হঠাৎ কাদের-ফখরুলের ‘সিলেট মিশন’, নানা গুঞ্জন

আওয়ামী লীগের সদ্য সমাপ্ত জাতীয় কাউন্সিলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে। নির্বাচনমুখী কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েই প্রথম জেলা সফরের অংশ হিসেবে সিলেট আসছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আগামী ৯ নভেম্বর নগরীর ঐতিহাসিক রেজিস্ট্রারি মাঠে দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ঠাঁই পাওয়া সিলেট বিভাগের নেতাদের পাশাপাশি সাধারণ সম্পাদককেও সংবর্ধনা দেবে সিলেট আওয়ামী লীগ। এদিকে সরকারি দলের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতার চারদিন আগে মাঠের বিরোধী দল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ শনিবার সিলেট সফরে আসছেন। ৭ নভেম্বর ‘বিপ্লব ও সংহতি দিবস’কে সামনে রেখে একটি আলোচনা সভায় যোগ দেবেন তিনি। পাশাপাশি তিনি সিলেট বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন। বড় দুই দলের শীর্ষ নেতাদের আসন্ন সফরকে সামনে রেখে তৃণমূলে চাঙ্গাভাব দেখা যাচ্ছে। শীর্ষ নেতাদের এই ‘সিলেট মিশন’ অনেকখানি নির্বাচনমুখী বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই বছরেরও বেশি সময় বাকি থাকলেও ওবায়দুল কাদের ও মির্জা ফখরুলের সফর নিয়ে উভয় দলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। এর আগে গত ১ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে সিলেট থেকে ‘নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু’ করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এ অবস্থায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ নেতাদের আসন্ন সফরকে নির্বাচনের আগের ‘ওয়ার্মআপ’ বলে মনে করছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। নির্বাচন এলেই বড় দলের বড় নেতারা প্রথমে সিলেটে ছুটে আসেন; এখানে দুটি মাজার জিয়ারত করেন। এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের সংবর্ধনার আড়ালে সিলেট আওয়ামী লীগ দলের শক্তি প্রদর্শন করতে চাইছে। অন্যদিকে সামাজিক একটি সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসছেন মির্জা ফখরুল। এই অনুষ্ঠানের নেপথ্যে আগামী নির্বাচনের প্রার্থিতার বিষয়টি রয়েছে বলে বিএনপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন। যদিও আওয়ামী লীগ ও বিএনপির স্থানীয় শীর্ষ নেতারা নির্বাচনের বিষয়টি স্বীকার করতে রাজি হননি।

সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ সমকালকে বলেন, দলের মহাসচিব শনিবার সিলেট আসবেন। এদিন বিকেলে নগরীর পাঠানটুলায় একটি কমিউনিটি সেন্টারে তিনি ৭ নভেম্বর ‘বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করবেন। খন্দকার আবদুল মালিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। মর্যাদাপূর্ণ সিলেট-১ (সদর) আসনের সাবেক এমপি খন্দকার আবদুল মালিকের ছেলে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এই আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি বিএনপির মনোনয়ন পেতে আগ্রহী ছিলেন। পরে বিএনপি নির্বাচন বর্জন করায় তিনিও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি।

ওই আলোচনা সভা শেষে রাতে বিএনপি মহাসচিবের সিলেট জেলা ও মহানগরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করার কথা রয়েছে। এই সময় আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে বলে মনে করছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। বিএনপির মতো আওয়ামী লীগের নেতারাও নির্বাচনের বিষয়টি এখনই সামনে আনতে চাইছেন না। সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী সমকালকে বলেন, কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সিলেট বিভাগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সংবর্ধনা দিতেই ৯ নভেম্বর এই আয়োজন। তবে আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাসী বলে সব সময়ই নির্বাচনের প্রস্তুতি চলে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সমকাল

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।