অসহায় মুসলিম রোহিঙ্গাদের ‘শত্রু’ হিসেবে উপস্থাপন করছে ডেইলি স্টার-প্রথম আলো !

টুডে রিপোর্ট
Noun হিসেবে infiltration শব্দটির দুই ধরনের অর্থ রয়েছে- একটি ধরন মেডিকেল বিষয়ক পরিভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অন্যটি সাধারণ অর্থে।
সাধারণ অর্থ কী- দেখা যাক ডিকশনারীতে:
দ্য ফ্রী অনলাইন ডিকশনারী বলছে–
১.
“a process in which individuals (or small groups) penetrate an area (especially the military penetration of enemy positions without detection).
২.
“The movement through or into an area or territory occupied by either friendly or enemy troops or organizations. The movement is made, either by small groups or by individuals, at extended or irregular intervals. When used in connection with the enemy, it infers that contact is avoided.”
৩.
In intelligence usage, placing an agent or other person in a target area in hostile territory. Usually involves crossing a frontier or other guarded line. Methods of infiltration are: black (clandestine); grey (through legal crossing point but under false documentation); and white (legal).

ক্যামব্রিজ ডিকশনারী বলছে–
১.
“to secretly become part of a group in order to get information or to influence the way that group thinks or behaves.”
ডিকশনারী ডটকম বলছে–
১.
“to move into (an organization, country, territory, or the like) surreptitiously and gradually, especially with hostile intent.”
২.
“to pass a small number of (soldiers, spies, or the like) into a territory or organization clandestinely and with hostile or subversive intent.”
বিশেষ্য হিসেবে “অনুপ্রবেশ” শব্দটির অর্থ একই রকম। যদিও হাতের কাছে বাংলা একাডেমী বা এই ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক কোনো ডিকশনারী না থাকায় বাংলায় এর অবিকল অর্থটা কী দিতে পারলাম না।
তবে এটা বলা যায়, infiltration এর বঙ্গানুবাদ “অনুপ্রবেশ”।
যাইহোক মূল কথা হলো, শব্দ দুটির অর্থ নেতিবাচক। ‘শত্রুতা’ (enmity), ‘শত্রুভাবাপন্ন মনোভাব’ (hostile intent) ইত্যাদি চরম নেতিবাচক অর্থ ধারণ করে এসব শব্দ।
15078943_1342638292413353_2383126657320171671_n

মিয়ানমারে সরকারি বাহিনীর আগ্নেয়াস্ত্রের মুখে বাড়িঘর থেকে পলায়ন করা, স্বজন হারানো, সাগরে ভাসতে থাকা ক্ষুধার্ত একদল শিশু-নারী-পুরুষ যখন একটু আশ্রয়ের জন্য উত্তাল সমুদ্র থেকে কেঁদে কেঁদে তীরে উঠার আকুতি জানাচ্ছে, তখন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো এসব মানুষের মধ্যে ‘শত্রুভাবাপন্ন মনোভাব’ খুঁজে পাচ্ছে!

ডেইলি স্টারের ১৯ নভেম্বর তারিখে তাদের অনলাইনে একটি সংবাদের শিরোনাম করেছে- “Coast Guard foils 125 Rohingyas’ infiltration attempt in Teknaf”।

অবশ্য ২০ নভেম্বর (আজকে) প্রিন্ট সংস্করণে শব্দগুলো একটু পরিবর্তন করে শিরোনাম দিয়েছে- “Coast guards push back 125 Rohingyas”। infiltration শব্দটি এই রিপোর্টে ব্যবহার করেনি।
প্রথম আলোর ২০ নভেম্বরের প্রিন্ট সংস্করণের একটি শিরোনাম- “রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির সতর্ক পাহারা”।
15181565_1342638295746686_557682185232420631_n

কালের কণ্ঠের একই দিনের শিরোনাম- “টেকনাফে ১৩০ রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ ঠেকিয়েছে বিজিবি ও কোস্টগার্ড”।

বাংলানিউজের শিরোনাম- “অনুপ্রবেশ রোধে মায়ানমার সীমান্তে সতর্ক বিজিবি-কোস্ট গার্ড”।

এই একই সংবাদের ভিন্ন রকম শব্দে কেমন শিরোনাম হতে পারে তার একটা উদাহরণ বিবিসি বাংলার একটি প্রতিবেদন। সেটির শিরোনাম- “প্রাণ ভয়ে ভীত শতাধিক রোহিঙ্গা নারী-শিশুকে ‘পুশব্যাক’।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।