হাসপাতাল থেকে দুই সাঁওতালকে তুলে নিয়ে গেছে পুলিশ !

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে পুলিশ ও র‌্যাবের নেতৃত্বে অভিযানের সময় গুলিতে আহত হয়ে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে ভর্তি হওয়া দুই সাঁওতাল রোগীকে নিয়ে গেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হলে গাইবান্ধার পুলিশ বিমল কিসকো নামের এক রোগীকে নিয়ে যায় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। পরে দুপুরে চরন সরেন নামের অপরজনকেও নিয়ে যায় পুলিশ। গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি সুব্রত কুমার সরকার জানান, হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ায় তারা এই দুইজনকে নিয়ে গেছেন।

হাসপাতালের পরিচালক ডা. আসম বরকতুল্লাহ বিমল কিসকো ও চরন সরেনকে ছাড়পত্র দেওয়ার কথা নিশ্চিত করেন।

এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা ১১টার দিকে রমেক হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স বিভাগের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন কিসকোকে পুলিশি পাহাড়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে দুপুরের দিকে ১৫ নম্বর সার্জিক্যাল ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন চরন সরেনকেও নিয়ে যায় পুলিশ।
বিমল কিসকোকে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ

গত ৬ নভেম্বর গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় সাহেবগঞ্জ আখের খামার এলাকার সাঁওতাল পল্লীতে পুলিশের হামলায় তারা আহত হন। এরপর তাদের আটক দেখিয়ে হাতকড়া পড়িয়ে ও কোমরে রশি বেঁধে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। পরে আদালতের নির্দেশে তাদের দড়ি ও হাতকড়া খুলে দেওয়া হয়।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রংপুর চিনিকলের জমিতে আখ কাটাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও চিনিকল শ্রমিক কর্মচারীদের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষে গত ৬ নভেম্বর পুলিশসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে তীরবিদ্ধ হন ৯ পুলিশ সদস্য এবং গুলিবিদ্ধ হন চার জন সাঁওতাল। এদের মধ্যে তিন জন সাঁওতাল নিহত হন। পরবর্তীতে পুলিশ-র‌্যাব ওই দিন সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এক অভিযান চালিয়ে মিলের জমি থেকে সাঁওতালদের উচ্ছেদ করে। এসময় তাদের ঘরবাড়িতে আগুন দেয় ও লুটপাট চালায় স্থানীয় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় গোবিন্দগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক কল্যাণ চক্রবর্তী বাদী হয়ে রবিবার রাতে ৩৮ জনের নাম উল্লেখ করে সাড়ে ৩শ’ জনকে আসামি দেখিয়ে মামলা দায়ের করেন।

banglatribune

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।