বর্ষবরণে যৌন হয়রানি: প্রতিবেদন দাখিল ২৮ নভেম্বর

টিএসসিতে পয়লা বৈশাখে যৌন হয়রানির অভিযোগে দায়ের করা মামলাটি পুনঃতদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামি ২৮ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। আজ সোমবার (৭ নভেম্বর) মামলার পুনঃতদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল । পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মামলার পুনঃতদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না করায় ঢাকা মহানগর হাকিম দেবব্রত বিশ্বাস এ দিন ধার্য করেন। এ মামলায় গত ১০ মার্চ গ্রেফতারকৃত আসামি মো. কামালকে পাঁচ দিনের রিমান্ড প্রদান করেন আদালত।

ওই দিন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপ-পরিদর্শক আব্দুর রাজ্জাক যৌন নির্যাতনের ওই ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের মামলায় কামালকে জেল হাজত থেকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড প্রার্থনা করেন। ঢাকা মহানগর হাকিম মো. জাকির হোসেন টিপু শুনানি শেষে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, কামালকে গত ২৮ জানুয়ারি ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করা হয়। মামলার আগের তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে কামাল স্বীকার করেছেন, মামলার ঘটনা তদন্তকালে বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে সংগ্রহ করা ছবির সঙ্গে তার ছবির মিল রয়েছে। তাই ঘটনার সঙ্গে তার জড়িত থাকা সম্পর্কে এবং অপর আসামিদের খুঁজে বের করার জন্য তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি। শুনানি শেষে আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।কামাল হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে আদালতে হাজির ছিল।

এর আগে গত ৩১ জানুয়ারি দুই দিনের রিমান্ড শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক দীপক কুমার দাস আসামি কামালকে ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করার জন্য আবেদন করেন। আদালতে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে কামাল স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে অস্বীকার করলে ঢাকা মহানগর হাকিম মো. তসরুজ্জামান তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক দীপক কুমার দাস সেদিন সাংবাদিকদের জানান, দু’দিনের রিমান্ড থাকা অবস্থায় কামাল স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ায় তাকে আদালতে হাজির করা হয়। কিন্তু আদালতে কামাল স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে অস্বীকার করেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

তিনি আরও বলেন, রিমান্ডে কামালের কাছ থেকে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি ঘটনার সময় সেখানে থাকার কথাও অস্বীকার করেন।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপ-পরিদর্শক আব্দুর রাজ্জাক যৌন নির্যাতনের ওই ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ১০ ধারা মোতাবেক গ্রেফতারকৃত আসামি কামালকে আবারো ১০দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। এবিষয়ে শুনানি গ্রহণ করে ঢাকা মহানগর হাকিম মো. জাকির হোসেন টিপু পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গত ২৮ জানুয়ারি রাতে চকবাজারের খাজে দেওয়ান রোডের প্রথম লেনের ৭৭ নম্বর বাড়ি থেকে মো. কামালকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগ (ডিবি)।

উল্লেখ্য, গত ২০১৫ সালের ১৪ এপ্রিল রাজধানীর টিএসসি এলাকায় নারীদের লাঞ্ছনার পর প্রত্যক্ষদর্শী ও ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আট লাঞ্ছনাকারীকে শনাক্তের পর গণমাধ্যমে ছবি প্রকাশ করে পুলিশ। গত ২০১৫ সালের ১৫ এপ্রিল এ ঘটনায় শাহবাগ থানার উপপরিদর্শ মো. আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলা নম্বর-২৫ (৪) ১৫দায়ের করেন। তাদের ধরিয়ে দেওয়ার জন্য লাখ টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করে সরকার।

সেই মামলায় গত ২২ ডিসেম্বর ঢাকার মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কয়েকজন নারীকে যৌন হয়রানি করা হয়। এ ঘটনায় ভিকটিমের নাম-ঠিকানা সংগ্রহের চেষ্টা করে পুলিশ। যৌন হয়রানির শিকার কেউ মামলা না করায় পুলিশ বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এ মামলা করে। ২৩ এপ্রিল মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে ডিবি। তদন্তকালে ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ ও সাক্ষীদের ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে আটজনকে শনাক্ত করা হয়। শনাক্ত আট আসামির ছবি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, ইলেকট্রনিক ও গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। আসামিদের গ্রেফতার এবং ধরিয়ে দেওয়ার জন্য এক লাখ টাকা করে মোট আট লাখ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।

চূড়ান্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসহ আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন অনুষ্ঠান ছিল। ওই অনুষ্ঠানে ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন আসে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ৩ নম্বর ফটক থেকে রাজু ভাস্কর্য পর্যন্ত ভিড় ছিল। এই ভিড়ের মধ্যে সংঘবদ্ধ একদল নারী লাঞ্ছনাকারী ঘটনাস্থলে কয়েকজন নারীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে।
নারী লাঞ্ছনাকারীরা ভিড়ের মধ্যে কয়েকজন নারীর শাড়ি ধরে টান দেয়। তদন্তকালে তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার তদন্ত, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও ঘটনার পারিপার্শ্বিকতায় মামলার অভিযোগ সত্য মর্মে প্রমাণিত হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে চিহ্নিত আটজনকে গ্রেফতার করতে না পারায় ও আসামিদের নাম-ঠিকানা না পাওয়ায় মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হলো। তবে ভবিষ্যতে কোনো তথ্য উদ্‌ঘাটিত হলে মামলাটি পুর্নর্জীবিত করা হবে। চলতি ২০১৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ডিবির দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ না করে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক জয়শ্রী সমাদ্দার মামলাটি পুনঃতদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন।

purboposhchimbd

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।