২২০ রানেই অলআউট বাংলাদেশ

লাঞ্চের আগে প্রথমবার যখন রিভিউ নিলেন, তাতে দুঃখ প্রকাশ করে নিজের সিদ্ধান্ত ফিরিয়ে নিতে হলো মাঠ আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনাকে। এরপর দুরন্তবেগে সেঞ্চুরি তুলে নেওয়ার পরপরই যখন আবারো রিভিউয়ের শরণাপন্ন হলেন, রক্ষা হলো না! অফস্ট্যাম্পের বল ব্যাট-আপ করার ভঙ্গী ছাড়াই প্যাড এগিয়ে দিয়ে সাজঘরের পথ খুঁজে নিলেন তামিম ইকবাল। টাইগার উদ্বোধনীর এই অলস ভঙ্গীর ফেরার ঘটনাটুকু যেনো মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে ‘বিপর্যয়’ রূপে সংক্রমিত হলো। যার প্রভাবে টাইগার ব্যাটসম্যানরা এলেন আর উইকেটে ছুঁড়ে দিয়ে সাজঘরে ফিরলেন! একসময় ১ উইকেটে ১৭১ রান থেকে পরের ৪৯ রানেই ৯ উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ।

শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে শুক্রবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৬৩.৫ ওভারে ২২০ রান তুলেছে বাংলাদেশ। তামিম ইকবালের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি ও মুমিনুল হকের ফিফটিতে এই রান তুলেছে স্বাগতিকরা।

আর তামিম-সাকিবদের হন্তারক হয়ে সবচেয়ে সফল মঈন আলি। ৫৭ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন তিনি।

অথচ সকালে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে তৃতীয় ওভারেই ইমরুল কায়েসকে (১) হারালেও দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশ। তামিম-ইমরুলের ব্যাটে টাইগার ক্রিকেটের সোনাঝরা সময়ের গল্পের দেখাই মিলছিল। পরে তামিমের সাজঘরে ফেরার মধ্য দিয়েই ব্যাটিং বিপর্যয়ের শুরু হয়।

নিজের খেলা ২০তম বলে প্রথম রান নেওয়া তামিম দ্রুতই হাত খুলে ব্যাট চালাতে শুরু করলে রানের চাকাও দ্রুত ঘুরতে শুরু করে বাংলাদেশের। লাঞ্চের আগে আর কোনো উইকেট না হারিয়ে ১১৮ রান তুলে ফেলে স্বাগতিকরা। তামিম ফিফটি তুলে নেন ৬০ বলে।

বিরতির পর ফিরেও সহজাত খেলাটাই খেলতে থাকেন তামিম। মঈন আলির করা ৪০তম ওভারের চতুর্থ বল সীমানার বাইরে পাঠিয়ে সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন তিনি। ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরি তুলেই অবশ্য সাজঘরে ফিরেছেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৬ টেস্টে এটি তার তৃতীয় সেঞ্চুরি। ফেরার আগে মুমিনুল হকের সঙ্গে ১৭০ রানের জুটি গড়েছেন। নিজের ১০৪ রানের ইনিংসটি ১২ চারে ১৪৭ বলে সাজিয়েছেন তিনি।

মুমিনুলও অবশ্য বেশিক্ষণ টেকেননি। মঈনের বলে বোল্ড হয়ে ৬৬ রানে সম্ভাবনাময় ইনিংসটির সমাপ্তি টেনেছেন তিনি। তাকে দ্রুতই অনুসরণ করেছেন ১৩ রান করা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। স্টোকসের বলে স্লিপে কুককে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি।

অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমও এদিন ক্রিজে বেশি সময় কাটাতে পারেননি। স্টোকসের করা ৫৩তম ওভারের পঞ্চম বলে মাথায় আঘাত পেয়ে উইকেটে লুটিয়ে পড়েছিলেন, কিছুক্ষণ পরিচর্যা নিয়ে অবশ্য ব্যাটিং চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু পরের ওভারেই মঈন আলির বলে লেগসাইডে কুকের দুর্দান্ত ক্যাচ হয়ে সাজঘরে ফিরেছেন টাইগারদের সাদা পোশাকের দলনেতা। নামের পাশে যোগ করতে পেরেছেন মাত্র ৪ রান।

পরে রানের খাতা খোলার আগেই সাব্বির রহমান সাজঘরে ফিরলে বড় ধরনের চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। সাব্বিরও স্টোকসের শিকারে পরিণত হন। চা রিবতির পরও নিয়মিত উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। শুভাগত হোম (৬), মেহেদি হাসান মিরাজ (১) ও সাকিব আল হাসান ৮ রানে সাজঘরে ফেরেন। সাকিব ফেরার পর পেসার কামরুল ইসলাম রাব্বিকে আউট করে টাইগার ইনিংসের সমাপ্তি টানেন মঈন।

মঈনের পাঁচ উইকেটের দিনে ক্রিস ওকস ৩টি ও বেন স্টোকস ২টি করে উইকেট নিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।