শেখ হাসিনা যাননি মাহবুবুল হক শাকিলের লাশ দেখতে !

না, এখনো পর্যন্ত কার্যকরী ময়না তদন্তের প্রতিবেদনের খবর নেই। প্রধান মন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিলের মৃত্যুর কথাই বলা হচ্ছে। কবি শাকিলের মৃত্যু ও তাঁর জীবনের নানা দিক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলছে অনিশেষ যুক্তি, তর্ক, আক্ষেপ, শ্রদ্ধা, ঘৃণা ও আলোচনা এবং অতি অবশ্যই সমালোচনা। দেশের প্রায় সকল গণমাধ্যম খানিকটা তাঁর সংবাদ পরিবেশনে নীরব রয়েছে। কেন, তা নিয়ে অতি বিস্তর ব্যাখায় না যাওয়াকেই সবাই শ্রেয়তর বলছে। শাকিলের জানাজা হয়েছে। শহীদ মিনারে প্রধান মন্ত্রীর পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে কিন্তু তিনি নিজে স্বয়ং যান নি। কেন যান নি- তা নিয়েও আছে নানা যুক্তি তর্ক কিংবা মত। গেলদিনে এক সাংবাদিক লাইভ বার্তা কে বলেন, শাকিলের প্রতি প্রধান মন্ত্রীর একসময় যে মায়া,আদর ছিল তা হালে সেরকম অবস্থা আর ছিল না। সেটা শাকিলের জন্যই। তাঁর ব্যক্তিজীবনের অযাচিত দিকগুলো নিয়ে প্রধান মন্ত্রী খুব স্বস্তিতে ছিলেন না। ভাল ভাবে দেখছিলেন না। হয়তো সে কারণেই যান নি তিনি কি জানাজায় বা তাঁর বাসায়। তবে প্রধান মন্ত্রী এটা বলেছেন, শাকিল ছিল আমার সন্তানের মতোই, ওই জয়ের মতো করে দেখতাম তাঁকে। এও বলেছেন, শাকিলের পরিবারের জন্য আমার দরজা আজীবন খোলা। অভিভাভবকের মতোই বলেছেন তিনি। কিন্তু শাকিল কে ঘিরে বিব্রত ছিলেন তিনি ! কিন্তু কেন ?

কথায় আছে যুগে যুগে ক্লিওপেট্রা আসে আর ট্রয় পুড়ে ছাই হয় তাদের ছলনার অনলে! এমন মন্তব্যের খোরাকে থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক নারী ডিপ্লোম্যাটের ছবি পোস্ট করে নানা কথা বলা হচ্ছে। হ্যাঁ, ঘুরেফিরে সেই আলোচিত শাহনাজ গাজী এলাকে ঘিরে শাকিলের ছবি পোষ্ট করার মহড়াকে তুলে ধরে বলা হচ্ছে, “তুমি তখনই নিকৃষ্ট যখন অপর একটা আলাদা ছাদের নীচে বসবাস করা এক আদরের কন্যাকে তোমার ঘরে এনে তাঁর সঙ্গে এক কিংবা দুই যুগের মতো সংসার করে একদা তাঁকে উপেক্ষা করে তাঁর বুড়িয়ে যাওয়া, মুখশ্রী ও শারীরিক হালের প্রতি ধিক জানিয়ে রঙিন মুখের সন্ধান করছো।”

এদিকে শাকিলের কবি মনের প্রতি শ্রদ্ধায় থেকে তাঁর পক্ষে হাজারো আবেগী অনুভুতির ভাষারও দেখা মিলেছে। কিন্তু এই সেই শাকিল যার আত্মহত্যার সংবাদ প্রায় তাঁর কাছের মানুষদের মধ্যরাতের ‘বিড়ম্বনা’ আঙ্গিকে অভ্যস্ত চর্চা হয়ে পড়ছিল। এই নিয়ে প্রায় তিন বারের মতো আগেও খবর কিংবা রব উঠেছিল, শাকিল আত্মহত্যা করেছেন !

ভীষণ আবেগি উপলক্ষ ধারণ করে তিনি মদ্যপ হয়ে চিৎকার করে কাদতেন। বলতেন, চাই নে আর বাঁচতে ! বাসর সাজাতেন যেখানে তিনি নিথর হয়ে পড়েছিলেন ! দেশের এক সুন্দরী সংবাদ পাঠিকার সাথেও প্রায় তাঁকে গুলশানের রাস্তায় দেখা মিলতো। কিন্তু প্রেম ? সমসাময়িক প্রেম ! হ্যাঁ , তা ছিল ওই এলার জন্য। লিখতেন কবিতা। গাইতেন বেদনার সুরে প্রস্থানের আর্তি সম্বলিত বিষাদের সুর। কিন্তু ওই শাকিল থাকাতেই তো সৃজনশীল ব্যক্তিবর্গের খবরটা অন্তত শেখ হাসিনা পেতেন। কা’কে মূল্যায়ন করতে হবে- তা যে তিনিই বলতে পারতেন, জানতেন। দেশের কবি ও লেখক সমাজের জন্য শাকিলের চলে যাওয়াটা দারুণ এক ক্ষতিও কিন্তু ! সে যে আওয়ামী বলয়ে একমাত্র বিদগ্ধ প্রতিনিধি ছিলেন সাহিত্য পাড়ার সমাজে ! এখন আর তাঁর নেত্রীকে কে বলবে, নিরমলেন্দু গুন স্ট্যাটাস দিয়েছেন! না, এটা বুদ্ধি বৃত্তিক সমাজের জন্য ধাক্কা বটে। কিন্তু ক্লিওপেট্রা রুপী বহুগামি পুরুষে আসক্তি থাকা নারী চরিত্রগুলোর দিব্যি সুখে থাকার সংসার আর কে ঠেকাতে পারে। হয়তো পারে। যদি ক্লিওপেট্রার ঘরে ‘সামাজিক শিক্ষক’ ক্লাশ নিতে আসে। শাকিলেরা যে শিক্ষক নয়, প্রেমিক মনের এলেমেলো বীচিতে ভেসে যেয়ে কান্ডজ্ঞানহীন হয়ে পড়ে। যা শেখায় নি তাঁদের নেত্রী, হ্যাঁ- শেখ হাসিনা তেমন করে কিছু দেখতে চান না, শুনতেও চান না। (

সূত্র ঃ লাইভ বার্তা )

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।