কেন্দ্রীয় উপকমিটি: নেতাদের দৌড়ঝাঁপ

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির পালা শেষ, এবার শুরু হয়েছে উপ-কমিটির পদ প্রত্যাশীদের গ্রুপিং-লবিং ও দৌড়ঝাঁপ।

২০তম জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে এ কমিটির পদ সংখ্যা ৪৬৭ থেকে কমিয়ে একশত পদে আনার অঙ্গীকার করেছেন দলের নীতি-নির্ধারকরা। তবে পদসংখ্যা কমলেও বর্তমান কমিটির পদধারীরা এবং ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা ছুটে চলছেন দলটির শীর্ষ নেতাদের দ্বারে।

বর্তমান উপকমিটিতে সহ-সম্পাদকের প্রায় পাঁচশ পদ রয়েছে। তবে দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গঠনতন্ত্র মেনে একশ’র মধ্যে রাখা হবে বলে জানিয়েছেন দলের যুগ্ম-সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ।

জানতে চাইলে হানিফ বলেন, এটা আমাদের আগেরই সিদ্ধান্ত। গঠনতন্ত্রনুযায়ী সহ-সম্পাদক করা হবে। আর সেটা একশ’র মধ্যে রাখা হবে।
অন্যদিকে, সম্মেলনের তারিখ ঘোষণার পর থেকেই উপকমিটির সহ-সম্পাদকসহ ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা লবিংয়ের জন্য সমানতালে দৌড়ে বেড়াচ্ছেন দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে।

এ বিষয়ে, দলের দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ জানান, দপ্তর সেলের তথ্যানুযায়ী বর্তমানে উপ-কমিটির সহ-সম্পাদকের সংখ্যা ৪৬৭ জন। তবে, এর বাইরে আর কত জন আছে আমার জানা নেই।

গত মাসের শেষের দিকে সম্মেলন উপলক্ষে দপ্তর উপ-পরিষদের এক প্রস্তুতি সভায় ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক একশর মধ্য রাখা হবে।

এ বিষয়ে দলের কয়েক জনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেশিরভাগ নেতাই সহ-সম্পাদকের পদ ধরে রাখতে চেষ্টা করে যাচ্ছে। এ ছাড়া ছাত্রলীগের ত্যাগী নেতারাও সহ-সম্পাদক পদে নিজের নাম লেখাতে কেন্দ্রীয় কমিটির বিভিন্ন সভা-সেমিনারে উপস্থিত থেকে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন।

ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতা বলেন, যারা দীর্ঘ দিন যাবৎ দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন এ ধরনের নেতা উপকমিটিতে আসলে দল আরো এগিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, যোগ্যতা, মেধা, পরিশ্রম, বিশ্বস্ততা এবং আনুগত্যের ভিত্তিতে নেতাদের মূল্যায়ন করা হোক, আমরা সেটাই চাই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপকমিটির এক নেতা বলেন, শেষ পর্যন্ত আমি আর পদ না পেলেও দলের জন্য কাজ করে যাব।

২০১২ সালে দলের সর্বশেষ কাউন্সিলে ঘোষিত কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে উপকমিটির নেতাদের নাম ঘোষণা করা হয়। সে সময়ে এ কমিটির সহ-সম্পাদক হিসেবে ৬৬ জনের নাম এসেছিল। এরপর কয়েক ধাপে সংখ্যা বাড়িয়ে ৪৬৭ জন করা হয়।

কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির ছাত্রলীগ নেতাদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে রয়েছেন, নজরুল ইসলাম বাবু, ব্যারিস্টার সাজ্জাদ হোসেন, আবুল কালাম আজাদ, এ এইচ এম মাসুদ দুলাল।
চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে রয়েছেন, মাইনুদ্দিন হাসান চৌধুরী, শাহজাদা মহিউদ্দিন, ইস্কান্দার মির্জা শামীম, মাহফুজুল হায়দার রোটন, সালাউদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী, জহির উদ্দিন মুহাম্মদ লিপটন।

বরিশাল বিভাগ থেকে রয়েছেন, ইসহাক আলী খান পান্না, শাহ আলম, একে এম আজম ও বলরাম পোদ্দার।

খুলনা বিভাগ থেকে রয়েছেন, সাইফুজ্জামান শিখর, বরুন বিশ্বাস, বদিউজ্জামান সোহাগ।

রংপুর বিভাগ থেকে রয়েছেন, ইকবালুর রহিম ও মাহমুদুল হাসান রিপন।

রাজশাহী বিভাগ থেকে রয়েছেন, শাখাওয়াত হোসেন শফিক, মাজহারুল ইসলাম, আরিফুজ্জামান টুটুল ও আ.খ.ম হাসান কবির আরিফ।

এছাড়া, ফরিদপুর জেলা থেকে রয়েছেন, বাহাদুর বেপারী ও লিয়াকত শিকদার। ময়মনসিংহ জেলায়, অজয় কর খোকন, মাহবুবুল হক শাকিল, মোরশেদুজ্জামান সেলিম, আলমগীর হাসান ও রাশেদুল মাহমুদ রাসেল।

এসব ছাত্রলীগের সাবেক নেতার বাইরে কমপক্ষে সহস্রাধিক পদ-প্রত্যাশী নেতাকর্মী প্রতিদিন দলীয় প্রধানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সময় দিচ্ছেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।