হিন্দুদের জমি দখলে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা’

আওয়ামী লীগ সমর্থকরাও গত কয়েক বছর ধরে হিন্দুদের জমি দখল, মঠ, মন্দির ও বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাটে অংশ নিচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে হিন্দুদের একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে। কিন্তু সরকার নানা অযুহাতে অন্যদের ওপর দায় দিয়ে নিজ কর্মীদের রক্ষা করছে বলেও অভিযোগ করেছে বিএনপিপন্থি এই সংগঠনটি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দুদের ওপর হামলার প্রতিবাদে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে এই অভিযোগ করা হয়। বিক্ষোভটির আয়োজন করে জাতীয় হিন্দু মহাজোট। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা সুজিত রায় নন্দী অবশ্য এই অভিযোগকে ভুয়া বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

ক্ষমতাসীন দলের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয় এই সম্পাদক ঢাকাটাইমসকে তিনি বলেন, ‘এটা একটি ভুয়া সংগঠন, এই সংগঠনকে জামায়াত-বিএনপি পৃষ্ঠপোষকতা করে। তাদের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। ’ আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল বলেন, ‘অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে এই ধরনের কথা বলছেন তারা। এই সরকারের আমলে হিন্দুরা অনেক বেশি নিরাপদ। কিন্তু এরা একটি বিশেষ শ্রেণির এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। তারা যাদের হয়ে মাঠে নেমেছে তারাই সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন করে এ দেশ থেকে ‍উৎখাত করতে চায়’। হিন্দু মহাজোট ছাড়াও জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শ্রী শ্রী রমনা কালীমন্দির ও শ্রী মা আনন্দময়ী আশ্রম পরিচালনা পরিষদ, জনতা ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ মতুয়া মহাসংঘ, বাংলাদেশ সচেতন হিন্দু পরিষদ, জাতীয় হিন্দু যুব মহাজোটসহ বিভিন্ন সংগঠন বিক্ষোভে অংশ নেয়। একই সময় শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করে বিভিন্ন সংগঠন।

তারা নাসিরনগরের ঘটনায় জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ছায়েদুল হকের পদত্যাগ ও শাস্তি দাবি করেন। বেলা সাড়ে ১০ টার পর থেকেই বিক্ষোভকারীরা জড়ো হতে থাকেন। জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকায় বিক্ষোভকারীরা বেলা ১২টার মধ্যে সড়ক থেকে সরে গেলেও শাহবাগ মোড়ে তখনও বিক্ষোভ চালিয়ে যায় কিছু সংগঠন তারা। বিক্ষোভ সমাবেশ, মানববন্ধনের পাশাপাশি সড়কে টায়ার ও কাগজে আগুন ধরিয়ে দেয়। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের সামনে জাতীয় হিন্দু মহাজোটের বিক্ষোভে বক্তারা বলেন, প্রতিদিনই দেশের কোনো না কোনো এলাকায় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, নির্যাতন হয়ে আসছে। কিন্তু প্রশাসন এ বিষয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছে। সরকারি দল বরাবর অন্য দল বা গোষ্ঠীর ওপর দায় চাপিয়ে নিজেদের কর্মীদের রক্ষা করছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক বলেন, চট্টগ্রামের হাটহাজারী, সাতক্ষীরাসহ কোনো এলাকায় ঘটা অপরাধেরই বিচার করেনি সরকার। ফলে একের পর এক অপরাধ ঘটেই চলেছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন নীরবে দেশ ত্যাগ করছে বলেও দাবি করেন তিনি। সমাবেশে আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর হামলার উস্কানিদাতা হিসেবে সন্দেহভাজন ফারুক মিয়াসহ সব অপরাধীকে গ্রেপ্তার, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার, সরকারি খরচে ভাঙচুর করা ঘরবাড়ি ও মন্দির পুননির্মাণের দাবি জানানো হয়।

রমনা কালীমন্দির ও আনন্দময়ী আশ্রম পরিচালনা পরিষদের বিক্ষোভ থেকেও নাসিরনগর হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা, স্বাধীন সংখ্যালঘু কমিশন গঠন, গাইবান্ধায় গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতাল পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন করার দাবি জানান। মন্ত্রী ছায়েদুলের পদত্যাগ দাবি ৩০ অক্টোবর নাসিরনগরে সহিংসতার ঘটনায় হিন্দু সম্প্রদায়কে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ তুলে প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ছায়েদুল হকের পদত্যাগও দাবি করা হয় কর্মসূচিতে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ ছায়েদুল হক হিন্দুদেরকে মালাউনের বাচ্চা বলেছেন। অবশ্য ছায়েদুল এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, কেউ যদি এই কথা প্রমাণ করতে পারে, তাহলে তিনি মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেবেন। মন্ত্রীর এই চ্যালেঞ্জ দেয়ার এক সপ্তাহ হলেও কেউ প্রমাণ নিয়ে হাজির হয়নি।

ঢাকাটাইমস

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।