নিজাম হাজারীর রায় ২২ নভেম্বর

ফেনীর আওয়ামী লীগ নেতা নিজাম উদ্দিন হাজারীর সংসদ সদস্য পদে থাকার বৈধতা প্রশ্নে করা রিটের রায় ঘোষণা করা হবে আগামী ২২ নভেম্বর।

 

মামলার শুনানিশেষে সোমবার বিচারপতি মো. এমদাদুল হক ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের বেঞ্চ রায়ের এই দিন ধার্য করেন। আদালতে হাজারীর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ ও আইনজীবী নুরুল ইসলাম সুজন।

গত ৩ নভেম্বর এই মামলার শুনানি হয়। শুনানিতে হাজারীর পক্ষের আইনজীবীরা তার রক্তদান ও কারাবাসের রেয়াত পাওয়ার বিষয়গুলো উপস্থাপন করেন। পরে আদালত মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য ১৪ নভেম্বর দিন ধার্য রেখেন।

এর আগে গত ৩১ অগাস্ট নিজাম উদ্দিন হাজারীর সংসদ সদস্য পদে থাকার বৈধতা প্রশ্নে করা রিটের রায় ঘোষণা মুলতবি করে ৩ নভেম্বর আবার মামলার শুনানির দিন ধার্য করেন বিচারপতি মো. এমদাদুল হক ও বিচারপতি মো. ইকবালের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

কারাবাসকালে নিজাম হাজারী কতো ব্যাগ রক্ত দিয়েছেন, এর ফলে কতোদিন কারাবাস রেয়াত পাওয়ার অধিকারী হয়েছেন, ৩০ দিনের মধ্যে তা প্রতিবেদন আকারে আদালতে জমা দিতে কারা কর্তৃপক্ষকে ওইদিন নির্দেশ দেন আদালত।

এর আগে গত ৩ অগাস্ট এই রিটের রুলের ওপর শুনানি শেষ করে আদালত ১৭ অগাস্ট রায়ের দিন ঠিক করে দিয়েছিলেন। কিন্তু ওইদিন নতুন একটি নথি চাওয়া হলে রায়ের তারিখ পিছিয়ে যায় ২৩ আগস্ট।

এরপর ২৩ আগস্ট আদালতে ফের শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবীরা। ‘রক্তদান করে’ নিজাম হাজারী কারাবাস রেয়াতের অধিকারী হয়েছেন বলে তার আইনজীবীরা সেদিন আদালতে যুক্তি দেন।

শুনানির পর আদালত রায়ের জন‌্য ৩০ অগাস্ট দিন রাখে। সে অনুযায়ী ৩০ অগাস্ট রায় দেওয়া শুরু হলেও মাঝখানে মুলতবি করে ৩১ অগাস্ট রায়ের বাকি অংশ দেওয়ার কথা জানানো হয়। এরপর ৩১ অগাস্ট রায় ঘোষণা মুলতবি করে ৩ নভেম্বর আবার শুনানির দিন ধার্য করেন আদালত।

ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম হাজারী ২০১৪ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

‘সাজা কম খেটেই বেরিয়ে যান সাংসদ’ শিরোনামে ২০১৪ সালের ১০ মে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে তার ওই পদে থাকার বৈধতা নিয়ে ফেনী জেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন ভূঁইয়া রিট আবেদন করেন।

রিট আবেদনকারীর যুক্তি, সংবিধানের ৬৬ (২) (ঘ) অনুচ্ছেদ অনুসারে কোনো ব্যক্তি যদি নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে কমপক্ষে দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন তাহলে মুক্তির পর পাঁচ বছর অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার এবং সংসদ সদস্য থাকার যোগ্য হবেন না।

২০০০ সালের ১৬ অগাস্ট অস্ত্র আইনের এক মামলায় দুটি ধারায় ১০ বছর ও সাত বছর কারাদণ্ড হয় নিজাম হাজারীর, যা আপিলেও বহাল থাকে।

সে হিসাবে নিজাম হাজারী ২০১৫ সালের আগে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য না হলেও তিনি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে সংসদ সদস্য হয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয় রিট আবেদনে।

প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১৪ সালের ৮ জুন বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ বিষয়ে রুল জারি করেন।

নিজাম হাজারী কোন কর্তৃত্ব বলে ওই আসনে সংসদ সদস্য পদে আছেন এবং ওই আসনটি কেন শূন্য ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয় রুলে৷ পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দেন আদালত।

ওই রুলের ওপর শুনানি গ্রহণে গত বছরের ১২ নভেম্বর হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চের এক বিচারপতি এবং পরে ২ ডিসেম্বর অন্য একটি দ্বৈত বেঞ্চ বিব্রতবোধ করেন।

প্রধান বিচারপতি এরপর বিষয়টি শুনানির জন্য বিচারপতি মো. এমদাদুল হকের নেতৃত্বাধীন দ্বৈত বেঞ্চে পাঠান। চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি হাইকোর্টে রুলের ওপর শুনানি শুরু হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।