালীন সময় থেকে সেসব পরিবারের শিশুদের মধ্য থেকে, যারা অর্থনৈতিকভাবে অনেকটা স্বচ্ছল পরিবার থেকে আসা। একজন ব্যক্তির উচ্চতা তার পা থেকে মাথার ওপর পর্যন্ত পরিমাপ করা হয়। স্টেডিওমিটার নামক পরিমাপ দিয়ে এটি মাপা হয়।

জিনগত বৈশিষ্ট্য এবং একই পরিবেশ থেকে আসা কিছু বিষয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। সেসব বিষয় মাথায় রেখে আমরা ওইসব দেশের প্রতি দৃষ্টি দিয়েছি যেসব দেশের মানুষের গড় উচ্চতা বিশ্বের অন্যান্য দেশের চেয়ে বেশি। দেখা গেছে, তাদের সবাই ইউরোপের অধিবাসী। এই গড় উচ্চতা পুরুষ-মহিলা উভয় অংশগ্রহণকারীদের বিশ্লেষিত জনগোষ্ঠীর মধ্যক হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস ডটকমের ৭ মার্চ, ২০১৬ সালের তথ্যানুসারে এ প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

১০. ফিনল্যান্ড (৫ ফুট, ৮.৫ ইঞ্চি)
ফিনল্যান্ডের নারী ও পুরুষ উভয়ের গড় উচ্চতা ৫ ফুট, ৮.৫ ইঞ্চি। গবেষণায় দেখা গেছে, তাদের শারীরিক অর্জিত উচ্চতার প্রতিটি স্তরে জিন প্রভাবিত করে। একথাও ঠিক যে পুষ্টি এবং পরিবেশ ও অন্যান্য কারণ বাল্যকালে তাদের জিনগত বৃদ্ধির নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। ফিনল্যান্ডের শিশুদের উপকারী হিসেবে বুকের দুধ খাওয়ানোর প্রতি জোর দেওয়া হয়ে থাকে। ফিনল্যান্ডের পাবলিক পুষ্টি গবেষণা খাদ্য ও স্বাস্থ্য সমস্যা প্রতিরোধের ক্ষেত্রে পারষ্পরিক সম্পর্কটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখে। শারীরিক কার্যকলাপ যেমন খেলাধুলা, খাদ্য অভ্যাস সেদেশের সরকারের গার্হস্থ্য নীতির গুরুত্বপূর্ণ তালিকায় রয়েছে।

৯. সুইডেন (৫ ফুট, ৮.৫ ইঞ্চি)
তালিকার নবম স্থানে রয়েছে সুইডেন যেখানে নারী-পুরুষের গড় উচ্চতা ৫ ফুট, ৮.৫ ইঞ্চি। গবেষণায় দেখা গেছে, ভালো স্বাস্থ্যের অধিকারী মানুষের উচ্চতা ‘বৃদ্ধির’ সঙ্গে সম্পর্কিত এবং সুইডিশরা অবশ্যই ভালো স্বাস্থ্যের অহংকার করতেই পারে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় সুইডেন অতটা জনাকীর্ন নয়। সুইডেনে ভালো পুষ্টি সেদেশের শিশুদের ভালো সূচনা এনে দেয়। কম কার্বোহাইড্রেট এবং উচ্চ চর্বিযুক্ত খাদ্য সম্প্রতি সুইডিশ স্বাস্থ্য কাউন্সিল সুপারিশ করেছে, যা ভবিষ্যতে সেদেশে আদর্শ হতে পারে। পাশাপাশি দেশটির শীতল আবহাওয়া জেনেটিক্সের জন্য বেশি সহায়ক বলে অনুমিত হয়।

৮. সার্বিয়া (৫ ফুট, ৮.৫ ইঞ্চি)
তালিকায় অষ্টম স্থানে রয়েছে সার্বিয়া। স্লাভিক এবং ভূমদ্যসাগরীয় জীন পুল সমন্বয় এই জনগণের প্রাকৃতিক উচ্চতা বৃদ্ধির অন্যতম উৎস। উদীয়মান ব্রাচিসেফালি ডায়নারিক বৈশিষ্ট্য এই উপাদানগুলোর একটি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। শৈশবের সময় থেকে স্লাভিক শরীরচর্চা এবং ব্যায়াম শারীরিক বৃদ্ধিকে দ্রুত প্রভাবিত করার অন্যতম কারণ হতে পারে। সার্বিয় খাবার সব সময় মাংস থেকে দুগ্ধজাত এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ। তাদের খাবারের গ্রহণের ধরন হচ্ছে, দিনের শেষ অংশে খাবার গ্রহণ।

৭. লিথুনিয়া (৫ ফুট, ৮.৭৫ ইঞ্চি)
নিজস্ব নাগরিকদের জাতীয় নরত্বারোপমূলক চিহ্নযুক্ত ৫ ফুট, ৮.৭৫ এর গড় উচ্চতা দেখা যাচ্ছে, দেশটি সপ্তম স্থানে রয়েছে। সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছ থেকে স্বাধীনতা পাবার পর থেকে দেশটিতে স্বাস্থ্যের মান ক্রমাগত বাড়ছে। লিথুনিয়ার অধিবাসীগণ ১৯০০ সালের পর থেকে কমপক্ষে সাত ইঞ্চি শারীরিক বৃদ্ধি পেয়েছে। আলু এবং রাইয়ের রুটি তাদের শারীরিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে। গরুর মাংস, মুরগীর মাংস এবং শুয়োরের প্রোটিনও এক্ষেত্রে সাহায্য করেছে অনেক। শীতল উত্তর জলবায়ুও অস্বীকার করা যাবে না।

৬. জার্মানি (৫ ফুট, ৮.৭৫ ইঞ্চি)
জার্মানির নাগরিকগণ এ তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে। জার্মানিতে খাদ্য সাধারণত তাদের বিয়ার উৎসব এবং সসেজ নির্বাচনগুলোর জন্য বিশ্ব পরিচিত। জার্মানদের মধ্যে খাদ্যাভ্যাসে একটি উক্তি অনুসরণ করা হয়। সেটি হচ্ছে, ‘রাজার মতো ব্রেকফাস্ট, রাজকুমারের মতো মধ্যাহ্নভোজ এবং কাঙালের মতো ডিনার।’ এর মাধ্যমেই জার্মানদের খাদ্যাভ্যাস ফুটে ওঠে যা প্রোটিন সমৃদ্ধ এবং উচ্চ চর্বিযুক্ত। আলু ও গম তাদের প্রধানতম পণ্যদ্রব্য। জার্মানিতে তামাক ও অ্যালকোহল ইউরোপে ব্যবহারের মধ্যে সর্বোচ্চ। এবং এটিকে জার্মানদের উচ্চতা বৃদ্ধির একমাত্র নিয়ামক হিসেবে মনে করা হয় না।

৫. নরওয়ে (৫ ফুট, ৯ ইঞ্চি)
৫ ফুট ৯ ইঞ্চি গড় উচ্চতা নিয়ে নরওয়ের নারী-পুরুষরা তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছে। আগের দিনে ভাইকিংরা ছিল সবচেয়ে লম্বা এবং বর্তমানেও তারা সে ক্যাটাগরিতে রয়েছে। নরওয়ের অধিবাসীদের খাদ্যে প্রোটিন এবং ভালো ক্যালরি থাকে, যা তারা শৈশবে থেকেই বজায় রেখে চলে। গুণগত জীবনমান এবং সামাজিক গতিশীলতা এবং সরকারের কাছ থেকে মানব উন্নয়ন সহায়তার জন্য দেশটি সুপরিচিত। মজুদকৃত তেলের রাজস্ব আয় থেকে যার বেশিরভাগ ব্যয় নির্বাহ করা হয়।

৪. ডেনমার্ক (৫ ফুট, ৯.২৫ ইঞ্চি)
৯.২৫ গড় উচ্চতার দরুন ডেনমার্কের নারী-পুরুষ তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে। ডেনিশরা জিন উচ্চতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে পরিবেশগত বিষয়গুলো পেয়েছে। এবং তারা সৌন্দর্যের জন্য সুপরিচিত। তারা ইউরোপে সবচেয়ে ধনী দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। তাদের মাথাপিছু আয় বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ। ডেনিশ সরকার তার নাগরিকদের চমৎকার সামাজিক সেবা দিয়ে থাকে। জিনগত বৈশিষ্ট্যে এবং খাদ্য তাদের শারীরিক বৃদ্ধির প্রধান কারণ মনে করা হয়।

৩. মন্টিনিগ্রো (৫ ফুট, ৯.২৫ ইঞ্চি)
মন্টিনিগ্রো ডায়নারিক আল্পসে অবস্থিত। চমৎকার আবহাওয়া এবং পর্বতের বিশুদ্ধ বাতাস নাগরিকরা গ্রহণ করে। মন্টিনিগ্রোর বাচ্চাদের ভালো পুষ্টি আছে যা তাদের উচ্চতা বৃদ্ধিতে ভালো সুবিধা দেয়। সেদেশের রন্ধনপ্রনালী ইতালিয়ান, তুরস্ক এবং হাঙ্গেরীয় স্বাদে, যার পুষ্টিমান বেশি বলে প্রমাণিত। দেহের জিনগত বৈশিষ্ট্য অবশ্যই সেদেশের জনগণের উচ্চতা বৃদ্ধির প্রধান নিয়ামক হিসেবে বিবেচিত।

২. নেদারল্যান্ড (৫ ফুট, ৯.৭৫ ইঞ্চি)
নারী-পুরুষ উভয়ের শারীরিক গড় উচ্চতা ৫ ফুট, ৯.৭৫ ইঞ্চির দরুন নেদারল্যান্ড তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, গুণগত জীবনমান, ভালো দুগ্ধজাত খাবার এবং ঠান্ডা জলের মাছ তাদের বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ ঘটনাটির প্রবণতা বিশ্বে দীর্ঘকায় মানুষদের একমাত্র প্রতিনিধিত্ব করে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, নেদারল্যান্ডের সকল সরকারি ভবনের দরজা লম্বা।

১. বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোবিনা (৫ ফুট ১০ ইঞ্চি)
বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা মানুষের দেশের তালিকার শীর্ষে রয়েছে বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোবিনা। দেশটির নারী এবং পুরুষের উভয়ের গড় উচ্চতা ৫ ফুট, ১০ ইঞ্চি। ভূমধ্যসাগরীয় শীতল জলবায়ু এবং উত্তর নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়ার মিশ্রণ দেশটির অধিবাসীদের এই উচ্চতার বড় কারণ। তাদের রন্ধনপ্রনালী হালকা ডিশ ও মসলার ওপর নির্ভরশীল যা তাদের উচ্চতার অন্য কারণ হতে পারে। আরেকটি কারণ হতে পারে গরুর মাংস, ভেড়ার মাংস, পনির ও শাকসবজি এবং ওয়াইন, যা তাদের খাদ্যের অংশ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।