মুক্তিযোদ্ধাকে পিটিয়ে হত্যা: প্রাণনাশের হুমকিতে বাড়ি ছাড়া প্রধান সাক্ষী

মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস ছালাম খানঝালকাঠিতে মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষক আব্দুস ছালাম খানকে পিটিয়ে হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী শিক্ষিকা মরিয়ম আক্তার মুক্তা প্রাণনাশের হুমকিতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি এ প্রতিবেদককে মুঠোফোনে বলেন, ‘মামলার সাক্ষী হওয়ায় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমানের ছোট ভাই আওয়ামী লীগ নেতা ঠান্ডু আমাকে ও আমার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। ’

অজ্ঞাত স্থান থেকে মুঠোফোনে তিনি জানান, জীবনের নিরাপত্তার জন্যই তিনি বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

রাজাপুর থানার ওসি শেখ মুনির উল গিয়াসের প্রতি ক্ষোভ জানিয়ে তিনি আরও বলেন, মামলা করেও বিপদে আছেন তারা। অব্যাহত হুমকি দেওয়ায় তারা ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। নিজ বাড়িতে থাকতে না পারায় অজ্ঞাত স্থানে রয়েছেন।

নারী শিক্ষিকা এলাকা ছাড়ার ঘটনায় নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে চাইলে রাজাপুর থানার ওসি শেখ মুনির উল গিয়াস জানান, প্রাণনাশের কোনও অভিযোগ তার কাছে আসেনি। এ ঘটনায় কোনও আসামিও গ্রেফতার হয়নি।

এদিকে, ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো. মিজানুল হক চৌধুরী বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ঝালকাঠি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মানিক রহমানকে প্রধান করে করা তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। ১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।’

প্রসঙ্গত, মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষক আব্দুস ছালাম খানের বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত আব্দুর রহমান খান কিন্ডারগার্টেনে শিক্ষকতা করতেন রাজাপুরের আমতলি গ্রামের মরিয়ম আক্তার মুক্তা। তিন মাসের বেতন বাকি থাকায় তার বকেয়া বেতন পরিশোধ করতে সোমবার (১৩ নভেম্বর) ওই মুক্তিযোদ্ধা ঝালকাঠি ও পিরোজপুরের সীমান্তবর্তী রাজাপুরের সাতুরিয়া এলাকার বকুলতলায় ওই শিক্ষিকার বাড়িতে যান। ফেরার পথে জমিজমা নিয়ে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে স্থানীয় সাতুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও ইউনিয়ন যুবলীগ সদস্য বাচ্চু হাওলাদার, ৬ নং ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি শাহ আলম, ৬ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে লোকজন ওই শিক্ষিকার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ তুলে মুক্তিযোদ্ধা ছালামকে পিটিয়ে আহত করে। পরে আবারও আমতলা বাজারে নিয়ে মারধর করে। আহত অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে নিজ বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু হয়।

নিহত আব্দুস ছালাম খান পার্শ্ববর্তী পিরোজপুর জেলার ভাণ্ডারিয়ার শিয়ালকাঠি এলাকার বাসিন্দা ও একজন অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন।

এ ঘটনায় নিহতের ছেলে শামসুল আলম মুরাদ বাদী হয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও সাতুরিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য বাচ্চু হাওলাদার ও ৬ নং ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি শাহ আলমসহ নামধারী ৮ জনসহ আরও ২/৩ জনকে আসামি করে মঙ্গলবার রাতে রাজাপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।
এ ব্যাপারে ঝালকাঠি পুলিশ সুপার মো. জোবায়েদুর রহমান এ প্রতিনিধিকে বলেন, আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

banglatribune.com

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।