পদত্যাগ করছেন তারানা!

টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী অ্যাড. তারানা হালিম পদত্যাগ করে চলে যাচ্ছেন! এমন গুঞ্জন চারদিকে শোনা যাচ্ছে। ভিওআইপির মাফিয়া সিন্ডিকেটের কাছে পরাজিত হয়েই এই মন্ত্রী বিদায় নিচ্ছেন। মন্ত্রীর ঘনিষ্ট সূত্রে একথা জানা গেছে। সময়ের প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে বড় বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে জিতেছেন এই মন্ত্রী। তবুও কেন তার বিদায়ের মনোভাব এ নিয়ে রাজনীতি পাড়ায় চলছে ব্যাপক আলোচনা।

সম্প্রতি একটি গণমাধ্যম তারানা হালিমের ভিওআইপি ব্যবসা বন্ধে ব্যর্থতার রূপ নিয়ে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়। তাতে বলা হয়েছে তারানা হালিম যে সময় টেলিকম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন সে সময় (জুলাই ২০১৫) দেশে গড়ে প্রতিদিন কল আসতো ১১২ দশমিক ৯৯ মিলিয়ন মিনিট। তার ৯০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচির শেষে (অক্টোবর ২০১৫) এর কোনো উন্নতি হয়নি, উল্টো বৈধ কলের সংখ্যা কমে ৮৪ দশমিক ১৮ মিলিয়ন মিনিটে দাঁড়ায়। চলতি বছরের আগস্ট মাসের শেষে এর হিসাব অনুসারে বৈধ কল প্রতিদিন ৭৩ দশমিক ৩০ মিলিয়নে নেমে গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এ নিয়ে বলছেন সৎ, সাহসী হলেও একগুঁয়ে, জেদী ও আত্নমর্যাদাসম্পন্ন এই প্রতিমন্ত্রী এতটাই আবেগপ্রবণ যে, চারদিকের নানা মন্তব্য আর মন্ত্রণালয়ে কাজ করতে গিয়ে কোনো কোনো জায়গায় সহায়তা না পাওয়া বিদায়ের মতো সিদ্ধান্ত নিতেও পিছু হটছেন না।

সাহসী এই প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম অনেকক্ষেত্রেই পরিবর্তন এনে সাফল্য অর্জন করেছেন। এর মধ্যে মোবাইল ফোনের বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এছাড়াও যুদ্ধ অপরাধের দায়ে শীর্ষ জামায়াত- বিএনপি নেতাদের ফাঁসির রায়কে কেন্দ্র করে দীর্ঘ সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক বন্ধ করে দিয়ে উস্কানিমূলক হামলা থেকে দেশ রক্ষায় শত সমালোচনার মুখেও জিতেছেন তারানা। অর্জন করেছেন বিস্ময়কর সাফল্যও। অন্যদিকে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধনের কারণে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসার হার ২৫ শতাংশ কমে ১০ শতাংশে নেমে এসেছে এই মন্ত্রীর সময়েই । আগে এ হার ছিল ৩৫ শতাংশ’।

১০ সেপ্টেম্বর অবৈধ ভিওআইপি ও অবৈধ সিম বন্ধে সরকারের চলমান কার্যক্রম বন্ধ করতে তারানা হালিমকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া দেওয়া হয়েছে। সচিবালয়ে তার অফিসের টেলিফোন নম্বরে ফোন করে দেওয়া হয় এই হুমকি।

এ নিয়ে তখন গণমাধ্যমে তারানা বলেন, ‘আমাকে ফোন করে বলা হয়েছে, অবৈধ ভিওআইপি ও অবৈধ সিমের ব্যাপারে আপনার এত লাফালাফির দরকার নেই। আপনি ধীরে চলেন। এর জবাবে ওই ব্যক্তিকে আমি বলেছিলাম, ‘আমি ধীরে কেন চলব? আপনি কে আমাকে হুকুম দেওয়ার? আমি তখন তাকে আরো বলেছিলাম প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমি কাজ করছি। কোনো হুমকিতেই এসব কাজ বন্ধ হবে না। আর আমি বিক্রি হওয়ার মতো কেউ না।’

সততা ও কর্মদক্ষতার কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমকে খুবই পছন্দ করেন। স্নেহ দিয়ে আগলে রাখেন। কিন্তু তিনি দায়িত্বে আসার পর ভিওআইপির মাফিয়াদের মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। এই সিন্ডিকেট প্রতি পদে পদে তারানা হালিমকে সঙ্কীর্ণ করতে নানামুখি তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। ষড়যন্ত্রের জালও বুনেছেন। কাজের জায়গায় সহায়তা না দেয়ারও ব্যবস্থা কোথাও কোথাও করেছেন। অপদস্ত করার নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারানা হালিমের ঘনিষ্ট সূত্রে জানা গেছে পদে পদে তাদের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়ে ক্লান্ত হয়ে এমন জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছেন, যেকোনো সময় পদত্যাগ করেই চলে যেতে পারেন এমন সিদ্ধান্ত প্রায় তিনি নিয়েই রেখেছেন।

যমুনা নিউজ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।