বাংলাদেশে ঢুকে পড়া রোহিঙ্গাদের মায়ানমারে ফেরত পাঠানো উচিত: মানবাধিকার চেয়ারম্যান !

মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে ঢুকে পড়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরত পাঠানো উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক। তার মতে, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ঢুকে পড়লে এদেশের মানুষের মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়। বাংলাদেশ একটি ছোট ও ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। অন্যদিকে নিরাপত্তার বিষয়ও রয়েছে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গারা যাতে বাংলাদেশে ঢুকতে না পারে সেজন্য সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর হাতে ভিটেহারা অত্যাচারিত রোহিঙ্গারা আশ্রয়ের জন্য যাতে বাংলাদেশে ঢুকতে না পারে সেজন্য সীমান্তে অতিরিক্ত বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয় কী না, সে প্রশ্নে মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক শনিবার রাতে নিউজবাংলাদেশের সঙ্গে একান্ত আলাপে এ মন্তব্য করেন।

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ঢুকতে না দেয়ার পেছনে কাজী রিয়াজের যুক্তি হচ্ছে- বাংলাদেশ ছোট দেশ। এখানে ঘনবসতি। রোহিঙ্গাদের পর্যাপ্ত সহায়তা দেয়ার মতো সামর্থ্য আমাদের নেই। আমাদের জায়গার অভাব। রোহিঙ্গারা ঢুকে পড়লে উল্টো এদেশের মানুষের মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে। তাই তাদের ঢুকতে না দেয়া যাবে না। আর যারা ঢুকে পড়েছে তাদেরকে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ভিত্তিতে দ্রুত ফেরত পাঠানো প্রয়োজন।”
রাশিয়া, থাইল্যান্ড, কানাডাসহ অন্য দেশগুলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, “ওসব দেশে তো অনেক জায়গা। রাশিয়া ভাগ হয়ে যাওয়ার পরেও তো জায়গার অভাব নেই। আর থাইল্যান্ডে তো জঙ্গল পড়ে আছে। তবুও তো তারা রোহিঙ্গাদের ঢুকতে দিচ্ছে না। আমরা তো ইতোমধ্যে ৫ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছি। আরও দিতে গেলে তো এদেশের মানুষের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হবে। জাতিসংঘ ও অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থাগুলোর এ বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।”

মিয়ানমারের মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যানের সঙ্গে কাজী রিয়াজের কথা হয়েছে জানিয়ে বলেন, “মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের বিষয় নিয়ে দেশটি মানবাধিকার কশিমনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমি সরাসরি কথা বলেছি। তাকে জানিয়েছি- আমাদের দেশের নাগরিকরা আমাদের দেশে ঢুকে পড়ছে। আপনাদের সরকার তাদের ওপর অত্যাচার করছে বলে তারা দেশ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। সরকারকে বোঝাতে হবে। এ বিষয়টির সমাধান হওয়া উচিত।”

রোহিঙ্গাদের ঢুকতে না দিয়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে না বরং রোহিঙ্গাদের ওপর অত্যাচার চালিয়ে মিয়ানমার মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে দাবি করে তিনি বলেন, “এটা তো স্পষ্ট। রোহিঙ্গারা তো তাদের দেশেরই মানুষ। তাদের ওপর অত্যাচার করা কোনোভাবেই ঠিক না। বাধ্য হয়ে তারা দেশ ছাড়ছে। জায়গা না দিতে পেরে বিপদে পড়ছি আমরাও।”

কাজী রিয়াজ বলেন, “আগে যেসব রোহিঙ্গা ঢুকেছে, তাদের অনেকেই নানা কৌশলে এদেশের বাসিন্দা হয়ে গেছে। তাদের আলাদা করে চেনার উপায় নেই। রোহিঙ্গাদের কেউ কেউ আবার নিজের প্রয়োজনে অল্প টাকায় দিনমজুরের কাজ করছে। এতে করে আমাদের দেশের মানুষের খেটে খাওয়া মানুষরা বিপদে পড়ছে। সব মিলিয়ে বিষয়টা ভাবনা জাগায়।”

এ বিষয়টি সমাধানে মিয়ানমার সরকার ও জাতিসংঘকে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান।

মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর উপযুপরি হামলা চালিয়ে যাচ্ছে দেশটির সেনাবাহিনী। এসব হামলায় এ পর্যন্ত ৬৯ জনের নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করেছে তারা।

তবে রোহিঙ্গাদের নেতারা বলছেন, সেখানে গত প্রায় দেড় মাস ধরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে কমপক্ষে সাড়ে তিনশো মানুষ নিহত হয়েছে। অনেক নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে গ্রামের পর গ্রাম। লোকজন পালাতে চাইলেও তাদের ওপর হেলিকপ্টার গানশিপ দিয়ে গুলি করা হচ্ছে। ওই এলাকায় কোনো গণমাধ্যম কিংবা মানবাধিকার কর্মীদের ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না।

এ অবস্থায় অনেকেই পালিয়ে বাংলাদেশের সীমান্ত পাড়ি দেয়ার চেষ্টা করছে। এরইমধ্যে বাংলাদেশ সরকার সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। শতাধিক রোহিঙ্গাকে পুশব্যাকও করা হয়েছে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় রোহিঙ্গাদের লন্ডনভিত্তিক একটি সংগঠন রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে যাওয়া শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

নিউজবাংলাদেশ

3 টি মন্তব্য:

  • নভেম্বর 24, 2016 at 3:43 পূর্বাহ্ন
    Permalink

    আপনি মুসলিম।ভাবতে লজ্জা হচ্ছে না কি হচ্ছে বুঝতেছি না।”মানুষতো মানুষের জন্য ” উক্তিটা মিথ্যা হয়ে গেল।।।।।।।।।।না।।
    এই বলে “মুসলিমও মুসলিমের জন্য নয়”।উক্তিটা নতুন সংকলন।আচ্ছা মনে করেন বাংলাদেশেও এইভাবে মুসলিমদেরকে অত্যাচার করা হচ্ছে।।।।।।।।।।।আপনি কি করবেন।।।।????

    Reply
  • নভেম্বর 24, 2016 at 3:50 পূর্বাহ্ন
    Permalink

    মাননীয় মানব অধিকার চ্যায়ারম্যান
    আপনি মুসলিম।ভাবতে লজ্জা হচ্ছে না কি হচ্ছে বুঝতেছি না।”মানুষতো মানুষের জন্য ” উক্তিটা মিথ্যা হয়ে গেল।।।।।।।।।।না।।
    এই বলে “মুসলিমও মুসলিমের জন্য নয়”।উক্তিটা নতুন সংকলন।আচ্ছা মনে করেন বাংলাদেশেও এইভাবে মুসলিমদেরকে অত্যাচার করা হচ্ছে।।।।।।।।।।।আপনি কি করবেন।।।।????

    Reply

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।