বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেইটে ভেজা সড়কে কার্পেটিং !

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেইটের বিপরীতে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে ইউটিলিটি সার্ভিসের জন্য সড়কের একধার খোড়া হয় দু’মাস আগে। সিটি করপোরেশনের শর্তানুযায়ী, ওই খোড়া অংশ বালি দিয়ে ভরাট করার কথা। কিন্তু ঠিকাদার সেটা না করে রাবিশ মাটির সঙ্গে কিছু বালি মিশিয়ে ওই গর্ত ভরাট করেন। বৃষ্টি ভেজা মাটির ওপর রাবিশ ও ইটের খোয়া ফেলে রোলার দিয়ে সমান করে দেওয়া হয় সড়কের খোড়া অংশটি। পরে ৭ অক্টোবর ওই ভেজা খোয়ার উপর করা হয় কার্পেটিং বা পিচ ঢালাই।

ভেজা সড়কে চলছে কার্পেটিংপিচ বা আলকাতরার প্রধান শত্রু হলো পানি। তাই ভেজা বা স্যাঁতসেতে স্থানে কার্পেটিং বা পিচ ঢালাই করতে মানা বিশেষজ্ঞদের। তাদের মতে, ভেজা স্থানে কার্পেটিং করলে বেশিদিন টেকে না। এতে কেবল অর্থেরই অপচয় হয়। সেই সঙ্গে দুর্নীতি তো আছেই।

এ অবস্থায় কেন ভেজা খোয়ার ওপর কার্পেটিং করা হচ্ছে, তা জানার জন্য খোঁজাখুজি করেও বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ-র ওই স্থানে ঠিকাদারকে পাওয়া যায়নি। এমনকি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনেরও কেউ সেখানে ছিলেন না। তবে নাম প্রকাশ না করে ঠিকাদারের এক প্রতিনিধি জানান, ‘ভেজাস্থানে কার্পেটিং করলে কিছু হয় না। জরুরি প্রয়োজন হলে সবসময় আমরা এভাবেই কাজ করি।’

নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে মেরামত কাজের এই অনিয়ম রাজধানীতে প্রায়ই চোখে পড়ে। সিটি করপোরেশনের বর্তমানে যে ক’টি স্থানে কাজ চলছে তার অধিকাংশেরই মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এই মান দেখারও যেন কেউ নেই! গতবছর ১৭ জুন এভাবেই দোলাইরপাড় স্কুলের পশ্চিম গেট সংলগ্ন রাস্তার কার্পেটিং করা হয়। তিন মাস না যেতেই রাস্তাটি দেবে যায়।

অন্যদিকে, উন্নয়ন কাজের জন্য খোড়া রাস্তার গর্ত বালি দিয়ে ভরাট করার কথা। কিন্তু প্রভাবশালী ঠিকাদাররা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা মানছেন না। গর্ত থেকে তোলা মাটি দিয়েই তারা গর্ত ভরাট করে দিচ্ছেন। কোথাও কোথাও কিছু বালিও দেওয়া হয়। সোমবার দুপুরে বনানীর কয়েকটি সড়কে এমনই দৃশ্য দেখা গেছে। এ কাজের সময় সিটি করপোরেশনের কাউকে দেখা যায়নি।

বহু রাস্তার উন্নয়ন কাজ শুরু হয়ে আর যেন শেষই হচ্ছে না – এমন অভিযোগ নগরজুড়ে। অভিযোগ পাওয়া গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ যাত্রাবাড়ী শহীদ ফারুক সড়কের উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে ছয় মাসেরও বেশি সময় আগে। এ কাজ আর শেষ হয়নি। ঠিকাদার অর্ধেক কাজ করে তা ফেলে রেখেছেন। এ কারণে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে।

এ প্রসঙ্গে নগর উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী মো. এমদাদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিটুমিনের (আলকাতরা) প্রধান শত্রু হলো পানি। তাই পানির মধ্যে কিংবা ভেজা স্থানে কার্পেটিং করা কিছুতেই বিজ্ঞানসম্মত হতে পারে না। কেননা ভেজা মাটিতে সবসময় আদ্রতা বেশি থাকে। এখানে কার্পেটিং করলে বন্ডিং শক্ত হবে না। এভাবে কার্পেটিং করা হলে গাড়ির চাকার ঘর্ষণে অল্প সময়েই তা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘উন্নয়ন কাজের কার্যাদেশ দেওয়ার সময় প্রতিটি সংস্থা শর্ত বেঁধে দেয়। এই শর্ত মেনে চললে কাজের গুণমান অনেক ভাল থাকে।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পরিস্থিতি বিবেচনায় ভিআইপি সড়কে কখনও কখনও ভেজা স্থানেই কার্পেটিং করতে হয়। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ অত্যন্ত ব্যস্ত সড়ক হওয়ায় ঠিকাদারকে হয়ত তাই করতে হয়েছে। বিষয়টা আমরা খতিয়ে দেখব।’

তিনি আরও জানান, ‘বর্তমানে আমাদের তিন শতাধিক রাস্তার কাজ চলমান রয়েছে। এসব কাজ যাতে মানসম্মত হয়, সেজন্য আমরা চেষ্টা করছি।’

banglatribune

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।