বাংলাদেশী বিশেষজ্ঞদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করলেন ভারতীয় নাগরিক

বাংলাদেশ-ভারত পাওয়ার ফ্রেন্ডশিপ কোম্পানি’র (বিআইপিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক উজ্জ্বল কান্তি ভট্টাচার্য। তিনি একজন ভারতীয় নাগরিক। এই বিদেশি নাগরিক বাংলাদেশে সুন্দরবন বাঁচানোর আন্দোলন যারা করছেন তাদেরকে বলছেন ‘এত পণ্ডিত’। ‘পণ্ডিত’ বলে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করছেন। এদের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা আছেন, দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আছেন। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিমান জ্বালানি বিশেষজ্ঞ আছেন। তাদের অনেকে মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর বহু দেশে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেছেন, করছেন। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরিবেশ ও প্রাণী বিজ্ঞানী আছেন। রামপালবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত তাদের অনেকে বাংলাদেশে তো বটেই, আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটেও খ্যাতিমান এবং সম্মানিত ব্যক্তিত্ব।

তাদেরকে অবজ্ঞাসূচক ‘পণ্ডিত’ বলে বিষোদ্গার করছেন উজ্জ্বল কান্তি ভট্টাচার্য। তিনি কে? পূর্বেই বলেছি, তিনি একজন বিদেশি, ভারতীয়। বাংলাদেশ-ভারত যৌথ উদ্যোগে যে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে, তাতে বাংলাদেশের বিনিয়োগ ৭০%। যদিও অসম চুক্তিতে মালিকানা ৫০% : ৫০%। তিনি ভারতীয় নাগরিক, ভারতের কর্মচারী, বাংলাদেশেরও একজন কর্মচারী- এর বেশি কিছু নন। তিনি ভারতীয় সরকারেরও কেউ নন। এরকম একজন কর্মচারী, বাংলাদেশের সবচেয়ে সম্মানিত মানুষদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য, অসম্মান করছেন বাংলাদেশে বসে। বাংলাদেশের জনগণের অর্থে তার বেতন-ভাতা দেয়া হচ্ছে।

এমন ঘটনা কি পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে ঘটা সম্ভব? একবার চিন্তা করুন তো, বাংলাদেশের কোনো নাগরিক ভারতে গিয়ে সেদেশের সম্মানিত দূরের কথা, কোনো একজন নাগরিককে অসম্মান করে কথা বললে, ভারত সরকারের প্রতিক্রিয়া কী হতো? উজ্জ্বল কান্তি ভট্টাচার্যের মুখের ভাষা, আর সীমান্তে বিএসএফের আচরণ- একই রকম। রাইফেল দিয়ে গুলি করে বাংলাদেশের মানুষ হত্যা করলেও আমাদের সরকার নির্বিকার থাকে। উজ্জ্বল কান্তিরা মুখের ভাষা দিয়ে সম্মানিত মানুষদের অসম্মান করলেও সরকারের কিছু যায় আসে না।

লেখক: গোলাম মোর্তাজা
সম্পাদক, সাপ্তাহিক

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।