‘পাঠ্যবইয়ের ভুল’ প্রচার না করার আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর ! পেছনে চক্রান্ত আছে কি খতিয়ে দেখবেন !

পাঠ্যবইয়ের ত্রুটি নিয়ে বেশি প্রচার না করতে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি বলেন, ‘পাঠ্যপুস্তক বইয়ের ভুল বেশি প্রচার হলে শিশুরা পড়ার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। ভুল যা হওয়ার তা হয়ে গেছে, কিন্তু এই ভুলকে বড় করে না দেখে ছোট শিশুদের জন্য ভাল কি করা যায় সে বিষয়ে এগিয়ে আসুন।’

চলতি শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে ভুলসহ সামগ্রিক বিষয় নিয়ে মঙ্গলবার সকাল ১১টায় সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

পাঠ্যপুস্তকে ভুলের দায় নিজের কাঁধে নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে নির্ভুলভাবে বই ছাপানোর কাজ আন্তরিকতার সঙ্গে সস্পন্ন করা হবে। তবে কখনোই শতভাগ নির্ভুল বই ছাপানো সম্ভব কিনা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।

নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, বইয়ে ছোটখাটো ভুল থাকতে পারে। কিন্তু এবারের মতো ভুল কোনোভাবে মেনে নেয়া যায় না। এর পেছনে যদি কোনো চক্রান্তকারী থাকে তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেয়া হবে না। চক্রান্তকারীকে খুঁজে বের করা হবে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) দুই কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়েছে। পাশাপাশি মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে। অবশ্য এর আগে এনসিটিবি নিজেদের ভুল পর্যালোচনা করতে একটি কমিটি গঠন করে।

এ সময় মন্ত্রী বইয়ের অন্যান্য ভুল তুলে ধরে সেগুলো দ্রুত সংশোধনের আশ্বাস দেন। বলেন, এই ভুলগুলো সংশোধন করে সকল পাঠ্যপুস্তকে সংযুক্ত করা হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

সারাবছর শিক্ষামন্ত্রণালয় তৎপর থাকার পরও পাঠ্যপুস্তকে এমন ভুল কীভাবে হলো এমন প্রশ্ন করার সময় শিক্ষামন্ত্রী কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে যান। বলেন, ‘এমন প্রশ্ন না করে আমাদের কাজে আপনারা সহযোগিতা করুন।’

সুকুমার রায়ে ‘আদর্শ ছেলে’ কবিতার প্রথম লাইনেই ভুল ছাপা হওয়ায় মন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করেন। বলেন, যে এই কবিতা না জানেন তার পাঠ্যপুস্তক প্রস্তুতের সঙ্গে থাকার কোনো যোগ্যতাই নেই।

বই প্রণয়নে হেফাজতে ইসলামীর পরামর্শ আমলে নেয়া হয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘ধর্ম, সংস্কৃতি ও সামাজিক বিষয়গুলো মাথায় রেখেই কারিকুলাম নির্বাচন করি। সেখানে হেফাজত ইসলামের পরামর্শ কি ছিল সেগুলো আমলে নেয়া হয়নি। বরং আমরা যুগের ধারাবাহিকতায় কালিকুলামে পরিবর্তন এনেছি।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিতি ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব সোহরাব হোসাইন, অতিরিক্ত সচিব রুহী রহমান, অতিরিক্ত সচিব মুফাদ আহমাদ চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ওয়াহিদুজ্জামান প্রমুখ।

dhakatimes

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।