গোপন ভিডিও ধারন সমাজের আরেকটি ব্যাধি !

রাজধানীর ধানমন্ডিতে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এক তরুণীর ভিডিও ধারণের চেষ্টার সময় প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ব্লাড এবং ইউরিন টেস্ট করতে ইউরিন কালেক্টের জন্যে তরুণী টয়লেটে যায়, একপর্যায়ে সে দেখতে পায় টয়লেটের দরজার নীচ দিয়ে তাকে ভিডিও করা হচ্ছে এবং সে লোকটাকে ধরে ফেলে এবং মোবাইল জব্দ করে পুলিশে দেয় ।

আজকাল শপিং মলের ট্রায়াল রুমে গোপন ক্যামেরার মাধ্যমে ভিডিও ধারন করা হয় । বর্তমানে ঢাকায় নারীদের অন্যতম আতঙ্কের নাম ‘ট্রায়াল রুম’। শপিং মলে পছন্দের কাপড় কিনে মাপ ঠিকঠাক দেখার জন্যে ট্রায়ালে গিয়েই পড়ছেন বিপাকে।ট্রায়াল রুমে গোপন ক্যামেরায় গোপন ভিডিও চিত্র ধারন করছে নামকরা কিছু শপিং মল ও । বর্তমানে এই সংশয়ে সংশয়ে কেউ পা বাড়তে চান না ট্রায়াল রুমের দিকে। কারণ ট্রায়াল রুমের ফাঁক ফোঁকর দিয়ে গোপনে ওঁৎ পেতে থাকে সিসি ক্যামেরা। আর কিছু মল মালিক সিসি ক্যামেরায় ধারণকৃত ছবি এমএমএস বা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে বাধাচ্ছে চরম বিপত্তি। কিছুদিন আগে এ নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয় দেশের গণমাধ্যমগুলোতে। দেশের শপিংমলগুলোতে তখন থেকে ‘ট্রায়াল রুম আতঙ্ক’ বিরাজ করছে নারীদের উপর ।

আজকাল দেখা যায় বিভিন্ন আবাসিক হোটেলের মধ্যে গোপন ক্যামেরার মাধ্যমে ভিডিও ধারন করা হয়। সিকিউরিটির অযুহাত দেখিয়ে নামকরা হোটেলের মধ্যেও গোপনে রাখা হয় সিসি ক্যামেরা , আর সেই ক্যামেরা দিয়ে ধারন করা হয় রুমে অবস্থিত কাপলদের ভিডিও। পরবর্তীতে সেসব ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয় হোটেলের মালিক পক্ষ কিংবা কর্মকর্তা বৃন্দ। আবাসিক হোটেলগুলাতে এসব নিয়ে আরও একটি আতংক থেকে যায়, গোপন ভিডিও চিত্র ধারন করে কাপলদের কাছ থেকে সেই ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে হাতিয়ে নেয় লক্ষ লক্ষ টাকা। অনেক সময় টাকায় ও পাড় পাওয়া যায়না, প্রেমিক প্রেমিকার ক্ষেত্রে অনেক ক্ষেত্রে প্রেমিকাকে হারাতে হয় নিজের সর্বস্ব।

আজ আবার নামকরা এক হাঁসপাতালে ভিডিও ধারনের অভিযোগ পাওয়া গেলো। শপিং মলের ট্রায়াল রুম ও আবাসিক হোটেল গুলাতে ভিডিও চিত্র ধারনের আতংকের পাশাপাশি যোগ হল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভিডিও চিত্রধারনের আতংক। সমাজের বড় বড় স্তর ও নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান গুলা যখন এসব অপকর্মে লিপ্ত তখন সাধারন মানুষের আস্থার প্রতিক রইলনা আর কোথাও।

নামী দামী শপিং মল ও নামী দামী ব্র্যান্ডের দোকান গুলাতেই যখন মেয়েদের ইজ্জত ও সন্মান নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয় তাহলে ছোটখাটো দর্জিদের দোকান ও সাধারন শপিং মল গুলাতে নারীদের কতটা সন্মান দেওয়া হয় তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। পপুলারের মতো নামকরা এক হাঁসপাতালে যদি নারী রোগীর ইজ্জত নিয়ে এভাবে ছিনিমিনি খেলা হয় তবে চিকিৎসার জন্যে সাধারন মানুষ সাধারন হাঁসপাতাল গুলাতে কতটা হ্যাস্তনেস্ত হয় তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।
গোপনে ভিডিও ধারন সমাজের আরেকটি ব্যাধির নাম, যা কিনা সমাজের কিছু নোংরা পুরুষের চারিত্রিক সনদ।

যারা তরুণীদের ইজ্জত নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে খেলতে এক সময় নিজের বোনের ইজ্জত নিয়ে খেলতেও দিধাবোধ করেনা। আজ পর্যন্ত কোন মহিলাকে শুনিনি পুরুষের গোপন ভিডিও ধারন করতে , অথচ প্রতিনিয়ত দেখা যাচ্ছে নারীদের গোপন ভিডিও ধারনে পুরুষ সমাজের কিছু নোংরা কিট সদাব্যাস্ত । এরা পুরুষ জাতির কলংক । এরা সমাজের ধ্বংসাত্মক ত্রাস । এদের নেই কোন ধর্ম নেই কোন জাত। এরাই একসময় সমাজে ধর্ষক হিসেবে নিজেদের মুখোশ উন্মোচন করে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কিংবা সরকারের দিকে তাকিয়ে না থেকে নিজেরাই এদেরকে কঠিন শাস্তি দেই। একজনকে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দিতে পারলে বাকিরা এমনিতেই ঠিক হয়ে যাবে নীরবে। তাই আসুন এদেরকে প্রতিহত করি, সমাজকে সুন্দর করে গড়ে তুলি। (ফেইসবুক থেকে নেয়া)

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।