‘রডের বদলে বাঁশ ব্যবহারে ঝুঁকি নেই’ ! – গণপূর্ত বিভাগ

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের নতুন চারতলা একটি ভবনের তিনতলায় লিফটের পাশের জায়গায় রডের বদলে বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে। ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য ভবনে বাঁশের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে গণপূর্ত বিভাগ বলছে, এই বাঁশ ব্যবহার করা হলেও তাতে ঝুঁকির কিছু নেই।

সোমবার বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি নজরে এলে নড়েচড়ে বসে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে মঙ্গলবার তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এএফএম রফিকুল ইসলাম এই কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। কমিটিকে তিনদিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যায় চারতলা ওই ভবনে লিফটে রোগী ওঠানোর সময় ট্রলির চাকায় প্লাস্টার উঠে গিয়ে বাঁশের অংশ বেরিয়ে আসে। ইতোমধ্যে বেরিয়ে পড়া বাঁশের অংশগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এখন তিনতলার লিফট ও মূল ভবনের মেঝের মধ্যে প্রায় পাঁচ ইঞ্চি জায়গা ফাঁকা অবস্থায় রয়েছে। ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে চারতলা এ ভবনটি নির্মাণ শেষে ২০১২ সালে উদ্বোধন করা হয়।

জানা যায়, কয়েকদিন আগে এই ভবনের তৃতীয় তলায় লিফটের সামনের কিছু অংশের টাইলস ভেঙে গেলে সেখানে টাইলস এর নিচে বাঁশ দেখা যায়। এই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। তবে তা পরে কালো কাপড় ও পেপার দিয়ে ঢেকে প্লাস্টার করে দেওয়া হয়। পরে আবারো তা খসে পড়লে বিষয়টি সবার নজরে আসে।
মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার এএফএম রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী গণপূর্ত অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী লতিফুল ইসলাম, উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাহিদ হাসান, মাসুম আল হাসান, আবু হেলাল আনসারী ও নাফিজ মাহমুদ ভবনটি পরিদর্শন করেন।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এএফএম রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি গণপূর্ত বিভাগকে জানানো হলে মঙ্গলবার সকালে গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলীরা হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। তারা দাবি করেছেন, হাসপাতালের মেঝে ও লিফটের মধ্যকার ফাঁকা জায়গার উপরে টাইলস বসানোর জন্যই বাঁশটি ব্যবহার করা হয়েছে। এনিয়ে ঝুঁকির কিছু নেই।’

তিনি আরো জানান, ঘটনা যা-ই হোক, যেহেতু এটি নিয়ে কথা উঠেছে সেহেতু তা তদন্ত করে দেখা হবে। এ জন্য মঙ্গলবার দুপুরে তদন্ত কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। এতে রামেক হাসপাতালের রক্ত পরিসঞ্চালন বিভাগের প্রধান ডা. মোসাদ্দেক হোসেনকে প্রধান করা হয়েছে। ওই কমিটিতে রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী লতিফুল ইসলাম ও একজন ভবন বিশেষজ্ঞকে রাখা হয়েছে। তাদের তিনদিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে সুপারিশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজশাহী গণপূর্তের বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী লতিফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঢাকার মার্কস বিল্ডার্স এই ভবনটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে। আর লিফটের কাজ করে অন্য একটি প্রতিষ্ঠান। তাদের দায়-দেনাও পরিশোধ করে দেওয়া হয়েছে। এতদিন কোনো বিষয় নিয়ে সমস্যা না হওয়ায় তাদের সঙ্গে আর কথা হয়নি। এখন ভবন থেকে বাঁশ বেরিয়ে আসার বিষয়টি সামনে আসায় এখন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। প্রয়োজনে ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘মূলত টাইলস যাতে নিচে পড়ে না যায় বা রোগী বহনকারী ট্রলির চাপে ভেঙে না যায় এ জন্য বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে। এটা বড় কোনো বিষয় নয়। এতে কোনো ধরনের ঝুঁকি নেই। কারণ যেকোনো লিফটের সামনেরই ওইটুকু ফাঁকা জায়গা থাকেই।’

poriborton

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।