মাতাল হয়ে যশোরে মন্দিরের প্রতিমা ভাঙল তিন যুবক

যশোর শহরের একটি কালি মন্দিরে হামলা চালিয়ে প্রতিমা ভেঙেছে তিন মাতাল যুবক। বুধবার রাতে তারা এ হামলা চালায়। এ সময় মন্দিরের লোকজনের চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন এসে মাতাল যুবকদের ধাওয়া করে দুজনকে ধরে পিটুনি দেয়। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। প্রতিমা ভাঙার দায়ে তাদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, শহরের ধর্মতলা কদমতলা এলাকার দাশপাড়া কালিমন্দিরে বুধবার রাতে গীতা পাঠ করছিলেন পুরোহিত সাধন কুমার পাল। এ সময় সেখানে মাতাল অবস্থায় হাজির হয় শামিম, জসিম ও শাওন নামে তিন যুবক। তারা পুরোহিতের হাত থেকে ধর্মগ্রন্থ গীতা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। পুরোহিত বাধা দিলে মাতালরা মন্দিরে থাকা রাধাকৃষ্ণ, লক্ষ্মী, গণেশ ও মনসা মূর্তি ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। মন্দিরের বেড়াও তাদের ধাক্কাধাক্কিতে পড়ে যায়। মন্দিরে হইচই শুনে স্থানীয়রা জড়ো হয়ে শামিম ও জসিমকে ধরে পিটুনি দেয়।

মন্দিরের প্রতিমা ভাঙার ঘটনায় কোতোয়ালী থানার এসআই অরুণ কুমার বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এতে আসামি করা হয়েছে ধর্মতলা এলাকার আব্দুল বারেকের ছেলে শামিম ও সুজলপুর এলাকার টিপু হাওলাদারের ছেলে জসিম হাওলাদারকে।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, বুধবার রাত ১০টার দিকে ধর্মতলা কদমতলার দাশপাড়া সর্বজনীন কালিমন্দিরে পবিত্র গীতা পাঠ করছিলেন পুরোহিত সাধন কুমার পাল। ওই সময় শামিম ও জসিম নামে দুই যুবক মন্দিরে গিয়ে মহড়া দিচ্ছিল। তাদের নিষেধ করা হলে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা মন্দিরের বেড়া টেনে খুলে ফেলে। এ সময় তারা মন্দিরে থাকা রাধাকৃষ্ণের একটি মূর্তিও ভেঙে ফেলে। পুরোহিতের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে তারা পালানোর চেষ্টা করে। স্থানীয় লোকজন তাদের ধাওয়া করে ধরে পিটুনি দেয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। তারা দুজন বর্তমানে পুলিশ পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।

কতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের নিরাপত্তা দিতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

banglatribune

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।