আ. লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে নতুন মুখ বেশ কিছু: কাদের

আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীতে নতুন সাতজনের অন্তর্ভুক্তির পর দলটির কেন্দ্রীয় কমিটিতে আরও কয়েকটি নতুন মুখ আসার খবর দিয়েছেন দলটির নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

শুক্রবার রাতে গণভবনে দলের নতুন সভাপতিমণ্ডলীর প্রথম বৈঠকের পর সাংবাদিকদের একথা বলেন কাদের।

বৈঠক শেষে ওবায়দুল কাদের বলেন, সম্পাদকমণ্ডলীর দুই থেকে তিনজন, সভাপতিমণ্ডলীর তিনজন এবং উপদেষ্টা পরিষদের চারজন ছাড়া সবার নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে।

শনিবার তা প্রকাশ করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “এবার কমিটিতে বেশ কিছু নতুন মুখ আসছে। তৃণমূল থেকে অনেকে এসেছে। নতুন কিছু মুখ, যারা লাইম লাইটে ছিল না।”

আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় কাউন্সিল শেষে গত ২৩ অক্টোবর সভাপতিমণ্ডলীর ১৪ সদস্যাদের নাম ঘোষণা করা হয়। দলের সভাপতি শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের পদাধিকার বলে এই ফোরামের সদস্য। সর্বোচ্চ এই নীতি-নির্ধারণী ফোরামের তিন সদস্যদের নাম এখনও ঘোষণা হয়নি।

সম্মেলনের দুই দিন পর ওবায়দুল কাদের সম্পাদকমণ্ডলীর ২৭ সদস্যদের ২২ জনের নাম ঘোষণা করেন। তাদের মধ্যে আটজন সাংগঠনিক সম্পাদকের তালিকায় পুরনোদের সঙ্গে নতুন যোগ হন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এনামুল হক শামীম এবং চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

এছাড়া সম্পাদকমণ্ডলীর যে ১৪ জনের নাম ঘোষণা করা হয় তাদের মধ‌্যে ছয়টি পদে নতুন মুখ দেখা যায়।

অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক পদে বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি রংপুরের সংসদ সদস্য টিপু মুনশি, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে সুজিত রায় নন্দী, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক পদে মৃণাল কান্তি দাস, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক পদে শামসুন্নাহার চাঁপা, সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক পদে স্বাচিপ ‍নেতা ডা. রোকেয়া সুলতানা এসেছেন নতুন।

সভাপতিমণ্ডলীর তিনটি ছাড়াও সম্পাদকমণ্ডলীর পাঁচটি, উপ সম্পাদকের দুটি এবং কার্যনির্বাহী সংসদের ২৮টি পদে কারা দায়িত্ব পাবেন তা ঘোষণার অপেক্ষায়।

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে তিন ঘণ্টার এই বৈঠকে মন্ত্রিসভায় রদবদল নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন জানিয়েছেন।

তবে মন্ত্রিসভায় রদবদল হচ্ছে কি না সে প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, “এটা প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার।”

দলীয় সভানেত্রীর নেতৃত্বে আগামী ৬ নভেম্বর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্যরা টুঙ্গীপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাবেন বলে জানান তিনি।

পরে ৮ নভেম্বর বিকাল ৪টায় গণভবনে দলের নতুন কমিটির কার্যনির্বাহী সংসদের প্রথম বৈঠক হবে।

কেন্দ্রীয় বিভাগীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদকদের নাম প্রকাশে আরও সময় লাগবে জানিয়ে কাদের বলেন, “এটা একশ’র মধ্যে সীমিত থাকবে।”

সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের মধ্যে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, কাজী জাফর উল্যাহ, সাহারা খাতুন, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, নুরুল ইসলাম নাহিদ, আব্দুর রাজ্জাক, ফারুক খান, আবদুল মান্নান খান, রমেশ চন্দ্র সেন ও পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

ছিলেন না শুধু সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। শুক্রবারই লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন দলটির সদ্য বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক।
‘জনগণের সমস্যা সরকারকে জানান’

বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে শেখ হাসিনা দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে জনগণের সমস্যা চিহ্নিত করে তা সরকারকে জানাতে দলের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, “দলের দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের সমস্যা চিহ্নিত করে সরকারকে জানানো। আমরা আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন করব, দল আমাদের সহযাগিতা করবে।”

আওয়ামী লীগ ‘শুধু রাজনৈতিক দল নয়, একটি প্রতিষ্ঠান’ মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, “আওয়ামী লীগ দেশকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। এখন আমাদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন করতে হবে।

“দলের একটা দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের সমস্যা চিহ্নিত করে সরকারকে জানানো। আমরা আর্থ সামাজিক উন্নয়ন করব, দল আমাদের সহযোগিতা করবে।”

সম্মেলন অত্যন্ত সফল হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “সম্মেলনে আসা বিদেশি অতিথিরাও তা বলেছেন, তারা আমাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রশংসা করেছেন। আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি; বাংলাদেশ বিশ্বসভায় মাথা উঁচু করে চলবে।”

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।