সাম্প্রদায়িকতা ন​য়, ব্যক্তি স্বার্থে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা হচ্ছে: প্রধান বিচারপতি

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য হচ্ছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও গাইবান্ধায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার মতো ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না হয় সেজন্য প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকার আহবান জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। শনিবার নারিন্দায় ভক্তি বিলাস তীর্থ ভবনের দুটি তলার নির্মাণকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অর্থায়নে এ ভবনটি নির্মাণ করা হচ্ছে। সাঁওতালরা অত্যন্ত গরিব সম্প্রাদায় উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেছেন, গাইবান্ধায় সাঁওতালদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তাদের ঘর-বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সাঁওতালরা অত্যন্ত দরিদ্র লোক। আমি আশা রাখব, আপনারা যারা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীতে আছেন তারা আরেকটু সচেতন হোন, তাহলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না। সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘যারা ক্ষমতায় আছেন আমি তাদেরও বলছি, যারা বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী তাদের ধর্ম পালনে যেনো বাধা না দেই, তাদের ধর্মীয় উপাসনালয় বানিয়ে দেই। কেউ কারো প্রতি আঘাত না করি, কারো মন্দির-মসজিদে বাধা না দেই। তাদের সহাবস্থানে বাধা সৃষ্টি করবো না। যারা এসব করছে তারা ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য এগুলো করছে।’

ধর্মীয় উপাসনালয়ে যাতে কোনো আঘাত না আসে তার জন্য ঢাকার দুই মেয়রের আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন আছে। এখানে কিছু লোক বেশ কিছু দিন ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করছে।’ অবৈধ দখল উচ্ছেদে বিচার বিভাগ সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিবে উল্লেখ করে তিনি বলেন,সিটি কর্পোরেশনের জমি দখল করে রেখেছে, সেগুলোসহ রাস্তা-ঘাট উচ্ছেদে যদি কোনো প্রতিবন্ধকতা আসে, তাহলে বিচার বিভাগ হাত প্রসারিত করবে।’ দক্ষিণ সিটির মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রামে এগিয়ে যাচ্ছে। এখানে ধর্ম যার যার, উত্সব সবার। তবে কিছু গোষ্ঠী রয়েছে যারা সাম্প্রদায়িকতাকে উস্কে দিচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে। যাতে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে কেউ ব্যাহত না করতে পারে।

গৌড়ীয় মঠের সভাপতি বিশিষ্ট শিল্পপতি গিরিধারী লাল মোদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিচারপতি সৌমেন্দ্র সরকার, বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর, বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাস, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তাপস কুমার পাল, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব অশোক মজুমদার, ইসকন মন্দিরের সভাপতি সত্য রঞ্জন বাড়ৈ, মঠের সাধারণ সম্পাদক উত্পল কুমার রায় প্রমুখ।

ঢাকাটাইমস

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।