হেফাজতের সাংবাদিক সম্মেলন -১৮ নভেম্বর চট্টগ্রামে বিক্ষোভ ও ২৫ শে নভেম্বর কক্সবাজারে সমাবেশ এর ঘোষনা

একে.এম নাজিম, হাটহাজারীঃ মায়ানমারের আরকানে মুসলমান নারী ও শিশু নির্যাতন এবং নির্বিচারে গণহত্যা বন্ধের দাবিতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ আয়োজনে আজ ৯ নভেম্বর (বুধবার) সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদিক সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন, হেফাজত মহাসচিব আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী।

এসময় নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, হেফাজত সহসভাপতি মাওলানা হাফেজ তাজুল ইসলাম, যুগ্মমহাসচিব মাওলানা লোকমান হাকীম, মাওলানা মঈনুদ্দিন রুহী, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা হাবিবুল্লাহ আজাদী, মওলানা ইসহাক মেহেরিয়া, হেফাজত আমীরের প্রেসসচিব মাওলানা মুনির আহমদ, মাওলানা হাজী মুজাম্মেল হক প্রমূখ।

লিখিত বক্তব্যে মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, পৃথিবীর উত্তর কিংবা দক্ষিণ মেরুতে নয়, আফ্রিকার জঙ্গল কিংবা আটলান্টিকের ওপারে নয়; আমাদেরই সীমান্তবর্তী, প্রতিবেশী দেশ মায়ানমারের আরাকানে ঘটছে সাম্প্রতিককালের ভয়াবহ মানবতাবিরোধী অপরাধ। আমরা অপরিসীম মর্মবেদনা ও ভারাক্রান্ত হৃদয়ে প্রত্যক্ষ করছি যে, আমাদের ঘরের পাশে আরাকান রাজ্যের নিরীহ, নিরস্ত্র বেসামরিক মানুষকে প্রতিদিন পশুর মতো জবাই করে হত্যা করা হচ্ছে। নারী-শিশু-আবাল-বৃদ্ধ-বনিতার ওপর হিং¯্র হায়েনার মতো দলবেঁধে ঝাঁপিয়ে পড়ছে দেশটির সামরিক বাহিনী ও সরকারের লেলিয়ে দেওয়া উগ্রবাদী মগ-দস্যু-সন্ত্রাসীরা। আরাকান ভূখন্ড থেকে মুসলিম জাতিসত্তাকে সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করে দেবার হীন উদ্দেশ্যে পূর্বঘোষিত ও পরিকল্পিত অভিযান চালানো হচ্ছে। আরাকানের বেসামরিক বৌদ্ধ জনগণকে অস্ত্রে সজ্জিত করে হত্যাকান্ডে প্ররোচিত করা হচ্ছে। ঘরে ঘরে হামলা চালিয়ে হাজার হাজার মা-বোনদের ইজ্জত-সম্ভ্রম লুটে নেওয়া হচ্ছে। পাড়া-মহল্লা ও বাড়ি-ঘরে আগুন লাগিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আরাকান গণহত্যার কোনও সংবাদ বিশ্বমিডিয়ায় প্রকাশিত না হলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত দু’চারটি সচিত্র সংবাদ দেখলেই কোনও বিবেকবান মানুষ স্থির থাকতে পারেন না।

তিনি বলেন, আমরা আজ চোখ থেকেও অন্ধের ভান করছি, কান থেকেও বধিরের মতো না শোনার ভণিতা করছি। আজকের পৃথিবীকে বলা হয় গ্লোবাল ভিলেজ বা বিশ্বগ্রাম। প্রযুক্তির উৎকর্ষের ফলে গোটা দুনিয়া আজ পৃথিবীর প্রত্যেকটি মানুষের চোখের সামনে। দুনিয়ার এক প্রান্তে সাধারণ কোনও ঘটনা ঘটলেও মুহূর্তেই তার খবর সারাবিশ্বের মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। অথচ বাংলাদেশসহ মুসলিম বিশ্বের সরকারপ্রধানগুলো ক্ষমতার মোহ ও রাজনৈতিক স্বার্থে মায়ানমার সরকারের একতরফা হত্যাযজ্ঞ ও বর্বরোচিত অত্যাচারের ব্যাপারে বরাবরই মুখে কুলুপ এঁটে আছে।

তিনি বলেন, বিশ্বমোড়ল আমেরিকা, রাশিয়া, জাতিসংঘসহ গোটা দুনিয়ার কাছে বিবেকবান মানুষের প্রশ্ন, মুসলমান হওয়াটাই কি আরাকানের নির্যাতিত নাগরিকদের অপরাধ? যে নির্যাতন আজ আরাকান, কাশ্মীর ও সিরিয়ায় চলছে তার শতভাগের একভাগও যদি কোনও মুসলিম দেশে অমুসলিমদের ওপর করা হতো তাহলে বিশ্বসংস্থা ও প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের শক্তিধর দেশগুলো এভাবে নীরব ভূমিকা পালন করতো ? নিশ্চয় না।

এর তাজা দৃষ্টান্ত ইন্দোনেশিয়ার পূর্বতিমূর ও সুদানের দারফুর। দেশ দুটিতে অমুসলিমদের ওপর তেমন কোনও অত্যাচারই হয়নি বরং পান থেকে চুন না খসতেই জাতিসংঘের হস্তক্ষেপে অঞ্চল দুটিকে অনেকটা চাপের মুখে স্বাধীন বা আলাদা করে দেওয়া হয়। কিন্তু নির্যাতনকারী ও আগ্রাসীশক্তি অমুসলিম আর নির্যাতিতরা মুসলমান হলে কেন ভিন্ন নীতি ? আরাকান ও কাশ্মিরের প্রশ্নে জাতিসংঘে অন্ধ ও বধির কেন ? কেনই-বা আরব রাষ্ট্রগুলোসহ মুসলিম বিশ্বের শাসকদের কোনও কার্যকর পদক্ষেপ দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না ?

ইসলামাবাদী আরো বলেন, একটি মুসলিমপ্রধান দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের কাছে আমাদের দাবি হলো, সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ তথা সর্বস্তরের মুসলমানদের পক্ষ থেকে অবিলম্বে মায়ানমার সরকারের গণহত্যা ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। আন্তর্জাতিকভাবে মায়ানমার সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য কূটনৈতিক পদক্ষেপ জোরদার করুন। আজকের সংবাদ সম্মেলন থেকে, জাতিসংঘ, ওআইসিসহ বিশ্বসংস্থাসমূহকে আরাকানের মুসলমানদের রক্ষায় কার্যকরি ভূমিকা পালন করার উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।

মাওলানা ইসলামাবাদী আরাকানের চলমান গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ বন্ধের দাবিতে আগামী ১৮ নভেম্বর শুক্রবার চট্টগ্রাম আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ ও গণমিছিল এবং ২৫ শে নভেম্বর শুক্রবার কক্সবাজার শহরে সমাবেশ করা হবে, এ সময়ের মধ্যে যদি গণহত্যা বন্ধ করা না হয় তাহলে পরবর্তীতে চট্টগ্রাম থেকে আরাকান অভিমুখে লংমার্চের ঘোষণা করা হবে হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।