ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন মুক্তিযোদ্ধা রাজ্জাক

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ ১৯৭১ থেকে ২০১৬। স্বাধীনতা অর্জনের ৪৫ বছর পার করেছে বাংলাদেশ। সেদিন সাড়ে ৭ কোটি বাঙ্গালী এখন ১৭ কোটি ছুই ছুই।

পাল্টে গেছে বাংলার চিত্র। তবুও পাল্টাইনি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাকের ভাগ্য। অর্ধহারে অনাহারে দিনানিপাত করছেন তিনি।বয়সের ভারে কাজ করতে না পারায় ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি।

এমনকি মেলেনি মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি।মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাকের বাড়ী মাগুরা সদর উপজেলা নিজনান্দুয়ালি গ্রামে।
প্রতিদিন ভিক্ষা করতে আসেন ঝিনাইদহ শহরে।

মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানের সাড়া দিয়ে তিনি ভারতের বনগাঁ কাঠাল বাগান এলাকায় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।প্রশিক্ষণ শেষে শৈলকুপা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রহমত আলী মন্টুর নেতৃত্বে শৈলকুপার আলফাপুর, কুমিরাদহ, আবাইপুর, এ বাগনী এলাকায় যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার ৪৫ বছর পুর্তি হলেও আজও তার স্বীকৃতি মেলেনি। তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন তার পরিচয় পত্র দিয়েছেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এর চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আব্দুল আহাদ চৌধুরী।
শৈলকুপা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রহমত আলী তার সনদপত্র দিয়েছেন। মাগুরা জেলা মুক্তিযোদ্ধাদের ১২৫ নং তালিকায় তার নাম থাকলেও স্বীকৃতি পাননি সে।

সরকারী সহযোগিতার জন্য তিনি বার বিভিন্ন মহলে ধর্ণা দিলেও তার কথায় কর্ণপাত করেনি কেউ। মুক্তিযোদ্ধা ভাতা তো দূরের কথা, বয়স্ক ভাতাও জোটেনি তার কঁপালে। অসুস্থ্য আব্দুর রাজ্জাক একদিন ভিক্ষায় বেরুতে না পারলে অভুক্তই থাকতে হয় সারাদিন সংসারের সবাইকে। চিকিৎসার অভাবে প্রায়ই রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখা যায় তাঁকে।

শৈলকুপা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রহমত আলী মন্টু বলেন, আব্দুর রাজ্জাক আমার নেতৃত্বে বেশ কয়েকটি যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছেন। তিনি একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা কিন্তু আজ পর্য়ন্ত তার স্বীকৃতি মেলেনি কি কারণে তা আমার জানা নেই। তার বাড়ী পার্শবর্তী জেলায় হওয়ার কারণে আমি কিছুই করতে পারছি না।

এ ব্যাপারে মাগুরা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নবুয়াত হোসেন মোল্লার সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আব্দুর রাজ্জাককে সেভাবে চিনি না। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড তার বিষয়ে জানতে পারে। সেখানে যোগাযোগ করে বিষয়টি জানতে পারেন।

আতিকুর রহমান

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।