উদীচীর সম্মেলন থেকে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি বন্ধের দাবি

সপ্তদশ জেলা সম্মেলনে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী তিন গুণীকে সংবর্ধনা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ নভেম্বর) নগরীর ডিসি হিলে সংবর্ধিত গুণীরা হলেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক হাসানুজ্জামান চৌধুরী, সাংবাদিক মোহাম্মদ ইউসুফ এবং প্রয়াত সচিব ও লেখক রণজিৎ কুমার বিশ্বাস।

আলোচনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের চেয়ারম্যান শহীদজায়া বেগম মুশতারী শফী। প্রধান অতিথি ছিলেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সভাপতি গোলাম মোহাম্মদ ইদু।

বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক প্রবীর সরদার, কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ডা. চন্দন দাশ, কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কঙ্কন নাগ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুনীল ধর, গণজাগরণ মঞ্চ চট্টগ্রামের সমন্বয়ক শরীফ চৌহান, আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রাশেদ হাসান ও গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের পক্ষে সাইফুল আলম বাবু।

উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের যুগ্ম আহ্বায়ক জয় সেনের সঞ্চালনায় শোক প্রস্তাব পড়েন সহ-সাধারণ সম্পাদক মণীষ মিত্র চৌধুরী। সাংগঠনিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন উদীচী জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শীলা দাশগুপ্তা।

শীলা দাশগুপ্তা বলেন, যশোরে-নেত্রকোনায় প্রতিক্রিয়াশীলরা প্রথম হামলা করেছিল উদীচী ওপর। কিন্তু উদীচীকে থামিয়ে রাখা যায়নি। এই সম্মেলন থেকে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি বন্ধের দাবি জানাচ্ছি। দেশে বিচারহীন সব ঘটনার বিচারের দাবি জানাচ্ছি। আমরা পাহাড়ি-বাঙালি সবাই মিলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে চাই।

প্রবীর সরদার বলেন, সারা দেশে উদীচীর সম্মেলন চলছে। শুনলে অবাক হবেন, এসব সম্মেলনে বাধা দেওয়া হচ্ছে। সরকার দেশে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি জিইয়ে রাখার চেষ্টা করছে। সংঘবদ্ধ হোন। সংবেদনশীলতা ভোঁতা হলে চলবে না। একাত্তরের পরাজিত শক্তি আজও সক্রিয় আছে। তবে তারা সংখ্যায় কম। ঐক্যবদ্ধ হলে তাদের পরাজিত করতে বেশি সময় লাগবে না।

সাইফুল আলম বাবু বলেন, আজও প্রতিবাদী কণ্ঠ উদীচী। ব্রাক্ষণবাড়িয়াসহ দেশে বিভিন্ন স্থানে হামলা, নারী-শিশু নির্যাতন হচ্ছে। এখন বলা হচ্ছে এসব প্রতিরোধে সংস্কৃতি কর্মীদের এগিয়ে আসতে হবে। কিন্তু সংস্কৃতিসেবীদের এগিয়ে নিতে অন্য সময় কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় না।

আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রাশেদ হাসান বলেন, উদীচী আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। উদীচীর এগিয়ে যাওয়া মানে প্রগতিশীল শক্তির এগিয়ে যাওয়া। সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বড় ধাক্কা গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলা। বারবার বলেছি, এদেশ পাকিস্তান-আফগানিস্তান হবে না। এখন নিজেই নিজের প্রশ্নের মুখে। ব্রাক্ষণবাড়িয়ার মতো ঘটনা আজও আমাদের দেখতে হয়। তনু হত্যায় তোলপাড় হয়, তবু ধামাচাপা পড়ে যায়। বারবার রুখে দাঁড়ানোর কথা বলে আমরা স্তিমিত হয়ে যাই।

বৃহস্পতিবার বিকেলে আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান, নাচ, আবৃত্তি ও নৃত্যনাট্য পরিবেশন করে উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী চট্টগ্রাম জেলা সংসদ ও বিভিন্ন ইউনিট কমিটির সদস্যরা।

শুক্রবার (১১ নভেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ মিলনায়তনে উদীচীর সাংগঠনিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এতে আগামী দুই বছরের জন্য নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে।

banglanews24.com

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।