ইউএনও’র নেতৃত্বে জাল ভোট !

এবার ভোটকেন্দ্রে জালভোটের নেতৃত্ব দিলেন কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা খোদ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। ভোট দিতে না পেরে দলে দলে ভোটকেন্দ্র থেকে ফেরত যাচ্ছিলেন ভোটারেরা। প্রিসাইডিং অফিসারের কাছে অভিযোগ করেও মিলছিল না কোন প্রতিকার। প্রিসাইডিং অফিসারের কক্ষে প্রিসাইডিং অফিসার আবুল কালাম আজাদ উল্টো ধমক দিচ্ছিলেন তাদের। পাশে বসা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হোসেনপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুনও ছিলেন নির্বিকার।

ভোটের দিন সোমবার সকাল ১১টায় পাকুন্দিয়া পৌরসভার লক্ষীয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে এমন চিত্রই দেখা গেছে। অভিযোগকারী ভোটারদের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে প্রিসাইডিং অফিসারকে নিয়ে ভোটকক্ষে ঢুকে পাওয়া গেছে আরো ভয়াবহ চিত্র। কেন্দ্রের ভেতরে তখনো চলছিল জাল ভোটের মহোৎসব। ব্যাপক জাল ভোটের কারণেও ভোটগ্রহণের গতিও ছিল অবিশ্বাস্য। ভোট শুরু হওয়ার প্রথম তিন ঘন্টাতেই কেন্দ্রটিতে অর্ধেকের বেশি ভোট পড়ে অর্থাৎ ২ হাজার ৬১৪ ভোটের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৪শ’ ভোট গ্রহণ করা হয়ে যায়। কিন্তু ভোটকেন্দ্রের অভ্যন্তরে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে ফাঁকা হয়ে যায় প্রতিটি বুথই। বাইরে তখনো বেশ কয়েকটি লম্বা লাইন। এমন সময়ে একটি কক্ষে ভোট দিতে ঢুকেন টানলক্ষীয়া গ্রামের আনোয়ারা বেগম। কিন্তু কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার তাকে জানালেন, তার ভোট দেয়া হয়ে গেছে। বিষয়টি জেনে সেখানেই রাখা ভোটের বাক্সের কাছে বসে পড়েন পঞ্চাশোর্ধ ওই নারী। তিনি এই প্রতিবদককে জানালেন, সকাল ৮টার সময় ভোট দিতা আইছলাম। হগলের আগে আছলাম। তিন ঘন্টা ধইরা কারইয়া রইছি। আমারে ভোট দেঅনের লাগি দিছে না। অহন কয়, আমার ভোট নাহি অন্য কেউ দিয়া গেছে গা।

একই রকম ভাবে ভোটকেন্দ্রে আসা মীরপাড়া গ্রামের সাদ্দাম হোসেন বলেন, জীবনের পইল্যা ভোট দিতা আইছলাম। আইয়্যা দেহি, আমার ভোট দেওআ অইছে গেছে। প্রিসাইডিং অফিসারকে কইছি, তিনটার সময় আয়া ভোট দেঅনের কথা কইছে। ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে বিচার দিলে তিনি আমারে ধমকাইয়া দিছেন। সাংবাদিকদের কাছে এমন একের পর এক অভিযোগের মুখে প্রিসাইডিং অফিসার আবুল কালাম আজাদ ভোটকক্ষটি থেকে সটকে পড়েন। এর মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই ভোটকক্ষটিতে আসেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হোসেনপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি কর্তব্যরত এক সাংবাদিককে ভোটকক্ষ থেকে বেরিয়ে আসতে বলেন। এ সময় তাকে কেন্দ্রে জাল ভোটের বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি ক্ষিপ্ত হন। ‘জাল ভোট দেখার দায়িত্ব পোলিং এজেন্টদের, আমার নয়’ বলে সাংবাদিকদের ভোটকক্ষের ভেতরে যেতে বারণ করেন। ভোটাররা ভোট দিতে পারেন নি এমন অভিযোগ পাওয়ার পরও কোন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না কেন জানতে চাইলে তিনি আরো ক্ষিপ্ত হন। এ সময় ইউএনও আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘কেন্দ্রে জাল ভোট হচ্ছে তো কি হচ্ছে। আপনারা যা ইচ্ছে তা লিখতে পারেন।’ এ সময় তিনি নির্বাচনে পেশাগত দায়িত্বপালনকারী বেশ কয়েকজন সাংবাদিকদের সঙ্গে অসদাচরণও করেন। বিষয়টি রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মুঞ্জুরুল আলমের নজরে আনলে তিনি বলেন, এমন তো হওয়ার কথা নয়। আমি খোঁজখবর নিয়ে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।

সাংবাদিকদের সঙ্গে অসদাচরণের ব্যাপারে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আজিমুদ্দিন বিশ্বাস বলেন, যেকোন নির্বাচনে সাংবাদিকদের যে কাজ, আমাদেরও সেই একই কাজ। নির্বাচনে কোন সাংবাদিককে দায়িত্ব পালনে তিনি বাধা দিতে পারেন না। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

manabzamin

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।