প্রশ্নফাঁসের প্রতিটি ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী সরাসরি নিজে জ​ড়িত ! -সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান মিসবাহ

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ সংসদে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী বছরের শুরুতেই কোমলমতি শিশুদের হাতে ফ্রি নতুন বই তুলে দেন। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রী প্রতিবছর একইসঙ্গে প্রশ্নপত্রও ফ্রি দিয়ে থাকেন। প্রশ্নপত্র তার নিয়ন্ত্রণেই থাকে। এটি ফাঁস হয় কিভাবে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, প্রতি বছর প্রশ্নপত্র ফাঁস হলেও শিক্ষামন্ত্রী তা বন্ধ করতে বা ব্যবস্থা নিতে পারেন না। এবছর জানুয়ারি মাসের প্রথম দিন ছাত্র ছাত্রীদের হাতে নতুন বই দেয়া হয়েছে। আর ফেব্রুয়ারি মাসেই এসএসসি অংকের প্রশ্নপত্র দিয়ে দেয়া হয়েছে।

তিনি কৌতুক স্বরে বলেন, লোশন কিলেন সাবান ফ্রি। আর শ্যাম্পু কিনলে চিড়ুনি ফ্রি। বুধবার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনিত বক্তব্যে সুনামগঞ্জ-৪ আসনের জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ এসব কথা বলেন।

ভাষার মাস ফেব্রুয়ারিতে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ও বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকায় দীর্ঘদিনের দাবি একটি শুল্ক স্টেশন প্রতিষ্ঠার। এছাড়া নদী ভাঙন রোধে পানিসম্পদ মন্ত্রী কার্যকর ভূমিকা পালনের দাবি জানান। এছাড়া রেল লাইন ও বিভিন্ন সেতু নির্মাণ ও মেরামতের জন্য সেতুমন্ত্রী ও রেল মন্ত্রীরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

পদ্মা সেতু দুর্নীতি অভিযোগ থেকে কানাডার আদালত থেকে অব্যাহতি পাওয়ার প্রসঙ্গে টেনে তিনি আরো বলেন, ফেব্রুয়ারি মাসে আবারো বলতে চাই-একুশ মানে মাথা নোয়াবার নয়। বাঙালি জাতি প্রমাণ করেছে সেটা। আইনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, কানাডার আদালতের মামলার কারণে এদেশের সচিবকে জেলে যেতে হয়নি। কিন্তু যারা মামলা করেছিল তাদের বিরুদ্ধে এখন কেন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। এমন প্রশ্নও রাখেন মিসবাহ।

পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ আরো বলেন, দেশ এখন পৃথিবীর বুকে উন্নয়নের রোড মডেল, উন্নয়নের মহাসড়কে উঠলেও বেকারত্ব সমাধানে উদ্যোগ নেই। হতাশ হয়ে শিক্ষিত তরুণরা বিপদগামী, ইয়াবা, মাদকাসক্ত হচ্ছে। তরুণ সমাজকে ইয়াবা ধ্বংস করে দিচ্ছে। সাড়ে ৫ লাখ শিশু মাদকাসক্ত। এমন তথ্য সরকারদলীয় একজন সংসদ সদস্যই দিয়েছেন। কিন্তু মাদক ব্যবসায়ার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তেমন কোনো শক্তিশালী ব্যবস্থা চোখে পড়েনি।

নিজ এলাকার প্রবাসীদের বিষয়ে পীর মিসবাহ বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকায় অনেকেই প্রবাসী। মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশের সব উন্নয়নে নিরন্তর কাজ করছেন প্রবাসীরা। কিন্তু নতুন নাগরিকত্ব আইনের কারণে আতকেংর মধ্যে আছেন প্রবাসীরা। নতুন নাগরিকত্ব আইন হলে প্রবাসীরা তাদের সম্পদের অধিকার হারাবেন। নাড়ীর সম্পর্ককে বিচ্ছেদ ঘটবে।

তিনি আরো বলেন, কৃষিতে ভর্তিুকি দেয়া হলেও প্রান্তিক কৃষকরা তার সুফল পাচ্ছেন কিনা সেটা দেখতে হবে। চীনকে হটিয়ে বাংলাদেশ একবার পোশাক রপ্তানিতে প্রথম হয়েছিল। কিন্তু তাজরীনে দেড়শ ও রানা প্লাজায় ১২ শ শ্রমিকের মৃত্যু ধাক্কা খেয়েছে পোশাক খাত। কিন্তু পোশাক মালিকরা সবচে বেশি ঋণ খেলাপি। এ ঋণের ১৬.২ শতাংশ পোশাক মালিকদের। ব্যাংকিং খাতে কোনো যাচাই বাছাই না করে ঋণ দেয়া হচ্ছে। এগুলো বন্ধ করতে হবে। এছাড়া শেয়ারবাজার নিয়ে অর্থমন্ত্রী যা বলছেন তা ভেবে চিন্তে বলা উচিত। কারণ বাজারে আবারো ধ্বস নামলে তিনি বলবেন ফটকা বাজার, রাবিশ কিন্তু যারা পুঁজি হারাবেন তাদের স্বার্থ রক্ষায় কিছুই করবেন না।

পুর্বপশ্চিম

Leave a Reply