চিরদিনের জন্য নিরাপদ আশ্রয়ে সেই রোহিঙ্গা শিশুটির অবশেষে পরিচয় মিললো !

চিরদিনের জন্য নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান পেয়ে গেছে রোহিঙ্গা শিশুটি। মানবতার মুখ থুবড়ে পড়ে থাকার দৃশ্যের নীরব সাক্ষী নাফ নদী।প্রাণে বাঁচতে সীমান্ত পার হতে চেয়েছিল শিশুটি কিন্তু তাকে একেবারে পৃথিবীর হিসাবের বাহিরে পাঠিয়ে দিয়েছে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী পুলিশ-বিজিপি।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নৃশংস গনহত্যার হাত থেকে বাঁচতে গিয়ে নাফ নদীতে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী পুলিশের গুলিতে নৌকা ডুবির কবলে পড়ে মারা যায় এই শিশুটি সহ অনেকে।

রোববার রাতের এই ঘটনায় দুই শিশুসহ এক ডজনেরও বেশি রোহিঙ্গার প্রাণহানি ঘটেছে বলে ধারণা ভূক্তভোগীদের। নিহতদের মধ্যে দুই শিশু ও এক নারীর মরদেহ ভাটার সময় নাফ নদীর মিয়ানমারের তীরের কাদায় আটকে যায়।

মিয়ানমার সীমান্তে নাফ নদীর তীরে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকা ওই রোহিঙ্গা শিশুর পরিচয় মিলেছে। মাত্র ১০ মাসের ছোট্ট শিশুটির নাম তোহাইত।হলুদ রঙের একটি শার্ট পরিহিত ছোট্ট এই শিশুর মুখ থুবড়ে পড়া ছবি ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল।

সোমবার সকালে উদ্ধার হওয়া রেহেনা বেগম ছিলেন সেই নৌকাতেই। ছবি দেখার পর তিনি জানিয়েছেন, নিহত শিশুটির নাম তোহাইত। তার বয়স ১০ মাস।

তোহাইত জাফর আলম ও ছেনুয়ারার সন্তান বাসছিল মংডুর বড় গওজবিল এলাকায়।তোহাইত সম্পর্কে রেহেনার খালাত ভাই।

সোমবার রাতে টেকনাফে এক বাড়িতে আশ্রয় নেয়া অবস্থায় সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান প্রাণে বেঁচে যাওয়া রেহেনা।

সেনা অভিযানে নিহত রোহিঙ্গাদের অনেকেই উত্তরাঞ্চলের মংডুর রাইম্মাবিল গ্রামের বাসিন্দা। গত ৯ অক্টোবর থেকে সেনাবাহিনীর রক্তাক্ত এ অভিযানে এখন পর্যন্ত আড়াই শতাধিক রোহিঙ্গার প্রাণহানি ঘটেছে।

গত বছর যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া থেকে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে যাবার সময় সাগরের উত্তাল ঢেউ কেড়ে নেয় তিন বছরের শিশু আয়লান কুর্দিকে। সাগর তীরে মুখ থুবড়ে পড়েছিল আয়লান কুর্দির নিথর দেহ।বিপন্ন মানবতার প্রতীক আয়লান তুমুল সমালোচনার ঝড় তুলেছিল বিশ্বজুড়ে।

মিয়ানমারের নাফ নদীর তীরে আবারও ভেসে ওঠল বিপন্ন মানবতার ছবি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘জাতিগত নিধনের’ শিকার রোহিঙ্গাদের প্রতীক তোহাইতকে বলা হচ্ছে ‘আয়লান রোহিঙ্গা’।

সিরিয়ার আয়লান ও মিয়ানমারের তোহাইত দুই জনই বিদায় কালে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকা বিপন্ন মানবতা ও তার প্রতিউত্তরে নীরব বিশ্ববিবেক কি বার্তা দিল তারা।

নাজিব

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।