দেশে মুক্তিযোদ্ধারা ভিক্ষা করেন আর ভারতীয়দের জন্য ২০০ কোটি টাকা উপহার!

দেশে মুক্তিযোদ্ধারা ভিক্ষা করেন আর ভারতীয়দের জন্য শত কোটি টাকা উপহার!
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হওয়া ভারতীয় নাগরিকদের সম্মাননা জানাবে সরকার। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শহীদ পরিবারগুলোকে নগদ অর্থও দেওয়া হবে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ জন্য ১১৭ কোটি ৩৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ চেয়ে ১৩ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে।
অর্থসচিব মাহবুব আহমেদের কাছে পাঠানো চিঠিতে মোট বরাদ্দের জন্য যে টাকা চাওয়া হয়, তার মধ্যে নগদ সম্মাননা বাবদ বরাদ্দের অংশ ১০৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা। অন্য খরচের মধ্যে রয়েছে সম্মাননা ক্রেস্ট তৈরি বাবদ ৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা, সনদ তৈরি বাবদ ২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, ভ্রমণ ব্যয় বাবদ ১ কোটি ২৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং আনুষঙ্গিক ব্যয় বাবদ ৫০ লাখ টাকা।

জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গত বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রথম আলোকে বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় নাগরিকদের রক্তদানে আমাদের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। ভারতীয় শহীদদের আমরা সম্মাননা জানাব। আমি মনে করি, আরও আগেই তা জানানো উচিত ছিল।’ ভারতীয় শহীদদের উত্তরাধিকারীদের হাতে অর্থ তুলে দেওয়ার ইচ্ছাও সরকারের আছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
এই সংবাদ পড়ার পর মনে পড়ে যায় বাংলাদেশি ভিক্ষুক মুক্তিযুদ্ধোদের কথা! যারা গত ৪৫ বছর ধরে ন্যুনতম সম্মান তো দুরের কথা, উল্টো ভিক্ষার ঝুলি হাতে নিয়ে মানুষের দয়ায় জীবন ধারণ করছেন।

বাংলাদেশি পত্রপত্রিকায় এখানকার মুক্তিযুদ্ধোদের দুর্দশা নিয়ে কয়েকটি সংবাদের শিরোনাম একটু দেখে নেয়া যায়–

৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬ বিডিনিউজের শিরোনাম- “ভিক্ষা করে জীবন চালানো মুক্তিযোদ্ধা মিরনকে স্বীকৃতি দিতে নির্দেশ”।
১০ মে ২০১৬ ইত্তেফাকের শিরোনাম- “ভিক্ষা করে সংসার চালাচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধা মুরাদ আলী”।
৮ আগস্ট ২০১৬ ইত্তেফাকের শিরোনাম- “ভিক্ষা করে সংসার চালান মুক্তিযোদ্ধা বেলাল”।
৫ মে ২০১৬ স্বাধীনকথা অনলাইনের শিরোনাম- “ভিক্ষা করে বেঁচে আছেন মুক্তিযোদ্ধা রাজ্জাক”।
বাংলাট্রিবিউনের শিরোনাম- “ভিক্ষা করে জীবন চলে মুক্তিযোদ্ধা সাহেব আলীর”।

এরকম আরো আছে শত শত সংবাদ। নিজের দেশের জীবিত মুক্তিযুদ্ধোদের হাতে ভিক্ষার ঝুলি রেখে অবৈধ নির্বাচনে সমর্থন দেয়ার কারণে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী ভারতের সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্যদের পরিবারকে এভাবে শত কোটি টাকা উপঢৌকন হিসেবে শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের অসুস্থ্য মানসিকতার একটি ছোট্ট প্রমাণ।

bdtoday

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।