বাংলাদেশ সীমান্তে আরও ভাসমান আউটপোস্ট বসাবে ভারত

নদীপথে নজরদারি জোরদার করতে আগামী বছর বাংলাদেশের সীমান্ত বরাবর আরও কিছু ভাসমান আউটপোস্ট স্থাপন করবে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। বর্তমানে সুন্দরবন এলাকায় এই ধরনের তিনটি বর্ডার আউটপোস্ট রয়েছে।

নতুন করে আরও আউটপোস্ট বসানোর সিদ্ধান্ত সম্পর্কে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্থান টাইমসকে নিশ্চিত করেছেন বিএসএফ এর দক্ষিণবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের মহাপরিদর্শক পি এস অঞ্জনেইয়ুলু। তবে মোট কয়টি আউটপোস্ট স্থাপন করা হবে, তা জানাননি তিনি।

১ জুলাই ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে জঙ্গি হামলার ঘটনায় ২০ জনের মৃত্যুর ঘটনায় দায় স্বীকার করে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস (ইসলামিক স্টেট)। এরপর থেকেই তাদের তৎপরতা নিয়ে দিল্লির উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে হিন্দুস্থান টাইমস। শনিবারের ওই প্রতিবেদনে তারা জানিয়েছে, গুলশান হামলাকে বাংলাদেশ সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধির কারণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নদীপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে দিল্লি।

হিন্দুস্থান টাইমস লিখেছে. এর আগে ২০০৮ সালে মুম্বাই হামলার সঙ্গে জড়িত লস্কর-ই-তৈয়বার সদস্যরাও জলপথেই সীমান্ত পাড় হয়ে মুম্বাই পৌঁছায়। ফলে জলসীমান্তের প্রহরা জোরদার করাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, মুম্বাই হামলা চার দিন ধরে অব্যাহত ছিল এবং এতে ১৬৪ জনের মৃত্যু হয়। এই হামলাকে আধুনিক বিশ্বের জঙ্গি তৎপরতার অন্যতম ভয়াবহ হামলা বলে উল্লেখ করেছে হিন্দুস্থান টাইমস। তাদের দাবি অনুযায়ী, এই হামলার পর থেকেই ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার নদী ও সমুদ্রপথে নিরাপত্তা জোরদার করার উদ্যোগ গ্রহণ করে। প্রতিটি রাজ্য সরকারের প্রতি একই পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

হিন্দুস্থান টাইমস জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার ইতোমধ্যে কোস্টাল পুলিশ স্টেশন স্থাপন করেছে । বৃদ্ধি করেছে উপকূলীয় পুলিশ সদস্যের সংখ্যা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিএসএফ কর্মকর্তা বলেন, ‘এক একটি বর্ডার আউটপোস্টে ৩৫ থেকে ৪০ জনের একটি দল নিয়োগ করা হবে। প্রত্যেক দলের কাছে ৪টি বা ৫টি করে স্পিডবোট থাকবে। বোটগুলো এলাকায় টহল দেবে। দরকারে পুলিশসহ অন্যান্য নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে।’ তবে তার মতে, ভাসমান বিওপি স্থাপিত হতে ১ বছরের মতো সময় লেগে যেতে পারে।

হিন্দুস্থান টাইমস জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও ভারতের দক্ষিণবঙ্গকে বিভক্ত করে রেখেছে ইছামতি নদী। সেই নদীর ৮০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে স্থাপিত হবে এইসব আউটপোস্ট। তারা জানিয়েছে, সুন্দরবন অঞ্চলে জলসীমায় ১০২টি দ্বীপ রয়েছে যার ৫৪টিতে মানুষ বাস করে। বাকিগুলো গভীর অরণ্য ও সেখানে বন্যপ্রাণীর বসতি।

দক্ষিণবঙ্গ ফ্রন্টিয়ার বিএসএফের ডিআইজি আর পি এস জয়সয়াল বলেন, ‘আমাদের সদস্যরা ইতোমধ্যে চব্বিশ ঘণ্টাই প্রহরা জারি রেখেছে, কিন্তু বিওপি গুলো হয়ে যাওয়ার পর পাহারার মান অনেকগুণে বৃদ্ধি পাবে।’

হিন্দুস্থান টাইমস দাবি করেছে, ভারতের বর্তমান সরকার বাংলাদেশ সীমান্ত বরাবর পাহারা জোরদার করেছে এবং সীমান্তপথে গরু পাচার কমিয়ে এনেছে। ক্ষমতায় আসার পর পরই বিজেপি সরকার এ বিষয়ে বিএসএফকে নির্দেশনা দেয়। স্পিডবোটের সাহায্যে গরু পাচারকারীদের ধরে ফেলা সম্ভব হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।