ছাত্রদলে নতুন নেতৃত্ব, ৬ নেতার নাম তারেকের হাতে

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভ্যানগার্ড হিসেবে পরিচিত ছাত্র সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ১৪ অক্টোবর। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সবচে বড় কমিটি দিয়েও সাবেক রাষ্ট্রপতি ও দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে না পারার মতো ব্যর্থতা নিয়ে মেয়াদ শেষ করলো রাজিব-আকরামুল কমিটি।

বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের মধ্যে মহিলা দলসহ সেচ্ছাসেবক দলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। যুবদলের কমিটিও প্রস্তুত রয়েছে। এরপরই ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা হতে পারে এমন আভাস পাওয়া গেছে দলটির হাইকমান্ড সূত্রে।
সূত্র জানায়, ছাত্রদলের নেতৃত্বে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ছাত্রদলের বিগত দিনের কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করা ৬ নেতার নাম এরই মধ্যে লন্ডনে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। ওই তালিকা থেকেই বাছাই করা হবে পরবর্তী নেতৃত্ব।

কয়েকমাস আগেই লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমান দলের একসময়ের মূল চালিকাশক্তি ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের জন্য বিএনপি চেয়ারপারসনকে পরামর্শ দিয়েছিলেন। অধিকতর তরুণ এবং দলের জন্য নিবেদিতদের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখার জন্য একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি পরামর্শও দিয়েছিলেন তিনি। সম্প্রতি তালিকাটি তৈরি করে লন্ডনে পাঠানো হয়েছে

বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। ওই তালিকাতে রয়েছেন- বর্তমান কমিটির দুইজন সহ-সভাপতি, বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক, দুইজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং একজন মহানগরের নেতা।

বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ের একটি সূত্র পূর্বপশ্চিমকে জানিয়েছে, বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক আকরাম উল ইসলাম, সিনিয়র সহ-সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন, সহ-সভাপতি আজমল হোসেন পাইলট, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বায়েজিদ আরেফিন, মেহেবুব মাসুম শান্ত এবং ঢাকা কলেজের সাবেক সভাপতি কাজী মাসুদের নাম পাঠানো হয়েছে লন্ডনে তারেক রহমানের কাছে।

বিএনপির স্থয়ী কমিটির এক সদস্য পূর্বপশ্চিমকে বলেন, আন্দোলন- সংগ্রামে চরমভাবে ব্যর্থ হওয়ায় ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির ওপর নাখোশ অনেকেই। দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান সরাসরি তিরস্কার করে নতুন নেতা বাছাইয়ের কথা বলেছেন। ঢাকার বাইরে ছাত্রদলের কোন কার্যক্রম না থাকায় এবং গত দুই বছরে একবারের জন্যও সাধারণ সভা করতে না পারায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এদিকে, বর্তমান কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আকরাম উল হাসান পরবর্তী কমিটিতে সভাপতি হতে জোর লবিং শুরু করেছেন। ১৯৯৫ সালে এস এস সি পাস করা এ ছাত্র নেতার বাড়ি নরসিংদীতে। আঞ্চলিকতার কারণে এগিয়ে থাকলেও বর্তমান কমিটির ব্যর্থতায় দায়ের কারণে হাইকমান্ড নিজেদের মতো করে ভাবছে। কারণ তিনি আন্দোলন সংগ্রামের সময় আত্মগোপনে ছিলেন এবং ভাইভার কেন্দ্রিক রাজনীতিতে ব্যস্ত সময় পার করেন। এত আন্দোলন সংগ্রামে তিনি একবারও গ্রেপ্তার হননি। এনিয়েও দলের মধ্যে আকরাম উল হাসানকে নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। তার বিয়ে নিয়েও একটি গুঞ্জন রয়েছে।

বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন। ১৯৯৪ সালে এসএসসি পাস করা এ ছাত্রনেতার বর্তমান বয়স ৩৮ ছাড়িয়েছে। বিয়ে নিয়ে লুকোচুরি করা এ ছাত্রনেতার বাড়ি নোয়াখালীতে। আঞ্চলিক প্রভাবশালী কয়েকজন নেতাদের কারণে বারবার পিছিয়ে পড়লে আগামী কমিটিতে সভাপতি পদে তাকে নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে দলের মধ্যে।

সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আজমল হোসেন পাইলটের বাড়ি নেত্রকোনায় এ ছাত্রনেতা এসএসসি পাস করেছেন ১৯৯৫ সালে। ৩৭ পেরুনো এই ছাত্রনেতা ২ সন্তানের জনক। আন্দোলনের সময় পালিয়ে বেড়িয়েছেন। তবে বর্তমানে প্রেসক্লাব এবং পার্টি অফিসকেন্দ্রিক তৎপরতা বেড়েছে। তিনি আলোচনায় আছেন সভাপতি পদের জন্য।
বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বায়েজিদ আরেফিনের বাড়ি নরসিংদীতে। সাবেক ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েলের ঘনিষ্ঠ লোক। এ নেতার বর্তমান বয়স ৩৫। আন্দোলন সংগ্রামে বেশ জোরালো ভূমিকার কারণে দলের হাইকমান্ডের সুনজরে রয়েছেন।

এছাড়া যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছাত্রনেতা মেহেবুব মাসুম শান্ত এসএসসি পাস করেন ১৯৯৮ সালে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি করার সময় থেকেই রাজপথে সক্রিয়। এখনো ছাত্রদলের প্রায় সব মিছিলেই তাকে পাওয়া যায়। এমনকি প্রকাশ্য দিবালোকে মিছিল করার সাহস দেখিয়ে বাহবা কুড়িয়েছেন।

ঢাকা কলেজের সাবেক সভাপতি কাজী মাসুদও ছাত্রদলের আগামী কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসতে পারেন। দলীয় কর্মকান্ডে তিনি বেশ সক্রিয় রয়েছেন।

পূর্বপশ্চিম

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।