নাসিরনগরে হামলা- বহিষ্কারকারীই তদন্ত করবে তিন আ.লীগ নেতা বহিষ্কারের ঘটনা!

নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) থেকে : নাসিরনগরে হিন্দু বসতবাড়ি-মন্দিরে হামলার ঘটনা কেন্দ্র করে জেলা আওয়ামী লীগ কর্তৃক নাসিরনগর উপজেলারই তিন আওয়ামী লীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কারের ঘটনা তদন্ত করবে জেলা আওয়ামী লীগই।
এ বিষয়ে বুধবার জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। যাতে সাক্ষর রয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকারের।

উপজেলা আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ের একাধিক সূত্র নাম না প্রকাশের শর্তে বৃৃহস্পতিবার আমাদের সময় ডটকমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এই তিন নেতা হচ্ছেন- নাসিরনগর সদর ইউপি চেয়ারমান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক আবুল হাসেম, উপজেলার চাপরতলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজি সুরুজ আলী এবং হরিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুক মিয়া।

তাদের সম্পর্কে অভিযোগ ছিল- তারা হামলা ঘটনার দিন উস্কানির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন প্রত্যক্ষভাবে। এ দায়ে জেলা আওয়ামী লীগ গত ৪ ফেব্র“য়ারি জরুরি বৈঠক করে তাদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

তবে জেলা আওয়ামী লীগের এ সিদ্ধান্ত নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের ছিল প্রশ্ন ও অভিযোগ। এসব হচ্ছে- যাদের বহিস্কার করা হয়েছে, তারা হলেন- স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মৎস্য-প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী এড. ছায়েদুল হকপন্থী। তার সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর বৈরি সম্পর্ক থাকার কারণেই ওই তিন নেতাকে বহিস্কার করা হয়।

কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের একটি সূত্র জানায়, যেহেতু জেলা আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে এবং এর সত্যতা দৃশ্যমান, সেহেতু ঘটনাটি আরও তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করতেই কেন্দ্রের নির্দেশে তদন্ত কমিটি গঠন করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যদি দেখা যায়, জেলা আওয়ামী লীগ সম্পর্কে উঠা অভিযোগ সত্য, তবে যারা ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আর যদি ওই তিনজনকে প্রকৃতই সে ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়- তবে তাদের বিরুদ্ধেও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ দলীয় নিয়মানুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
তবে কত সদস্যের তদন্ত কমিটি, কমিটিতে কারা কারা রয়েছেন- তা জানা সম্ভব হয়নি।

আস

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।