জারি কার্ফু, ঈদেও ঘরবন্দি কাশ্মীর

ইদের দিন কাশ্মীরের ১০টি জেলাতেই কার্ফু জারি করার সিদ্ধান্ত নিল প্রশাসন। সেই সঙ্গে বন্ধ রাখা হয়েছে মোবাইল পরিষেবা। ফলে উৎসবের দিনে উপত্যকার বাসিন্দাদের কার্যত ঘরবন্দি হয়েই থাকতে হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এ দিনই পুঞ্চে আর দুই স্বাধীনতাকামীর দেহ উদ্ধার করল ভারতীয় বাহিনী। পুঞ্চের অভিযানে এ নিয়ে নিহত হল পাঁচ স্বাধীনতাকামী। আবার ওই জেলারই সীমান্ত এলাকায় স্বাধীনতাকামীদের অন্য একটি দলের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে ভারতীয় সেনাদের। অনন্তনাগে একটি পুলিশ পোস্টে স্বাধীনতাকামীদের গ্রেনেড হানায় নিহত হয়েছেন বিলাল আহমেদ নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা। আহত হয়েছেন তিন ভারতীয় পুলিশ।

দু’মাস ধরে অশান্তির জেরে কাশ্মীরে ঈদের মেজাজ এমনিতেই উধাও। তার উপরে গত কালই চারটি এলাকায় স্বাধীনতাকামী-ভারতীয় বাহিনী সংঘর্ষের জেরে আরও মুষড়ে পড়েছে ভূস্বর্গ। আজ কাশ্মীরের রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামিকাল রাজ্যের ১০টি জেলাতেই কার্ফু জারি করা হবে।  রাজ্যে নজরদারি চালাতে ড্রোন  বিমান ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করবে ভারতীয় বাহিনী। উপত্যকায় বিএসএনএল পোস্ট-পেড কানেকশন ছাড়া সব পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ রয়েছে জুলাই মাস থেকেই। প্রয়োজনে ল্যান্ডলাইনে ইন্টারনেটও বন্ধ করা হবে বলে জানিয়েছেন রাজ্য প্রশাসন। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব রাজীব মেহর্ষির দাবি, ‘‘কাশ্মীর স্বাভাবিক হচ্ছে। আমরা আশা করছি ঈদ শান্তিতেই কাটবে।’’

ঈদে ‘‘আজাদি যাত্রা’’ ও জাতিসংঘের পর্যবেক্ষকের অফিসের দিকে মিছিলের ডাক দিয়েছেন স্বাধীনতাকামী হুরিয়ত নেতারা। রাজ্য সরকারের এক কর্তার কথায়, ‘‘এই সুযোগে স্বাধীনতাকামীরা বড় ধরনের হিংসা ও রক্তপাত ঘটানোর চেষ্টা করবে বলে খবর পেয়েছেন গোয়েন্দারা। সে জন্যই বাধ্য হয়ে ফের কার্ফু জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বন্ধ করতে হয়েছে মোবাইল পরিষেবাও।’’

গত কাল কাশ্মীরি পুঞ্চের একটি বসতবাড়ি ও এক নির্মীয়মাণ সরকারি ভবনে স্বাধীনতাকামীদের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয় বাহিনীর। বাড়িটির মালিক কংগ্রেস সমর্থক হাজি নাসির মির। তিনি জম্মু-কাশ্মীর বিধান পরিষদের এক সদস্যের আত্মীয়। জঙ্গি হামলার সময়ে নাসির ও তাঁর স্ত্রী মুমতাজ একটি ঘরে নিজেদের আটকে রেখেছিলেন। পরে তাঁদের উদ্ধার করা হয়। আর কুমার নামে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের এক কনস্টেবল নিহত হন। নিহত হয় তিন স্বাধীনতাকামী।

আজ নির্মীয়মাণ সরকারি ভবনে দুই স্বাধীনতাকামীর দেহ উদ্ধার করেছে বাহিনী। সেখানে অভিযান এখনও শেষ হয়নি। স্বাধীনতাকামীদের খুঁজে বের করতে চালকহীন ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। পুঞ্চেরই সীমান্ত এলাকায় সেনার এক টহলদারি দলের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে ৪-৫ জন স্বাধীনতাকামীর। ভারতীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে খবর, নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারে পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে ২০-২৫টি এলাকায় তৈরি রয়েছে স্বাধীনতাকামীরা। সুযোগ পেলেই তাদের কাশ্মীরে ঢুকিয়ে দিতে মরিয়া চেষ্টা চালাবে পাকিস্তান।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।