ইসকনের শীর্ষ নেতার কোটি টাকা লুটপাটের গোমর ফাঁস করায় ৩ সদস্য বহিষ্কার !

ইসকন বাংলাদেশের সহ-সভাপতি ও ইসকন সিলেটের (কাজলশাহ) অধ্যক্ষ নবদ্বীপ দ্বীজ গৌরাঙ্গ দাস ব্রহ্মচারীর কোটি টাকা লুটপাটের ঘটনা ফাঁস করে দেয়ায় বহিষ্কার হয়েছে ইসকনের ৩ সদস্য। গতকাল এক জরুরী সভায় সিদ্ধান্তক্রমে সিলেট ইসকন মন্দিরের সহকারী সম্পাদক পান্ডব গোবিন্দ দাস (পিনু সরকার)সহ, ব্রজকৃষ্ণ দাস (বিকাশ ঘোষ), প্রেমনিদী দাস, (প্রিত সরকার) ও বিপীন বিহারী দাসকে (বিনয় দাস) বহিষ্কার করা হয়।

খবরে প্রকাশ, ইসকন বাংলাদেশের সহ-সভাপতি ও ইসকন সিলেটের অধ্যক্ষ নবদ্বীপ দ্বীজ গৌরাঙ্গ দাস ব্রহ্মচারীর বিরুদ্ধে কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৯৪ সালে সিলেটের যুগলটিলা মন্দির পরিচালনার দায়িত্ব নেয় আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ ইসকন। আর সেই থেকে নবদ্বীপ দ্বিজ গৌরাঙ্গ দাস ব্রহ্মচারী ও ভাগবত করুনা দাস ব্রহ্মচারী ইসকন পরিচালনার প্রধানতম দায়িত্বে রয়েছে। দীর্ঘ কয়েক বছর তাদের সরাসরি তত্ববধানে চললেও তাদের কর্মকান্ড নিয়ে তেমন প্রশ্ন উঠেনি।
তবে ইসকনের ভক্তদের দেয়া অনুদানের পরিমাণ যখন বাড়তে থাকে একই সাথে ইসকনের কার্যক্রমের পরিধি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বৃদ্ধির পর প্রশ্ন উঠে অধ্যক্ষ নবদ্বীপ দ্বিজ গৌরাঙ্গ দাস এর বিরুদ্ধে। দীর্ঘ দিন মন্দিরের ব্রহ্মচারীদের মধ্যে বিষয়টি চাপা থাকলেও সম্প্রতি এর বিস্ফোরণ ঘটে। ইসকন পরিচালনাকারী বর্তমান কমিটিরই একটি অংশ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও স্বজন প্রীতি, অর্থনৈতিক অস্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা না থাকার বিষয়ে কেন্দ্রীয় ইসকন কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসকন পরিচালনা কমিটি ও ভক্তদের মাঝে বিভক্তি দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ইসকন সিলেট পরিচালনা কমিটি গঠন নির্দিষ্ট মেয়াদের পর নতুন করে গঠনের কথা থাকলেও তা হচ্ছে না। প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে সভাপতি পদে নবদ্বীপ দ্বিজ গৌরাঙ্গ দাস সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে। মাঝখানে একজন ব্রহ্মচারী সাধারণ সম্পাদক থাকলেও তিনি সংসারী হয়ে গেলে ভাগবত করুণা দাস সাধারণ সম্পাদক হন। এছাড়া বর্তমান কমিটিতে কোষাধ্যক্ষ হিসেবে বিপিন বিহারী দাস, ও সদস্য হিসেবে পান্ডব গোবিন্দ দাস, অকিঞ্চন গৌর দাস এবং অকিঞ্চন চৈতন্য দাস ইসকন পরিচালনা কমিটিতে রয়েছেন। তবে এবার তাদের মধ্যে গ্রুপিং সৃষ্টি হয়েছে। ইসকন সূত্র জানিয়েছে, ইসকন পুরোটাই ভক্তদের অনুদান নির্ভর।

তবে এসব অনুদান পুরোটাই মন্দিরের উন্নয়নে ব্যয় হচ্ছে কি না এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নিত্য সেবা, রেস্টুরেন্ট, দোকান ভাড়া, ভক্তদের নিয়ে ভারত ভ্রমণ, নগর কীর্তন, বিভিন্ন মন্দিরে স্টল প্রদান, ভারত থেকে বই আমদানী ও বিদেশী অনুদান ইসকনের অন্যতম আয়ের উৎস। ফলে বার্ষিক আয় কোটি টাকার উপরে দাঁড়ায়। ইসকন বর্তমান পরিচালনা কমিটির একটি পক্ষদাবী করছে-অনুদানের টাকা দিয়ে তাহিরপুর পনাতীর্থ মন্দির, দোয়ারাবাজারে ইসকন মন্দির ও আনুষাঙ্গিক অবকাঠামো উন্নয়ন করলেও তার কোন হিসাব নেই কর্তৃপক্ষের কাছে। শাহ এন্ড কোম্পানী নিয়মিত অডিট করলেও অনেক অনুদানের বিষয়টি তালিকাভূক্তই হয়নি।

সভাপতি নিজে টাকা কালেকশন করে নিজের মতো করে ব্যয় করেন। ইসকন কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে লিখিত যে অভিযোগ দেয়া হয়, তাতে সিলেটের কমিটির কোষাধ্যক্ষ বিপিন বিহারী দাস, অকিঞ্চন গৌর দাস ও পান্ডব গোবিন্দ দাস অনিয়মের কথা উল্লেখ করেন তারা। অবশ্য পান্ডব গোবিন্দ দাস এখন অধ্যক্ষের পক্ষে অবস্থান করছেন। লিখিত অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, টিএমসিকে মন্দির পরিচালনা কমিটিকে সব সময় অবমাননা করেন সভাপতি নবদ্বীপ দ্বিজ গৌরাঙ্গ দাস।

এতে উল্লেখ করা হয়-বারবার হিসাব চাইলেও নবদ্বীপ গৌরাঙ্গ দাস পরিচালনা কমিটির কাছে হিসাব দিতে বাধ্য নন বলে বলেছেন। এছাড়া মন্দিরের উন্নয়ন কর্মকান্ড, লোক নিয়োগ, সভাপতির সিঙ্গাপুর ভ্রমণের ব্যয়, তাহিরপুর পনতীর্থের উন্নয়ন, দোয়ারাবাজার এর উন্নয়ন। পাথারিয়ায় মন্দিরের কার্যক্রম, পনতীর্থের দেড় কোটি টাকার কোন হিসাব নেই। মন্দির থেকে বহিষ্কৃত ব্যক্তিকে দিয়ে ৩ লাখ টাকার কাজ প্রদান সহ নানা অনিয়মের চিত্র তুলে ধরেন মন্দির পরিচালনা কমিটির তিন সদস্য। এদিকে, ইসকনের পরিচালনা ও অর্থনৈতিক হিসাব- নিকাশ নিয়ে ভক্তরা বিভক্ত হয়ে পড়ছেন।

ইসকন তথা মন্দির পরিচালনা কমিটির কোষাধ্যক্ষ বিপিন বিহারী দাস জানিয়েছেন, হিসাব নিকাশে বড় ধরনের গরমিল রয়েছে। তিনি সভাপতির কাছে বারবার পনতীর্থ মন্দিরের উন্নয়ন ব্যয়, দোয়ারাবাজারের ইসকন মন্দিরের উন্নয়ন ব্যয় সহ বিভিন্ন কর্মকান্ডের হিসাব চাওয়া হয়েছে। তিনি তা জানাননি।

ইসকন বাংলাদেশের সহ-সভাপতি ও ইসকন সিলেটের অধ্যক্ষ নবদ্বীপ দ্বীজ গৌরাঙ্গ দাস ব্রহ্মচারীর আর্থিক দুর্নীতির গোমর ফাঁস করায় বহিষ্কার হতে হলো ৩ সদস্যকে।

খবরের সূত্র:
১) http://bit.ly/2gjbPSJ
২) http://bit.ly/2f6S6Ud

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।